বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যু ১৫০০ ছাড়াল ॥ শনাক্ত ৭৭২

খুলনা অফিস : খুলনা বিভাগে করোনাভাইরাসের গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে শনাক্ত হয়েছে ৭৭২ জনের। এর আগে শুক্রবার (৯ জুলাই) বিভাগে সর্বোচ্চ ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সব মিলিয়ে বিভাগে এখন মোট মৃত্যু দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। খুলনা বিভাগে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে । অদৃশ্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। দেশে দৈনিক মৃত্যু ও সংক্রমণের হারে ঢাকাকে টপকে এখন শীর্ষ স্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ। ধারণক্ষমতার বাইরে রোগী ভর্তি হচ্ছে। অনেকে হাসপাতালে ঘুরে ঘুরেও পাচ্ছেন না চিকিৎসাসেবা। প্রতিনিয়ত খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যুর মিছিল যে হারে বাড়ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সর্বমহল। অসচেতনতা এবং সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় করোনার ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে। এ ছাড়া একবারে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে উপস্থিতি, পাকস্থলির কার্যকারিতা ক্ষীণ নিয়ে ভর্তি, হাসপাতালে জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম স্বল্পতা, অক্সিজেন সংকট, সতকর্তার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের উদাসীনতা ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না করায় মৃত্যুর সংখ্যা পারদের মতো উঠানামা করছে। এমনটাই জানিয়েছেন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসক ও নার্সদের পাওয়া যায় না। রয়েছে অক্সিজেনেরও সংকট।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে কুষ্টিয়া জেলায়। বাকিদের মধ্যে খুলনায় ১০ জন, যশোরে ১০ জন, ঝিনাইদহে ৪ জন, মেহেরপুরে ও নড়াইলে দু’জন করে মারা গেছেন।
খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৬৯ হাজার ৯৫৯ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৫৩৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ হাজার ২৫২ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬১ জনের। এ পর্যন্ত জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৩৫৫ জনের। মারা গেছেন ৪০২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৪৬৬ জন।
এদিকে শুক্রবার (০৯ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (১০জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় খুলনার চারটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনায় ৭ জন এবং উপসর্গ নিয়ে তিনজন মারা গেছেন। খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৬ জন, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন ও জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনায় ৩ জন ও উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় তারা হলেন-খুলনার ফুলতলার শামসুর রহমান (৫০), বাগেরহাটের মিঠা পুকুর পাড় এলাকার রওশন আরা (৬৫) ও নড়াইলের লোহাগড়ার মো. মুজিবর রহমান (৬৫)। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে তিনজন মারা গেছেন। হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৮ জন। যার মধ্যে রেডজোনে ১১৫ জন, ইয়ালোজোনে ৩৩ জন, আইসিইউতে ২০ জন এবং এইচডিইউতে ২০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এশিয়া ২৫ জন।
খুলনার বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘন্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন-খুলনার পাইকগাছার গোপালপুরের আহম্মদ আলী গোলদার (৭৫), দাকোপের পানখালীর মোহাম্মদ আলী (৯০) ও চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদার পুরাপাড়ার অনন্ত কুমার বিশ্বাস (৪০)। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৩০ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ৭ জন ও এইচডিইউতে আছেন ১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২১ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ জন।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি এলাকার মো. হাসানুজ্জামান (৭০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৬ জন। তার মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ ও ৩৯ জন নারী। গত ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ জন।
খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের ভর্তি রয়েছেন ৪৪ জন রোগী। যার মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ১০ জন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন পাঁচজন ও বাড়ি ফিরেছেন চারজন।
এদিকে প্রতিনিয়ত খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যুর মিছিল যে হারে বাড়ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত সর্বমহল। কেউ বলছেন একবারে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে উপস্থিতি, পাকস্থলির কার্যকারিতা ক্ষীণ নিয়ে ভর্তি, অক্সিজেন সংকট, সতকর্তার ক্ষেত্রে উদাসীনতা ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন না করায় মৃত্যুর সংখ্যা পারদের মতো ওঠানামা করছে।
প্রিয়জন হারানোর কষ্টে ভেসে আসা কান্নার শব্দে প্রতিনিয়ত ভারি হয়ে উঠছে খুলনা বিভাগের হাসপাতালগুলো। প্রতিনিয়ত মৃত্যুর দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন পাশের শয্যায় চিকিৎসা নেয়া অপর রোগীরা। শোকে স্তব্ধ তারা। কোনো হাসপাতালে শয্যা খালি নেই, অক্সিজেন সংকট, আইসিইউ শয্যার অমিল। খুলনা মেডিকেলের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১৩০ বেড, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের ৭০ বেড, বেসরকারি গাজী মেডিকেল হাসপাতালে ১৫০ বেড ও শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ৪৫ বেড মিলিয়ে ৩৯৫ বেডে করোনারোগীরা সেবা নিচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ