বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

করোনার ভয়াবহতার মধ্যেও ঢাকার বুকে বসছে ২১ পশুর হাট

তোফাজ্জল হোসাইন কামাল : সরকারি দর পেতে পরপর তিনবার দরপত্র আহবান। তারপরও প্রত্যাশিত দর পাওয়া যায়নি। অগত্যা বাধ্য হয়েই তিনটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বাতিল করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ফলে এবার বিভক্ত ঢাকার এই অংশে অস্থায়ী পশুর হাট বসবে ১০টি। আর ঢাকার উত্তরে বসবে একটি স্থায়ী হাটসহ ১০টি। সব মিলে এবারকার ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঢাকার বুকে ২১টি কুরবানির পশুর হাট বসছে। তারমধ্যে স্থায়ী হাট দুটি। করোনার ভয়াবহতার মধ্যেও রাজধানীতে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্তে এখনও অটল রয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। যার কারণে হাট বসানোর জন্য সব রকম প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে তারা। ঈদ এর দিনসহ মোট পাঁচদিন বসবে এই হাটগুলো। মহামারির এমন সময়ে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর ক্ষেত্রে বিকল্প চিন্তা করার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।
সারুলিয়ায় স্থায়ী হাটসহ মোট এগারোটি হাট বসানো চূড়ান্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। চূড়ান্ত হওয়া হাটগুলোর মধ্যে দশটি হলো অস্থায়ী হাট। এগুলো হলো উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও বাজার এর মৈত্রী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ইনস্টিটিউট অফ লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধূপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, আফতাবনগর (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক ই, এফ, জি, এইচ, সেকশন ১ ও ২ এর খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ ক্লাবের আশপাশের খালি জায়গা এবং গোলাপবাগ ডিএসসিসি মার্কেটের পেছনের খালি জায়গা। এ ছাড়া সারুলিয়ায় ডিএসসিসির স্থায়ী হাটটিও যথারীতি বসবে।
ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, 'আমরা মোট এগারোটি পশুর হাট বসানোর সকল কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছি। হাট ব্যবস্থাপনার জন্য মনিটরিং কমিটিও করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত যে নির্দেশনা দেয়া হবে, সে অনুযায়ী হাট পরিচালনা করা হবে।'
রাসেল সাবরিন জানান, ডিএসসিসিতে ১৩টি অস্থায়ী হাট বসার কথা থাকলেও সরকারি দর না পাওয়ায় শ্যামপুর, কমলাপুর এবং আমুলিয়া এই তিনটি অস্থায়ী হাট বাতিল করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ডিএসসিসিতে তিনটি হাট কমছে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, ইজারা সম্পন্ন করা ১০টি অস্থায়ী পশুর হাটের সরকারি ইজারা মূল্য ছিল ১১ কোটি ৬২ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৯ টাকা। তিন দফায় দরপত্রের মাধ্যমে সেসব হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে ১৪ কোটি ৪৭ লাখ ৩ হাজার ৪৫৬ টাকায়। বাতিল করা তিনটি হাটের সরকারি ইজারা মূল্য ছিল ৪ কোটি ২৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৩ টাকা।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় তিন পশুর হাট বাতিল করেছে সংস্থাটি। বাতিল করা পশুর হাট তিনটি হলো, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব সংলগ্ন খালি জায়গা ও কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউন এর আশপাশের খালি জায়গা এবং শ্যামপুর কদমতলী বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন খালি জায়গা।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ করপোরেশন এলাকায় ১৩টি অস্থায়ী পশুর হাটের ৩ পর্যায় দরপত্রের আহবান জানিয়ে ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের দরপত্র শেষে ১০টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রদান করা হয়। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় তৃতীয় পর্যায়ের দরপত্র শেষে আর কোন পশুর হাট ইজারা না দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ঈদ-উল-আযহা'র দিনসহ মোট ৫ দিন এসব হাটে পশু কেনা-বেঁচা করা যাবে। হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনসহ অন্যান্য শর্তাবলী সাপেক্ষে অস্থায়ী ১০ পশুর হাট ইজারাপ্রাপ্তদের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
উত্তর সিটিতে গাবতলি পশুর হাটসহ অস্থায়ী আরও নয়টি পশুর হাট বসছে। এগুলো হলো উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন হতে উত্তর দিকে বিজিএসইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, ভাটারা পশুর হাট, কাওলা শিয়াল ডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরখান মৈনারটেক শহীদনগর হাউজিং প্রকল্পের খালি জায়গা, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং ব্লক-ই, সেকশন ৩ এর খালি জায়গা, মিরপুর-৬ ইস্টার্ন হাউজিং এর খালি জায়গা, উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের ও ২ নম্বর ব্রিজের পাশে সড়কের খালি জায়গা, বছিলার ৪০ ফুট কাঁচা রাস্তা সংলগ্ন রাজধানী ও স্বপ্নধারা হাউজিং ও বছিলা গার্ডেন সিটি এর খালি জায়গা এবং ডিএনসিসির ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন ৩০০ ফুট সড়ক সংলগ্ন উত্তর পার্শ্বে সালাম স্টিল লিমিটেড ও যমুনা হাউজিং কোম্পানি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন খালি জায়গা।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, হাট বসানোর জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। গাবতলির স্থায়ী পশুর হাটসহ উত্তর সিটিতে মোট দশটি হাট বসবে। তবে যদি করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়, সে ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে হাট বসবে কি বসবে না।
এদিকে কুরবানিতে পশুর হাট বসানো নিয়ে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শহরের ভেতরে পশুর হাট বসলে সংক্রমণের হার আরও বহুগুণে বেড়ে যাবে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে রাজধানীতে পশুর হাট বসানো সিটি করপোরেশনের একটি অবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্ত। যে হারে করোনায় মানুষের মৃত্যু হচ্ছে তাতে কোনোভাবেই শহরের মধ্যে পশুর হাট বসানো ঠিক হবে না। যদি হাট বসাতেই হয়, সে ক্ষেত্রে শহরের বাইরে খালি জায়গায় বসানোর চিন্তা করা যেতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ