শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

দেড় বছর পর গতি পেতে যাচ্ছে দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রকল্প

মিয়া হোসেন : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশে একযোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক হাজার ১০টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসা। মাদরাসাগুলো একটি প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ২০১৯ইং সালের ডিসেম্বরেই শেষ হয়ে যায় প্রকল্পের মেয়াদ। তারপর থেকে গত দেড় বছর যাবত দুই হাজার ২০ জন শিক্ষকের বেতন-ভাতা নেই। নেই কোনো নির্দেশনাও। অবশেষে অনেক চেষ্টা তদবিরের পর গতি পেতে যাচ্ছে এ মাদরাসাগুলো। আগামী ৫ বছরের জন্য এ প্রকল্পে ৫০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং আগামী আগস্ট থেকে প্রকল্পটি আগের মতো শুরু করা সম্ভব হবে বলে ধর্ম মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রকল্পের তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক অভিপ্রায় ও দিক-নির্দেশনায় প্রকৃত ইসলামি চেতনার মর্মালোকে আরবি ধারায় একটি দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশে একযোগে এক হাজার ১০টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাপ্রসূত এক মহতী উদ্যোগের ফসল। এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা, মর্মবাণী ও চেতনার প্রচার-প্রসার এবং আরবি ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়। কোনো সরকারপ্রধানের উদ্যোগে একসঙ্গে এক হাজার ১০টি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার ঘটনাও ইতিহাসে বিরল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প’-এর আওতায় যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, সেখানে দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসা স্থাপন করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন পাঁচ হাজারের বেশি উচ্চশিক্ষিত আলেম-ওলামার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি লক্ষাধিক শিশু আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ২৭২ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার আলেমের কর্মসংস্থানের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত নিয়োগ পেয়েছেন দুই হাজার ২০ জন। যারা ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন পেয়েছেন। গত দেড় বছর ধরে তাদের বেতন-বোনাস কিছুই হচ্ছে না। সারা দেশের মাদরাসাগুলোও বন্ধ। শিক্ষকরা হতাশা নিয়ে মাঝে মাঝে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে গেলেও আশাব্যঞ্জক কোনো জবাব পাননি।
এ বিষয়ে প্রকল্পের শিক্ষক ও দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের বক্তব্য হলো, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আমাদের প্রকল্প শেষ হয়। এরপর আর প্রকল্প পাস হয়নি। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে আমরা বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। তবে প্রতিষ্ঠান চালিয়ে নিচ্ছি। গত বছরের ১৬ মার্চে করোনার ছুটির পর থেকে এখনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এরমধ্যে আমরা নানা সময়ে এমপি-মন্ত্রী ও অফিসারদের সঙ্গে দেখা করেছি। শুধুমাত্র ধর্মপ্রতিমন্ত্রী বলেছেন- সময় লাগলেও আপনাদের প্রকল্পটা হবে। আর কেউই এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। বরং অনেকে এটাকে রাজনৈতিক প্রকল্প, আর হবে না কি-না! এ রকম নানা সন্দেহমূলক কথা বলছেন।
এ বিষয়ে ইফা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে এ প্রকল্প নিয়ে কাজের অগ্রগতি হয়েছে। মাদরাসা বোর্ডের মতামতসহ প্রয়োজনীয় সারসংক্ষেপ তৈরী করে অফিসিয়াল প্রসেসে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আগামী ৫ বছরের জন্য ৫০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কাজ সমাপ্ত হলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় হলেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে বলে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের বক্তব্য হলো, প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল। তারা কোনো বেতন-ভাতা পায়নি। কারণ হলো- তাদের নিয়োগ বিধি-বিধান মোতাবেক হয়নি। পরে আমরা প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হই। উনি বিষয়টি ক্লিয়ার করে দিয়েছেন। তিনি আগামী ৫ বছরের জন্য এ প্রকল্পে ৫০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। আশা করছি- আগস্ট মাসের মধ্যে আমরা আবার শুরু করতে পারব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ