বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

জীবনঘুড়ির  আকাশ দেখা

 

সাজজাদ হোসাইন খানঃ

॥ ছেচল্লিশ ॥

ইন্দ্রপুরী নামের একটি পুকুর ছিলো। শানবাঁধানো ঘাট। শান্তিবাগের সীমা পার হলেই ইন্দ্রপুরী। গোসল করতে যেতাম সেখানে। দল বেঁধে। কাকচোখ পানি ইন্দ্রপুরীর। পানি তোলপাড় করে সাঁতার কাটতাম। কতবার যে পুব-পশ্চিম করতাম কার হিসাব কে রাখে। যখন ঘাটলায় উঠতাম সবার চোখ ডুবন্ত সুুরুজ। ঘাটলার খুব কাছাকাছি একটি ঘর। নকশাদার। নজর পড়লেই বোঝা যায় এ বাড়িটিতে যারা বাস করতো তারা পয়সাওয়ালা সৌখিন। ফুরফুরে মেজাজের। চারদিক গাছে গাছে ছাওয়া। আশপাশে তেমন কোনো ঘরবাড়ি নেই। ঘাসে ঘাসে ভরপুর। এক সময় বাগান ছিলো। ঘরটরও ছিলো হয়তো। দু’একটি ফুলগাছ এখানে সেখানে। বাড়িটি অযতেœ থাকলেও জৌলুস কমেনি। কারা যেন বাস করে এ ঘরে। ইন্দ্রপুরী টানতো বারবার। এখনো উঁকি দেয় মনে। হঠাৎ হঠাৎ। কে যেনো বলেছিলো ইন্দ্রপুরী গুলবাগঘেঁষা পুকুর। স্বপ্নভেজা সময়গুলো যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। এগিয়ে আসছে স্কুল, ক্লাস, পরীক্ষার হিসাবনিকাশ। 

মনওয়ার আমার জানি দোস্ত, শান্তিবাগে। তাকে নিয়েই গেলাম স্কুলে একদিন। খবর টবর যদি কিছু ধরা যায়। স্কুলে গিয়ে দেখি কপাট খোলা। স্যাররা খাতা-টাতা উলটপালট করছেন। উঁকিঝুঁকি দিতেই এক স্যার  বললেন কি ব্যাপার। ভালো আছো তো। আগামী সোমবার ফলাফল দোবো। ফলের কথা শুনতেই কলিজাটায় কে যেনো কামড়ে ধরেছে। ভয় ভয় লাগছে। সাঈদ, রেজাউল আগে থেকেই দাঁড়িয়ে সিঁড়িতে। তাদের চেহারাও ধোঁয়াটে ধোঁয়াটে। স্যারদের জানালা বরাবর কয়েক চক্কর লাগালাম তিনজনে। কিন্তু না কোনো গন্ধ-টন্ধ উড়ে এলো না। কি আর করা, অপেক্ষাই ভরসা। আর মাত্র তিন দিন। তারপরইতো সব ফকফকা। আমি চুপচাপ থাকলাম। সাঈদ বললো চিন্তা ভাবনার কি আছে। তোরা দু’জনের একজন তো ফার্স্ট হবিই। চল গুলিস্তান স্টেডিয়াম ঘুরে আসি। মনের ভয়-টয় উড়ে যাবে। মনওয়ারও সায় দিলো এমন ভাবনায়। রেজাউলের দু চোখে উড়ন্ত মেঘ। এই বুঝি ঝরবে বৃষ্টি। ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকলো স্কুলের বারান্দায়। কিসের অপেক্ষায় কে জানে। অবশেষে আমরা তিনজন গুলিস্তান স্টেডিয়ামের পথে হাঁটলাম। তৌফিকের অভাবটা বড় বেশি ঠোকড়াচ্ছিল। ও থাকলে আরো মজা হতো। এসব এলাকা তৌফিকের হাতের তালুতে। সাঈদ জানালো সেতো গ্রামে গেছে। রওয়ানা দিলাম ফকিরাপুল বাজারের গলিপথে। পুলের নিচ দিয়ে বইছে খাল। গোটাতিনেক ফকির বসে আছে উপরে। সামনে মাটির শানকি। খালের পাড় ঘেঁেষ ঝোপঝাড়। বাড়ি-ঘর আছে তফাতে তফাতে। গাছ-টাছ আছে সব বাড়িতেই। খালের দুই পাড়ে একই ছবি। কোনো কোনো বাড়ি জঙ্গল জঙ্গল। দশ-বারো মিনিটের পথ স্কুল থেকে। স্টেডিয়াম আর গুলিস্তান। 

স্টেডিয়ামের উত্তর গেইটে যখন পৌঁছলাম তখন সূর্য অনেকটা উপরে। কান ছুঁই ছুঁই। 

আবার সেই বিশাল গেইট। লোহার শিক লাগানো। শিকের ফাঁক দিয়ে মাঠ। টিয়াপাখির মতো বসে আছে ঘাস, পাখ ছড়িয়ে। সাঈদ জানালো এখানেই নামি দামি খেলোয়াড়রা খেলেন। মুসা, ওমর, গফুর বালুচ, নবী চোধুরীরা। জিজ্ঞেস করলাম এরা আবার কারা! মনওয়ার জানালো এরা সবাই ফুটবল খেলোয়াড়। সাঈদ আরো কার কার যেনো নাম শোনালো। আমি অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলাম। ওরা দু’জন একসাথে হেসে উঠলো। আমার বোকা বোকা চেহারা দেখে।

(চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ