বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

লকডাউন নয় প্রয়োজন জনসচেতনতা 

 সিনথিয়া সুমি:

পুরো বিশ্বের কাছে করোনা ভাইরাস মানেই যেন এক আতঙ্কের নাম। এই প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে আজ বিপর্যস্ত মানবতা। করোনা ভাইরাস তথা (কোভিট-১৯) এর বিস্তাররোধে এখনও চলছে  লকডাউন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। গত বছরের ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এবার চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এখনো কিছু বিধিনিষেধ জারি আছে। লকডাউনের প্রভাবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করেছিল। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর সংক্রমণের প্রকোপ আবারও বৃদ্ধি হতে থাকে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে দ্রুত সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। সপ্তাহ খানেক ধরে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এখনও দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের তাণ্ডব চলছে, লকডাউন বিধি-নিষেধ, টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে তা থামানোর প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার তবুও দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া ও মৃত্যু দুটিই যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বছর পেরিয়ে গেলেও কিছুতেই করোনা ভাইরাসের বিলুপ্তি হচ্ছে না। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমানে আমাদের দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টি জেলাই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক সপ্তাহের নমুনা পরীক্ষা ও রোগী শনাক্তের হার বিবেচনা করে এই ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশঙ্কা করছে, স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ না মানলে চলমান করোনা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশে লকডাউন চলছে। তবে এসব পদক্ষেপে কতটুকু সুফল আসবে, তা এখনও বলা মুশকিল। দেখা যায় শহরে কিংবা গ্রামে, হাটে কিংবা বাজারে, পথে কিংবা ঘাটে কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। দোকানগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড়, বিভিন্ন জায়গায় জনসমাগম। মাস্ক পরিধান নেই কারো। অনেকেই ভাবছে এক বছরেও যখন করোনা হয়নি তাহলে এখন ও হবে না। পুরো পৃথিবী জুড়ে অন্ধকারের ছায়া নেমে এসেছে। বিপন্ন হয়েছে সমাজ। কিন্তু তবুও মানুষের মনে বিরাজ করছে না কোনো ভয় । কেননা তারা সেরকম গুরুত্ব দিচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না। এমন ভয়াবহ সময়ে সবাইকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বিনা কারণে বাইরে ঘোরাঘুরি বন্ধ করে দিতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় এর বিকল্প নেই। সতর্ক ও সচেতনতার মধ্যদিয়ে মূলত করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা। মানুষ সচেতন না হলে এসব লকডাউন, শাটডাউন কোনো কাজে দেবে না। নামেই শুধু লকডাউন কিন্তু এর কোনো সুফল পাওয়া যায় না।

একদিকে লকডাউনে সাধারণ মানুষ যেন পড়েছে বিপাকে। তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কবে অবসান হবে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না। বর্তমানে তাদের ভাতের থালাটিও যেন কেড়ে নিতে বসেছে আত্মঘাতী এই করোনা ভাইরাস। তাই সরকারকে যেমন শক্ত হাতে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে হবে। ঠিক তেমনি অসহায় দিনমজুরদের জন্যও সাহায্যের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানুষের নিত্যসঙ্গী। আর এই সংকটকালীন সময়ে আমাদের সবাইকে মানবিক হতে হবে। অসহায়ত্বের পাশে এবং কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এখন সবাইকে মনে রাখতে হবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ সবচেয়ে বেশি জরুরি। বিশেষ করে নাগরিকদের সচেতনতা এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে সচেতন হতে হবে। অন্যকেও সচেতন হতে পরার্মশ দিতে হবে। তাই আসুন নিজে থেকে সচেতন হই ও পরিবার এবং সমাজকে সচেতন করতে সাহায্য করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ