শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সাতক্ষীরায় সমন্বিত পদ্ধতিতে হলুদ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: হারানেরা গৌরাব ফিরিয়ে আনতে সাতক্ষীরা জেলায় বাণিজ্যিকভাবে হলুদ চাষ হচ্ছে। পলি দোঁয়াশ ও বেলে দোঁয়াশ প্রকৃতির উর্বর মাটি হওয়ায় গ্রামের সমতল উচুঁ জমিতে মসলা জাতীয় ফসল হলুদের আবাদ বাড়ছে। অন্য ফসলের পাশাপাশি সমন্বিত পদ্ধতিতে হলুদ চাছ করছে  এখানকার কৃষকরা। চাহিদার তুলনায় এখানে উৎপাদন কয়েকগুণ বেশি। বিগত ১০ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে।
বহু প্রাচীন কাল থেকেই হলুদ নামক মসলাটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য পূর্বের দেশ গুলিতে ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। তবে এটি কেবল মাত্র মসলা হিসেবে নয় মানুষে বিভিন্ন দৈনন্দিন অসুখ থেকে শুরু করে রূপচর্চা রক্ষার কাজেও হলুদের ব্যবহার সবার আগে। কৃষিগবেষকেরা বলছেন হলুদের মধ্যে একটি আশ্চর্য সমাধান লুকিয়ে আছে। আসলে হলুদের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, কারকিউমিন, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন-সি এছাড়া এন্টি ব্যাকটেরিয়াল, এন্টি অক্সিডেন্ট, এন্টি ভাইরাল ও এন্টি ইনফ্লেমেটোরি গুন যা "অলৌকিক ভেজষ"  হিসেবে খ্যাতি এনে দিয়েছে।  
বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি মসলার ভালো চাহিদার কারণে সাতক্ষীরায়সহ দেশে হলুদের গুরুত্ব বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া রপ্তানি হয়ে আসছে। এমনকি কাঁচা হলুদ, শুকনা মরিচ, আদাসহ বেশ কয়েক ধরনের মসলা রপ্তানি হয়।
প্রযুক্তির উন্নয়ন ও হলুদের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে এ বছর জেলায় হলুদের আবাদ বেড়েছে। জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৬৬৫ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৭০৫ হেক্টর জমিতে।
 সাতক্ষীরা জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, হলুদ বেশ লাভজনক ফসল হলেও উপকূলীয় জেলা হওয়ার কিছু আবাদি জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ও জলাবদ্ধতার কারণে হলুদের আবাদ কমে গিয়েছিল। সেই সাথে দেখা দিচ্ছে পানিবদ্ধতা। এ দুই কারণে জেলার কৃষকরা হলুদ আবাদে আগ্রহ কমতে থাকে চাষিদের মাঝে। তবে আমরা অধিদফতরের পক্ষ থেকে কৃষকদের হলুদ আবাদের ক্ষেত্রে সবসময় প্রয়াজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। যার ফলে এ বছর আবাদ বাড়ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ