শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

২৭ কোটি টাকায় নির্মিত পশ্চিম পটিয়ার কালারপোল সেতু ধসে পড়ল

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের পশ্চিম পটিয়ায় নির্মাণকাজ শেষের আগে ধসে পড়ল ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালারপোল সেতু। এতে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন এ সেতু চলাচল উপযোগী করতে আরো অনেক সময় লাগবে। কয়েক দফা মেয়াদও বাড়ানো হয়। এরপরও নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই গত  শুক্রবার রাত ৮টার দিকে কালারপোল সেতুর তিনটি গার্ডার ধসে পড়ে। এ ঘটনায় নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ৩ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। সেতুটি ধসে পড়ার পেছনে ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সেতুর জন্য ১৩ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক লাখ মানুষকে।
তবে সওজের দাবি, সেতু নির্মাণে কোন অনিয়ম বা গাফেলতি হয়নি। দোহাজারী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ জানান, ‘হাইড্রোলিক জ্যাকের (ক্রেন) মাধ্যমে গার্ডার বসানোর সময় জ্যাকের পাইপ ফেটে যাওয়ায় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, ফলে গার্ডার পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার সময় একটি গার্ডারের ধাক্কায় অপর দুইটি গার্ডারও ধসে পড়ে।  একটি গার্ডার থেকে আরেকটি গার্ডারের দূরত্ব দুই মিটার। যে কারণে একটির ধাক্কায় আরেকটি, এভাবে তিনটি গার্ডার পড়ে যায়। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। এতে ঠিকাদারের ৭৫ লাখ টাকার ক্ষতি হবে। তবে ঠিকাদার নিজ অর্থেই ধসে পড়া তিনটি গার্ডার নতুনভাবে করে দেবে।তিনি বলেন, সেতুটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। হঠাৎ করে একটি দুর্ঘটনায় সেতুটি ধসে পড়েছে। একটি গার্ডারের ওজন ৩৫ টন।
স্থানীয়রা বলছে, রাত ৮ টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। পরে আমরা গিয়ে দেখতে পায় গার্ডার ভেঙ্গে নদীর তলদেশে চলে যায়। ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের কারণে সেতুটি ধসে পড়েছে। এতে সেতু নির্মাণ কাজের ৩ শ্রমিকও নিখোঁজ রয়েছে।  একটি সেতুর জন্য ১৩ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক লাখ মানুষকে। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও পটিয়ার কালারপোল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ার ঘটনা খুবই মর্মান্তিক।
দোহাজারী সড়ক ও জনপথ সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের ১৮ নবেম্বর সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুনভাবে সেতু নির্মাণের জন্য প্রথমবার ২২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সেতু মন্ত্রণালয়। সংশ্নিষ্ট ঠিকাদার কিছুদিন কাজ করে। এরপর কাজ বন্ধ করে চলে যায়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বার ২০১৭ সালে সেতুর জন্য ২৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নতুনভাবে বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়।
২০১৪ সালের ৮ মার্চ আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর নামে সেতুটির নামকরণ হয়। এটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কালারপোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মুহাম্মদ সোলায়মান জানান, কালারপোল সেতুর গার্ডার ধসের ঘটনায় দুইজন আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ