শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু লকডাউনে কড়াকড়ি

বাগেরহাট সংবাদদাতা : বাগেরহাট জেলায় চলছে লকডাউনের দ্বিতীয় দিন। লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। লকডাউনের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অপরাধে ৪৯ জনকে ২৪ হাজার একশ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে গেল ২৪ ঘন্টায় ১৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৭৩ জন। এই হিসেবে সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ৪৬ শতাংশ। তবে এই সময়ে বাগেরহাটে করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। এই নিয়ে বাগেরহাটে বাগেরহাটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২ হাজার ৮৬৭ জনে। মারা গেছেন ৭৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৩৮ জন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮২৯ জন। শুক্রবার (২৫ জুন) বেলা ১১টায় বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানিয়েছেন।
নওগাঁ : নওগাঁয় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ২ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ১ জন এবং পোরশা উপজেলায় ১ জন। জেলায় এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭২ জনে। নওগাঁ’র ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ জানান ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন করে ১২৫ ব্যক্তির শরীরে নতুন করে করোনা ভাইরাস শনাক্তের মধ্য দিয়ে জেলায় শনাক্তের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়ালো। বর্তমানে জেলায় করোনা শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা হলো ৪০৮২ জন। এ সময়  নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২৪৯ ব্যক্তির এ্যান্টিজেন পরীক্ষায় আক্রান্ত ৬৪ জন এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ পিসিআর ল্যাবে ১৬০ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে ৬১ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
ফরিদপুর : ফরিদপুরে চলছে কঠোর লকডাউন। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে দূর দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনরা। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে আরো কয়েকটি বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল। হাসপাতালগুলো হচ্ছে শিশু হাসপাতাল, ডায়াবেটিস হাসপাতাল , হার্ট ফাউন্ডেশনসহ আর ৭/৮ টি বেসরকারি হাসপাতাল। বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে কিন্তু সমস্যায় পড়ছে খাবার নিয়ে। লকডাউনের কারণে রোগী ও রোগীর স্বজনরা কোন খাবার পাচ্ছে না, এলাকার হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকার কারণে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী হাসপাতাল সংলগ্ন কিছু খাবার হোটেল খোলা থাকার কথা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ঐ সকল খাবারের দোকানগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : কঠোর বিধিনিষেধ আরোপিত হলেও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। ২৫ জুন গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ নমুনা থেকে ২০ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন আরো ৩ জন। এনিয়ে উপজেলায় মোট সংক্রমণ ৯৫৯ জন এবং মোট মৃত্যু ১৮ জন রেকর্ড হলো। এছাড়াও আইসোলেশনে আছে ২৬৪ জন করোনা রোগী। এর মধ্যে হাসপাতালের আইসোলেশনে আছেন ১০ জন। এদিকে উপজেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতালে নেই হাইক্লো অক্সিজেন। কিছু নরমাল অক্সিজেন আছে, তাও সীমিত। যে হারে অক্সিজেন ব্যবহৃত হচ্ছে তাতে কয়েক দিনের মধ্যে হাসপাতাল অক্সিজেন সংকট পড়বে আশংকা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার: প্রবাসী অধ্যুষিত সীমান্তবর্তী জেলা মৌলভীবাজরে জেলায় করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ ২৬ জুন সিভিল সার্জন অফিস থেকে পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় ১৬১ টি নমুনা পরীক্ষায় ৪১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে ২৫ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করে ৩৯ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার দাঁড়িছে ৪২ শতাংশ এবং ২৪ জুন ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ছিল ৩৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। মৌলভীবাজারের সাত উপজেলার মধ্যে পাঁচ উপজেলার সীমান্ত রয়েছে ভারতের সঙ্গে। প্রতিদিনই করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা  প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শৈলকুপা উপজেলার আউশিয়া গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো দুইজন।  এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৬ টি নমুনা পরীক্ষায় ১৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগম এসব তথ্য জানান। এদিকে ঝিনাইদহ জেলায় লকডাউনের ৫ম দিনে গড়ালো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ