বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

নালিতাবাড়ি পাহাড়ি অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাছরাঙ্গা

আল হেলাল, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : নাম তার মতিবিল বহু দূর জল, হাঁসগুলি ভেসে ভেসে করে কোলাহল। পাকে চেয়ে থাকে বক, চিল উড়ে চলে মাছরাঙ্গা ঝোপ করে পড়ে এসে জল। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার লেখা এ কবিতা স্মরণ করিয়ে দেয় নীল পাখী মাছরাঙ্গার কথা। এক সময় শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চলের নদ-নদীর, বিল-ঝিল হাওর,বাওর, ধানি জমি ও পুকুর পাড়ে দেখা যেত মাছরাঙ্গার অবাধ বিচরণ। বাঁশের খুঁটিতে ওত পেতে থাকতো মাছ ধরার পটু এ পাখি। সুযোগমত স্বচ্ছ জলে ঝাঁপিয়ে পড়ত শিকারে। অনেকটা পানির ভিতর থেকে, সুচালো ঠোঁটে ধরে আনত মাছ। পড়ে গাছের ডালে শিকারকে আঁচড়ে গিলে ফেলার সেই দৃশ্য এখন আর আগের মত চোখে পড়েনা। নানা কারণে দৃষ্টিনন্দন শিকারী এ পাখির সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রাণী বিষারদরা। পাখি পরিচিতিতে দেখা যায়, মাছরাঙ্গার ইংরেজি নাম করহমভরংযবৎ. খাটো পুচ্ছ, বড় মাথা ও সুচালো ঠোঁটের আঁটোসাঁটো পাখি। এরা পুকুর, বিল ও জলাধারের পাড়ে গর্ত করে বাসা তৈরি করে বসবাস করে। আবহমান বাংলাদেশে এদের রয়েছে ১২টি প্রজাতি-ছোট নীল মাছরাঙ্গা, সাদা বক মাছরাঙ্গা, ছিট/পারকা মাছরাঙ্গা মেঘ-হও মাছরাঙ্গা, লাল মাছরাঙ্গা, সবুজ মাছরাঙ্গা, বাদামী মাছরাঙ্গা, কালো মাছরাঙ্গা ও বুনো মাছরাঙ্গা। এদের বিচরণ সারা দেশে। মাছরাঙ্গার প্রধান খাদ্য মাছ হলেও নানা ধরনের পোকা-মাকড় খায় এরা। প্রজনন মৌসুম শুরু হয় শরৎকালে। তখন চার-পাঁচটি ডিম দেয় পাখি মাছরাঙ্গা। কালের বিবর্তনে পরিবেশ দূষণ, নির্বিচারে গাছ কাটা জমিতে কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার ও খাদ্য সংকটের ফলে বিভিন্ন প্রজাতি পাখির সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ