শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

কুয়েত বাংলাদেশ বন্ধুত্বের নিদর্শন মিরপুর পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার মসজিদ

মুহাম্মদ নূরে আলম : বিশ্বে গর্ব করার মতো আমাদের আছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। পাশাপাশি স্থাপত্যকলাতেও কোনও অংশে কম ছিল না এ অঞ্চল। আমাদের যে স্থাপনাশৈলী এখনও বিমোহিত করে চলেছে অগণিত ভ্রমণচারী ও মননশীল মানুষকে, তার মধ্যে আছে দেশজুড়ে থাকা অগণিত নয়নাভিরাম মসজিদ। পাইকপাড়া সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মসজিদ তারমধ্যে অন্যতম। দূর থেকেই দেখা যায় দুটি সুদীর্ঘ মিনার। ব্যস্ত রাস্তার পাশে মিনার দুটিই যেন জানান দিচ্ছে-এখানে একটি মসজিদ আছে। কাছে আসতেই চারপাশ জুড়ে সবুজের সমারোহ। এর মাঝেই মসজিদটি। যার চোখ জুড়ানো নির্মাণশৈলী দেখে ক্ষণিকের জন্য থমকে যেতে বাধ্য যেকোনও পথিক। চারতলা ভবন। ঘিয়ে রঙের মধ্যে সোনালি কারুকাজ। ছাদে সুদীর্ঘ দুটি মিনার। জানালার কাঁচগুলো নীলাভ। সুবিশাল প্রবেশদ্বার। ভেতরে সাদা আর খয়েরিরঙা টাইলসের মেঝে। ভবনের চারপাশে গাছগাছালির ছায়া। ব্যস্ত সড়কের পাশে হঠাৎ ভবনটি দেখলে যে কেউ থমকে দাঁড়ান।
রাজধানীর মিরপুর আনসার ক্যাম্প বাসস্ট্যান্ড থেকে একটু সামনে এগোলেই পাইকপাড়া সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদ। শুরুতে পাইকপাড়া সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের জন্য ছোট একটি জামে মসজিদ ছিল এটি। কুয়েত সরকারের উদ্যোগে বদলে যায় এর কাঠামো। পুনঃনির্মাণে অর্থায়ন করে কুয়েত আওক্বাফ পাবলিক ফাউন্ডেশন (কেএপিএফ)। এরপরই পুরনোটিকে সংস্কার করে বানানো হয় দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি। এর জন্য ১২ কোটি টাকা দিয়েছিল কেএপিএফ। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমান ২০১১ সালে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বাইরের দেয়াল ঘিয়া রঙের। সেই রঙের ভেতর সোনালী কারুকাজ। সামনে সাজানো বাগান।
পাঁচ বছর লেগেছে মসজিদটির নির্মাণে। পুনরায় চালু হয় ২০১৬ সালের ২৫ মার্চে। প্রায় ৫৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের মসজিদটির ভেতরে দুই জায়গায় ওজু করার ব্যবস্থা আছে। আছে সুপরিসর শৌচাগার। এ ছাড়া পাঠাগার, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বসার স্থানও আছে। ভেতরেও রয়েছে নকশার কারুকাজ। সুউচ্চ তুষার শুভ্র পিলারগুলো দেখে মন ভরবে মুসুল্লির। এর জানালার কাচগুলো নীলাভ। প্রবেশদ্বারও বিশাল। মেঝেতে সাদা আর খয়েরি টাইলস।
একসঙ্গে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। নারীদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা আছে। কুয়েতের অর্থায়নে বানানো বলে অনেকেই এটাকে কুয়েতি মসজিদ নামেও চেনে। জুমার দিনে অনেকেই দূর থেকে আসেন এই মসজিদে নামাজ পড়তে। এছাড়া চলার পথে অনেকেই থেমে দাঁড়ান, মসজিদটি দেখতে। মিরপুর আনসার ক্যাম্প এলাকায় অবস্থিত নয়নাভিরাম এই ভবনটি পাইকপাড়া সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদ। গণপূর্ত বিভাগের জায়গায় কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি (কেজেআরসি), বাংলাদেশ অফিস এই মসজিদটি নির্মাণ করেছে। মসজিদটি তৈরিতে সময় লেগেছে পাঁচ বছর, আর খরচ পড়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। মসজিদ নির্মাণে অর্থায়ন করেছে কুয়েত আওক্বাফ পাবলিক ফাউন্ডেশন (কেএপিএফ)।
এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই জায়গাটিতে আগে একতলা একটি মসজিদ ছিল। সেই মসজিদে একসঙ্গে হাজার খানেক লোক নামাজ আদায় করতে পারতেন। অনেক দিন ধরেই কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি মসজিদ নির্মাণের জায়গা খুঁজছিল। একসময় আনসার ক্যাম্প এলাকায় এই জায়গাটি তারা নির্বাচন করে। মসজিদের সাবেক কমিটির সদস্যরা নতুন মসজিদ নির্মাণে উদ্যোগী হন। আলাপ-আলোচনার পরে গণপূর্ত বিভাগ মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেয়।
মসজিদে সাবেক কমিটির দুজন সদস্য তাঁরা মসজিদ নিয়ে অনেক কথা বললেও নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাঁরা বলেন, আল্লাহর ঘর নির্মাণে কাজ করেছি। নিজেদের কোনো প্রচার আমরা চাই না। মানুষ শান্তিতে নামাজ পড়বে, তাতেই আমাদের শান্তি। কেজেআরসি বাংলাদেশ অফিস থেকে জানা যায়, ৬২ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত বৃহদাকার এ মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ লোক নামাজ আদায় করতে পারেন। নারীদের নামাজের আলাদা ব্যবস্থা আছে। মসজিদ কমপ্লেক্সে রয়েছে তিনটি সিঁড়ি। প্রতি তলায় আলাদা অজুখানা। ১৩০ ফুট উচ্চতার দুটি দৃষ্টিনন্দন মিনার এবং একটি মনোরম গম্বুজ। এ ছাড়াও আছে পাঠাগার, শৌচাগার, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের থাকার ব্যবস্থা।
বেশ দূর থেকেই মসজিদের মিনার দুটি নজর কাড়ে। মসজিদের চারপাশে খয়েরি টাইলস আর লোহার শিকের বুকসমান প্রাচীর। চত্বরে পরিকল্পিতভাবে লাগানো ঘাস। আছে নানান ধরনের গাছ। নিচতলার ছাদ বেশ উঁচু। মাথার ওপরে ঘুরছে ফ্যান। সব মিলিয়ে বেশ শান্ত পরিবেশ। সামনের সদা ব্যস্ত সড়কের কোলাহল যেন স্পর্শ করে না মসজিদটিকে। এলাকার লোকজন জানান, উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই লোকজনের আগ্রহের কেন্দ্রে মসজিদটি। সামনের সড়ক দিয়ে যাঁরাই চলাচল করেন, সবাই আগ্রহভরে তাকিয়ে থাকেন। অনেকেই দেখতে আসেন। শুক্রবার জুমার নামাজে মসজিদ ভরে যায় মুসল্লিদের উপস্থিতিতে। বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগ মিরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সভাপতি করে গঠিত ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির তত্ত্বাবধানে মসজিদের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি বাংলাদেশ অফিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদুল হালিম গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ ও কুয়েতের ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নিদর্শন এই মসজিদ।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা প্রচারের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে মসজিদটি। রাজধানীর মিরপুরের আকবর কমপ্লেক্স জামে মসজিদ। বুধবার (১৪ এপ্রিল) তারাবির নামাজে মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল এই মসজিদ। জায়গা না পেয়ে শতাধিক মুসল্লিকে নামাজ পড়তে হয়েছে মসজিদের বাইরের রাস্তায়। শুধু এই মসজিদেই নয়, রাজধানীর অনেক মসজিদেরই একই চিত্র। রজমানে তারাবির নামাজে অংশ নিতে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় ছিল।
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে পাইকপাড়া সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদ। এই মসজিদের বেশিরভাগ মুসল্লিই আশেপাশে বসবাসকারী সরকারি কর্মচারী। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৪ এপ্রিল হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মসজিদে নামাজ আদায়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করে। যদিও জুমার নামাজে মুসল্লিদের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিদের অংশ গ্রহণ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ