শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে সেরা বোলার সাইফউদ্দিন ব্যাটসম্যান মিজানুর

স্পোর্টস রিপোর্টার : আবাহনী লি: এর হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের এবারের আসর। প্রায় এক মাস ধরে চলা ঘরোয়া ক্রিকেটের জমজমাট আসরের পর্দা নেমেছে শনিবার। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) এবারের বেশিরভাগ ম্যাচই পড়েছে বৃষ্টির কবলে। তবে মাঠে লড়াই হয়েছে বেশ জমজমাট। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ওয়ানডের বদলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হয়েছে এবারের ডিপিএল। জাতীয় দলের প্রায় সব তারকারাই খেলেছেন এবারের ডিপিএলে। তারকা ক্রিকেটাররা অংশ নিলেও তাদের ছাপিয়ে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল। ডিপিএলে এবার নজর কেড়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ। এই টুর্নামেন্টে আলো ছড়িয়ে জাতীয় দলে ডাকই পেয়েছেন তরুণ শামীম হোসেন পাটোয়ারি। উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানের ক্ষেত্রেও তাই। নজর কেড়েছেন তরুণ শেখ মেহেদি হাসান, মাহমুদুল হাসান জয়, মুনিম শাহরিয়ার, শরিফুল ইসলামরা। সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেরা তিনে অবস্থান মিজানুর রহমান, মাহমুদুল হাসান জয় ও নুরুল হাসানের। অন্যদিকে শীর্ষ বোলারদের তালিকায় সাইফউদ্দিন থাকলেও কামরুল ইসলাম রাব্বি, তানভীর ইসলামও আলো ছড়িয়েছেন। এবারের ডিপিএলে ব্যাটহাতে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের মিজুনার রহমান। যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন আবাহনীর পেসার সাইফউদ্দিন ও প্রাইম দোলেশ্বরের পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। ঢাকা লিগে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের মিজানুর রহমান। ১১ ম্যাচে ১১ সেঞ্চুরি ও ২ হাফসেঞ্চুরিতে মিজানের রান ৪১৮। শেখ জামালের বিপক্ষে ১০০ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মিজান। তার দল ব্রাদার্স সুপার লিগ খেললে অন্তত আরও দুইশো রান যোগ করতে পারতেন তিনি! তার গড় ৫২.২৫, স্ট্রাইকরেট ১৩৩.৯৭। এদিকে বোলিংয়ে সাফল্য পেয়েছেন তরুণ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। 

 

১৬ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রায় প্রতি ম্যাচেই আবাহনীকে জেতাতে বল কিংবা ব্যাট হাতে ভূমিকা রেখেছেন সাইফউ। অন্যদিকে অনেকদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা কামরুল ইসলাম রাব্বিও দারুণ ছন্দে বোলিং করেছেন পুরো লিগ জুড়ে। প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ১৭ ম্যাচে তার শিকার ২৬ উইকেট। রান সংগ্রহের তালিকায় সেরা পাঁচে আছেন যথাক্রমে- মিজানুর রহমান, মাহমদুল হক জয়, নুরুল হাসান সোহান, নাইম শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্ত। বোলিংয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া পাঁচজন হলেন- স্ইাফউদ্দিন, কামরুল ইসলাম রাব্বি, শরিফুল ইসলাম, তানভির ইসলাম ও জিয়াউর রহমান। মিজানুর ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে ১টি সেঞ্চুরি তিনটি হাফ সেঞ্চুরিতে রান করেছেন ৪১৮। গড় ৫২.২৫, স্ট্রাইকরেট ১৩৩.৯৭। মাহমুদুল হাসান জয় ওল্ড ডিওএইচএসের হয়ে ১৩ ম্যাচে ৩৯২ রান করেছেন। সর্বোচ্চ ৮৫, গড় ৪৩.৫৫, স্ট্রাইকরেট ১২১.৩৬। নুরুল হাসান সোহান শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়ে ১৬ ম্যাচে ১৪ ইনিংসে ব্যাটিং করে ৩৮২ রান করেছেন। সর্বোচ্চ ৬৬, গড় ৩৮.২০, স্ট্রাইকরেট ১৫২.৮০। নাইম শেখ আবাহনীর হয়ে ১৬ ম্যাচের ১৫টিতে ব্যাটিং করে ৩৭৫ রান করেছেন। সর্বোচ্চ ৭০, গড় ২৮.৮৪, স্ট্রাইকরেট ১২৩.৭৬। নাজমুল হোসেন শান্ত আবাহনীর হয়ে ১৬ ম্যাচের ১৫টিতে ব্যাটিং করে ৩৬৮ রান করেছেন। সর্বোচ্চ ৬৫, গড় ২৬.২৮, স্ট্রাইকরেট ১২৬.৮৯। বোলিংয়ে আবাহনীর হয়ে সাইফউদ্দিন ১৬ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়েছেন। গড় ১৫.৮০, ইকোনোমি ৬.৭৯, সেরা বোলিং ৪/১৮। কামরুল ইসলাম রাব্বি প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ১৭ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়েছেন। গড় ১৩.৭৬, ইকোনোমি ৭.৩৮, সেরা বোলিং ৪/১১। শরিফুল ইসলাম প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ১৬ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়েছেন। গড় ১৭.৭৭, ইকোনোমি ৭.১৩, সেরা বোলিং ৩/২৩। তানভির ইসলাম শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ১১ ম্যাচ খেলে ২০ উইকেট নিয়েছেন। গড় ৯.৩৬, ইকোনোমি ৪.৭৯, সেরা বোলিং ৪/২৩। জিয়াউর রহমান শেখ জামালের হয়ে ১৬ ম্যাচের ১৩টিতে বোলিং করে ১৮ উইকেট নিয়েছেন। গড় ১৫.৫০, ইকোনোমি ৬.৮৩, সেরা বোলিং ৩/২৯।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ