শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনা বিভাগে করোনায় আরও ২৮ জনের মৃত্যু ॥ শনাক্ত ১২০২

খুলনা অফিস : খুলনা বিভাগে করোনাভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় অদৃশ্য এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে বিভাগে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২০২জন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে খুলনায় পাঁচজন, বাগেরহাটে পাঁচজন, যশোরে চারজন, নড়াইলে চারজন, কুষ্টিয়ায় চারজন, ঝিনাইদহে দুইজন, চুয়াডাঙ্গায় দুইজন এবং মেহেরপুরে দুইজন মারা গেছেন।
খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট শনাক্ত হয়েছে ৫২ হাজার ১৬৭ জন। আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮১ জনে। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৬১৫ জন।
খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা জানান, ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলার ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা জেলা ও মহানগরীতে ৬৫৪টি নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ২৯৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। যা মোট নমুনা পরীক্ষার ৪৫ শতাংশ।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৬৩২ জনের। মারা গেছেন ২৪০ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৫২৮ জন।
এদিকে খুলনার তিনটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে যেন ক্রমান্বয়ে লাশের ভারে ভারী হয়ে উঠছে। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় কান্নাও যেন থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় করোনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ জন, খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দুই জন এবং বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছে চিকিৎসাধীন ছিলেন তারা।
খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ফোকাল পার্সন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান,গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা করোনা হাসপাতালে রেড জোনে ৯ জন ও ইয়ালো জোনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৪২ জন, আবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৯ জন। আর আইসিইউতে রয়েছেন ১৯ জন। খুলনার ১৩০ শয্যার করোনা হাসপাতালে ১৬০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খুলনা ২৫০ জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- বাগেরহাটের কাশিমপুরের আতিয়ার রহমান মল্লিক (৬৫) ও সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের অলি উল্লাহ্ (৬৭)। গত ২৪ ঘন্টায় এ হাসপাতালটিতে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১২ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ জন। ভর্তি ছিলেন ৬৮ জন, এর মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ৩৫ জন নারী।
গাজী মেডিকেলের স্বত্বাধিকারী গাজী মিজানুর রহমান জানান, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- খুলনার ১ নম্বর নেভিগেট এলাকার শামসুল আলম (৬৩), সাতক্ষীরার পালাশপুরের আব্দুস সামাদ (৭৫), নড়াইলের নড়াগাতীর মৌলি এলাকার ঝর্ণা বেগম (৪৬)। ৮৮জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার মধ্যে ৬ জন আইসিইউ এবং ৫জন এইচডিইউতে। এছাড়া সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২২ জন আবার নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৯জন।
এদিকে খুলনা বিভাগ সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেই সাথে জেলার উপকূলীয় কয়রা উপজেলায় রকেটগতিতে ছড়াচ্ছে অদৃশ্য এই শত্রু। গ্রামাঞ্চলে ঘরে ঘরে বাড়ছে করোনার উপসর্গ জ্বর-সর্দি-কাশি। তবে তার বেশিরভাগই প্রকাশ পাচ্ছে না। অনেকেই লকডাউনের ভয়ে বিষয়টি চেপে যাচ্ছেন, আবার কেউ এড়িয়ে যাচ্ছেন ‘মওসুমি জ্বর-জারি’ বলে। ফার্মেসি থেকে জ্বর সর্দির ঔষধ কিনে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর অবাধ ঘোরা ফেরা করছেন। যা ভয়াবহ পরিণতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গ্রামে গ্রামে এখন যে অবস্থা, তাতে ব্যাপকভাবে নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত ১৪৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ জন আক্রান্ত এবং সুস্থ হয়েছেন ৮৬ জন। মৃত্যু ৭ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালা বলেন, করোনার উপসর্গ নিয়ে অনেকেই আছেন যারা নমুনা পরিক্ষা করছেন না। তাদের অবাধ ঘোরা ফেরায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা জোর করে নমুনা নিতে পারিনা। তবে আমাদের টিম করোনা সচেতনতা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ