রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

রিকশাচালকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

বিভিন্ন দাবিতে গতকাল রোববার ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালক ও মালিকরা রাজধানীর জিরো পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবিতে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষ করে একটি মিছিল নিয়ে পল্টন মোড় ঘুরে জিরো পয়েন্ট মোড়ে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বাধার মুখে রিকশা চালকরা সেখানে আবার সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেন। সমাবেশে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদাৎ খা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুসসহ দুই শতাধিক রিক্সা চালক উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ২০ জুন সচিবালয়ে জাতীয় সড়ক পরিবহন টাস্কফোর্সের সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারা দেশে ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ভ্যান বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। পরবর্তীতে সারা দেশে কয়েক লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি গ্যারেজ ও বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দরিদ্র রিকশাওয়ালাদের রিকশা, ব্যাটারি, মোটর, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সকল ব্যাটারি, মোটর যন্ত্রাংশ আমদানি এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো নিষেধ ছিল না। গরিব রিকশাওয়ালারা সুদের ওপর কিস্তিতে কিংবা সঞ্চয় ভেঙে রুটি-রুজির জন্য ব্যাটারি রিকশা কিনেছেন। শ্রমিকরা বাণিজ্যিক দরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। কোনো ধরনের সংস্কারমূলক প্রস্তাব বিবেচনায় না নিয়ে এই বন্ধের ঘোষণা লাখো শ্রমিককে আজ পথে বসিয়ে দিয়েছে।
চালকরা আরও বলেন, রিকশা একটি জৈব জ্বালানিবিহীন পরিবেশবান্ধব বাহন। বাংলাদেশের লাখো দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাহন বলে আমরা এটা নিয়ে নানাভাবে গর্ব করে থাকি। অথচ রিকশা চালকদের অমানবিক পরিশ্রম ও কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিক মহল, কাউকেই তেমন কিছু করতে দেখা যায় না।  
ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকরা বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিল দিতে রাজি জানিয়ে চালকরা বলেন, বিদ্যুৎ জাতীয় সম্পদ। সুতরাং বৈধ পথে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই আছে। তাছাড়া রিকশা কোনো ব্যক্তিগত বাহন নয়। এটি গণপরিবহনেরই একটি অংশ। গণপরিবহনে বিদ্যুৎ ব্যবহার তার গণস্বার্থকে উপকৃত করবে। কারো ব্যক্তিগত আরাম বা বিলাসিতায় এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে না। ব্যাটারি চালিত প্রত্যেক রিকশা চালক তার ব্যবহৃত বিদ্যুতের জন্য বাণিজ্যিক মূল্য দিতে আগ্রহী।
তারা আরও বলেন, আমাদের দাবি একটিই, বিধিমালার মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান করা হোক। বুয়েট প্রস্তাবিত রিকশাবডি, এমআইএসটি উদ্ভাবিত গতি নিয়ন্ত্রক, উন্নত ব্রেকসহ ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স প্রদান করে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ভ্যান রাস্তায় চলতে দেওয়া হোক। ততক্ষণ পর্যন্ত সড়কের বাইরে অন্যান্য রাস্তায় এবং নিচু এলাকায় আঞ্চলিকভাবে ব্যাটারি রিকশা চলতে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ