শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

জনবল সংকটে ধুঁকছে চট্টগ্রাম কাস্টমস ॥ ৬০১ পদ খালি

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো : দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ধুঁকছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। দেশের শীর্ষ রাজস্ব আদায়কারী এই প্রতিষ্ঠান অর্ধেক জনবল দিয়ে কাজ করছে। সেখানে ১ হাজার ২৪৮টি পদ রয়েছে। বর্তমানে কাজ করছেন ৬৪৭ জন। খালি রয়েছে ৬০১ পদ। ওই প্রতিষ্ঠানে ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ পদ খালি। ১ জুন কাস্টমসের হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র দেখা যায়। এতে পণ্য খালাস ও শুল্কায়নে দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে ব্যয়। ফলে বাড়ছে পণ্যের দাম। যা ভোক্তার ঘাড়ে দিয়ে পড়ছে।
হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, কাস্টমসে মোট ১ হাজার ২৪৮টি পদ রয়েছে। এর বিপরীতে কাজ করছেন ৬৪৭ জন। সেখানে শূন্য রয়েছে ৬০১টি পদ। শূন্য পদ হলো, ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণির ২১০টি পদের মধ্যে শূন্যপদ ৯৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৯৭ পদের মধ্যে শূন্যপদ ২৩১টি। তৃতীয় শ্রেণির ৪২৩ পদের মধ্যে শূন্যপদ ২৫৪টি। চতুর্থ শ্রেণির ১১৮ পদের মধ্যে শূন্যপদ রয়েছে ২২টি।
প্রথম শ্রেণির ২১০ পদের মধ্যে যুগ্ম কমিশনার পদে ৫ জনের মধ্যে কাজ করছেন ৩ জন। সেখানে ২টি পদ খালি রয়েছে। ডেপুটি কমিশনার পদের ১৬ জনের মধ্যে কাজ করছেন ১২ জন। যার মধ্যে খালি আছে ৪টি পদ। উপ প্রধান রাসায়নিক পদের ৩ জনের মধ্যে সব পদ শূন্য। সহকারী পরিচালক/পরিসংখ্যান পদের দুই পদের দুটিই শূন্য। সহকারী কমিশনারের পদেও সংখ্যা ৪৭। কাজ করছেন ১৭ জন। সেখানে খালি রয়েছে ৩০টি পদ। রাসায়নিক পরীক্ষকের দুই পদের দুটি শূন্য। সহকারী প্রোগ্রামারের দুই পদের কর্মরত আছেন দুইজন। রাজস্ব কর্মকর্তার ১১৯ পদের মধ্যে কাজ করছেন ৭৫ জন। শূন্য পদ ৪৪টি। আইন উপদেষ্টা এক পদের কর্মরত আছেন একজন। আইন কর্মকর্তার দুটি পদে কর্মরত আছেন একজন। সেখানে ১টি পদ খালি। প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দুটি পদে দুটিই শূন্য। পরিসংখ্যানের দুই পদে দুটিই শূন্য।
দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৯৭ পদের মধ্যে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার ৪৮৭ পদের মধ্যে শূন্য পদ রয়েছে ২২১টি। সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষকের ৬ পদের ৬টিই শূন্য। অডিটরের দুই পদের দুটি শূন্য। সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দুটি পদই খালি।
তৃতীয় শ্রেণির ৪২৩ পদের মধ্যে মাস্টারের দুই পদের ২ জনই কর্মরত। কম্পিউটার অপারেটরের ২৯ পদে শূন্য পদ রয়েছে ৯টি। সেখানে ২০টি পদ খালি। সাব এসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (রেডিও) এক পদে কর্মরত একজন। টেলিফোন সুপারভাইজারের এক পদে কর্মরত একজন। অফিস সুপারিনটেনডেন্টের ১৩টি পদে কাজ করছেন ৮জন। সেখানে শূন্যপদ ৫টি। পরিসংখান অনুসন্ধায়কের এক পদের একটিই শূন্য। রেডিও অপারেটরের দুই পদের শূন্যপদ একটি। প্রধান সহকারী ১৫ পদের মধ্যে শূন্যপদ ৫টি। সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৫ পদে ৫ জনই কর্মরত আছেন। উচ্চমান সহকারী পদে ৮১ পদের মধ্যে শূন্যপদ ৩৩টি। সেখানে কাজ করছেন ৪৮ জন।
ক্যাশিয়ারের দুই পদের শূন্য একটি। ১টি পদ খালি রয়েছে। স্পীড বোট ড্রাইভার-১ পদের ২টির মধ্যে দুটিই শূন্য। ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের এক পদে একটিই শূন্য। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৬৩ পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৫৮টি। সেখানে কাজ করছেন ৫ জন। সাব ইন্সপেক্টর পদের ১৭টির মধ্যে ১৪টি শূন্য। কাজ করছেন ৩ জন। ড্রাইভার পদের ৪৭টি মধ্যে ৭টি শূন্য। সেখানে কাজ করছেন ৪০ জন। টেলিফোন অপারেটর পদের ৩টির মধ্যে দুটি শূন্য। সেখানে কাজ করছেন ১ জন। ইলেক্ট্রিশিয়ানের একটি পদে একটিই শূন্য। সিপাই পদের ১৩৫ পদের মধ্যে ১১৫টিই শূন্য। সেখানে কাজ করছেন ২০ জন।
চতুর্থ শ্রেণির ১১৮ পদের মধ্যে ল্যাব এটেনডেন্টের ৩ পদে কর্মরত ৩ জন। কার্পেন্টারের ১ পদে কর্মরত একজন। গ্রীজারের ৪ পদে শূন্যপদ একটি। সেখানে কাজ করছেন ৩ জন। রেকর্ড সাপ্লাইয়ারের এক পদের একটিই শূন্য। অফিস সহায়ক ৯০ পদের ৬টি শূন্য। সেখানে ৮৪ জন কাজ করছেন। কুকের ২ পদের দুটিই শূন্য। লস্করের দুই পদের একটি শূন্য। খালি আছে ১টি। ঝাড়ুদার/ক্লিনার/সুইপার পদের ৭ পদের মধ্যে শূন্যপদ ৫টি। কাজ করছেন ২ জন। ৮টি মালী পদের বিপরীতে কাজ করছে ২ জন। সেখানে শূন্যপদ রয়েছে ৬টি।
আমদানি-রপ্তানিকারকরা বলছেন, জনবল সংকটের কারণে পণ্যের শুল্কায়ন ও খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। গত ১০ বছরে কাস্টমসে আমদানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। সেই সাথে বেড়েছে রাজস্ব আদায়। এখানে ব্যবসার পরিধি বাড়লেও জনবল বাড়েনি। একদিনের কাজ এক সপ্তাহেও শেষ হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম জানান, জনবল সংকটের বিষয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা করা হয়েছে। জনবল না বাড়ালে কাস্টমসের কার্যক্রম গতিশীল হবে না। এতে ব্যবসা বাণিজ্য ব্যাহত হবে। তাই দ্রুত জনবল নিয়োগ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ