শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

শাহ আবদুল হান্নানের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে প্রেরণা জোগাবে

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে সাবেক সচিব ইসলামিক স্কলার ও ইসলামী অর্থনীতিবিদ মরহুম শাহ আবদুল হান্নান স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোক সভায় উপস্থিত আলোচকবৃন্দ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে সাবেক সচিব, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, সমাজ চিন্তক, বরেণ্য অর্থনীতিবিদ মরহুম শাহ আবদুল হান্নানের স্মরণে নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেছেন, মরহুম শাহ আবদুল হান্নান তাঁর কর্মের মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। মরহুম শাহ আবদুল হান্নান বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা-বিকাশ ও জাতিগঠনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। শাহ আবদুল হান্নানকে একজন পজিটিভ মনের মানুষ উল্লেখ করে তারা বলেন, শুধু আমরাই নই, আরো অনেকেই তার বাস্তব জীবনের অনুসারী। শাহ আবদুল হান্নানের মধ্যে কোনো দিন কোনো ধরনের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা ছিল না। তিনি ছিলেন সর্বদাই একজন পজিটিভ মনের মানুষ এবং একই সাথে শিক্ষকদেরও শিক্ষক। শাহ আবদুল হান্নান ছিলেন সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বোত্তম সততার মডেল এবং জ্ঞানতাপস।
গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মরহুম শাহ আবদুল হান্নানের স্মরণে নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এইসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুজাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. এম আজিজ, মাকসুদুর রহমান খলিফা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট মতিউর রহমান আখন্দ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট ড. মো. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহিল মাসুদ, সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট পারভেজ হোসেন, নির্বাহী চেয়ারম্যান নেসার হোসেন নান্নু প্রমুখ।
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে শাহ আবদুল হান্নান সাহেবকে যতদূর জেনেছি বা চিনেছি তিনি ছিলেন একজন নিরেট সাদা মনের মানুষ। আমি নিজে তার কর্ম ও চিন্তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি। আজীবন তিনি ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। তার মধ্যে কোনো নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা বা চিন্তাভাবনা ছিল না। সর্বোপরি তিনি ছিলেন একজন বড় মাপের লেখক। তার এই লেখাকে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। আমরা আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে তার জন্য দোয়া করি আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মান দান করেন।
সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শাহ হান্নান সাহেবের মৃতে্যুতে আমি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি, আমি ভাবতে পারি না তিনি নাই। তিনি ছিলেন, বড় মাপের মানুষ । ইসলামের একজন প্রকৃত অনুস্মরণকারী। কথা কম বলতেন অথচ আমার দেখা একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ। অনে বড় বড় স্কলার দেখা যায় কিন্ত একজন স্কলার কতটা মানবিক হতে পারে তিনি তার উদাহরণ। তার মিশন ছিল পড়া , দাওয়াহ এবং লেখা।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক বলেন, আমি ১৯৯৬ সালে আর্মি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়ার পর থেকে ওনার সাখেথ আমার ঘনিষ্ঠতা হয়। শাহ আবদুল হান্নান এর উপর পেশকৃত এক স্লাইড প্রেজেন্টেশনে বলেন, তিনি ছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন এবং কিংবদন্তীতুল্য এক গণমুখী চরিত্র। তিনি ছিলেন কাজের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস।
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, শাহ আবদুল হান্নান ছিলেন সবাইকে আপন করে নেয়ার মতো একজন ব্যক্তি। সততার বিচারে শাহ আবদুল হান্নান ছিলেন বিরল ব্যক্তিত্বও বটে। তিনি ছিলেন জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তি। তিনি নিজে যা জানতেন সেটি সবাইকে জানাতে চেষ্টা করতেন। সততা আর সরলতার বিচারে শাহ আবদুল হান্নান আজকের দুনিয়াতে আমাদের সামনে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, শাহ আবদুল হান্নানের দেশের ভেতরে পরিচয়ের কোনো দরকার নেই। কেননা তিনি ছিলেন, বিশ্বব্যাপী একজন পরিচিত ইসলামী ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন পরিচ্ছন্ন জীবনের অধিকারী। তিনি শুধু ব্যক্তির পরিবর্তন নয় গোটা সমাজের পরিবর্তনের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। শাহ আবদুল হান্নান একাই একটি ইন্সটিটিউট ছিলেন। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তাকে নিয়ে ও তার রচিত গ্রন্থাবলী প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া এবং তিনিসহ এমন মণীষাদের একটি ওয়েবসাইট করা দরকার।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, আমি কাছে থেকে শাহ আবদুল হান্নান সাহেবকে দেখেছি। তার চরিত্র মাধুর্যে সবাই অনুপ্রাণিত হয়েছেন। শাহ আবদুল হান্নান শুধু একালের কোনো ব্যক্তিত্ব ছিলেন না তিনি ছিলেন যুগের সন্তান। আমার বিভিন্ন লেখা পড়ে তিনি সাথে সাথে ফোন করে পরামর্শ দিতেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, শাহ আবদুল হান্নানের অনেকগুলো গুণের মধ্যে অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য ছিল তিনি সব সময় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতেন। তার কাছে পুরুষদের নৈতিক বা চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি তিনি নারীদেরকেও ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে গড়ে তুলতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। সব বয়সের সব পেশার লোকজনের কাছেই তিনি ছিলেন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম বলেন, শাহ আবদুল হান্নানের সাথে আমাদের রক্তের কোনো সম্পর্ক ছিল না তবে তারা সাথে আমাদের ছিল আত্মার সম্পর্ক। আজ আমাদের দায়িত্ব হলো শাহ আবদুল হান্নান সাহেবের ভালো কাজগুলো সমাজে জারি রাখা। শাহ আবদুল হান্নানের জীবন ও কর্ম উচ্চতর গবেষণা করারও প্রস্তাব করেন তিনি। শোকসভায় বক্তারা বলেন, শাহ আবদুল হান্নানকে নিয়ে নতুন একটি ওয়েবসাইট চালু করতে হবে। সেখানে বিশ্বের ইসলামী বরেণ্য ব্যক্তিদেরও জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ওনার জীবন নিয়ে একটি গবেষণামূলক স্মারক গ্রন্থ প্রকাশেরও দাবি জানান।  বক্তরা আরও বলেন, শাহ আবদুল হান্নানের জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। বিরল চরিত্রের অধিকারী ও বহুমুখী প্রতিভা শাহ আবদুল হান্নানকে দল-মতের উর্ধ্বে উঠে বিশ্লেষণ করার মধ্য দিয়েই দেশ, জাতি ও মানুষ প্রকৃতভাবে উপকৃত হবে। বিশ্বে এখন মোরালিটি সবচেয়ে বড় সঙ্কট। মরহুম শাহ আবদুল হান্নান ছিলেন আমাদের কাছে মোরালিটির উদাহরণ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কুরআনিক চরিত্রের ব্যক্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ