মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু সর্বাত্মক লকডাউন

ইবরাহীম খলিল : আগামী পহেলা জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশব্যাপী শুরু হচ্ছে অনির্দিষ্টকালের জন্য কঠোর লকডাউন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে গতকাল শনিবার রাতে এই সিদ্ধান্ত আসে। তবে আগামীকাল সোমবার থেকে সীমিত আকারে লকডাউন শুরু হবে। বলা হচ্ছে, আগের যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে এবারের লকডাউন। শোনা যাচ্ছে, লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য নামানো হবে সেনাবাহিনী এবং বিজিবি। যদিও গতকাল এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। তবে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপন না হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। লকডাউন বাস্তবায়নে সচেতনতামূলক নানা প্রচারণামূলক কাজ করছেন ব্যাপকহারে। জনপ্রশাসনপ্রতিমন্ত্রী লকডাউনের বিষয়ে বলেছেন, লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী যান ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে শুধু যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার জানিয়েছেন, লকডাইনের সময় জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবেন না। তবে গণমাধ্যম লকডাউনের আওতা বহির্ভূত থাকবে।
‘কঠোর লকডাউন’ বলতে যে চিন্তাটি করা হয়েছে সেটা হলো, শুধু জরুরি সেবা ছাড়া আর কোনো কিছুই চলবে না। এখন যেমন কিছু কিছু বিষয়ে নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে, সেটি হয়তো তখন আর থাকবে না। বর্তমানে যে লকডাউন চলছে, সেখানে সব ধরনের গণপরিবহন চলছে। বাজার, শপিংমল খোলা রয়েছে। অফিস-আদালত, ব্যাংক, বিমা- সব কিছুই খোলা। বেসরকারি খাতেরও সব কিছুই খোলা। তবে ওষুধের দোকান, নিত্যপণ্যের দোকান জরুরি সেবার মধ্যেই পড়ে। তাই এগুলো লকডাউনেও খোলা রাখা যাবে। এ ছাড়া গতবারের মতো মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাইরে বের হওয়া যাবে কি না সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।
এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, আপাতত এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এটা বাড়ানো হতে পারে। তিনি আরও জানান, কঠোর লকডাউন চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে। থাকতে পারে সেনাবাহিনীও।
অপরদিকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণায় শনিবার সকাল থেকে নিত্যপণ্যের বাজারে ভিড় বেড়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, রায়ের বাজার, ধানমন্ডি, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ও সুপারশপে ক্রেতাদের ভিড় তুলনামূলক বেশি চোখে পড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, ৭ থেকে ১৪ দিনের মতো বাজার করছেন বেশির ভাগ ক্রেতা।
এ ছাড়া লকডাউনের ঘোষণায় এরই মধ্যে রাজধানীর ঢাকা ও আশপাশের জেলা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ছুটতে শুরু করেছেন অনেকেই। এ কারণে শনিবার সকাল থেকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটসহ দেশের অন্যান্য রুটেও যাত্রী, ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী গাড়ির চাপ বেড়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মমিনুর রহমান জানিয়েছেন, মহানগরীসহ চট্টগ্রামের পুরো জেলায় এবার লকডাউন অনেক কঠোর হবে। কেবলমাত্র জরুরি পরিষেবা ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না, আমরা এটি নিশ্চিত করা হবে।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, বিজিবি এবং আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠে থাকবেন। সেনাবাহিনী নামবে কিনা এটি এখনও নিশ্চিত নয়। মহানগর এলাকায় আমাদের মোবাইল কোর্টের ১২টি টিম, প্রত্যেক উপজেলায় তিনটি করে টিম কাজ করবে।
মমিনুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি যে ভ্যারিয়েন্টে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে; এটি মারাত্মক ধরনের ভ্যারিয়েন্ট। এই ভ্যারিয়েন্ট খুব দ্রুততার সঙ্গে ছড়ায়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার হাসপাতালগুলোতে যে পরিমাণ আইসিইউ, করোনা বেড আছে; সবগুলো ইতোমধ্যে ভর্তি হয়ে গেছে। সাধারণ বেডেও ৮০ শতাংশের বেশি রোগী ভর্তি। সংক্রমণের এই হারটা আরও বাড়লে চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। তাই আমরা বলবো, আপনারা সবাই মাস্ক পরিধান করুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। করোনা নিয়ে সচেতন হোন।
এদিকে দেশের অন্যান্যজেলাগুলোতেও কঠোর লকডাউন কার্যকরে নানা তৎপরতা শুরু করেছে বিভাগ এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ