শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

দলে দলে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ

লকডাউনের খবর শোনার পর ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। ছবিটি গতকাল শনিবার মাওয়া ঘাট থেকে তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আগামীকাল সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন; জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে। কঠোর লকডাউনের একদিন আগে রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অন্যতম বাহন হয়ে উঠেছে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল। উপায় না পেয়ে এসব বাহনে যাচ্ছেন যাত্রীরা। দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে এভাবে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। তারা কুরবানির ঈদের আগে আর ঢাকায় ফিরবেন না।
শনিবার সকাল থেকে গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় ঢাকা ছেড়ে যাবেন এমন মানুষের চাপ ছিল সেখানে। যারা রাজধানীর ছাড়ছেন তাদের অনেকেই নিম্নবিত্ত। ঢাকায় কাজ পাওয়ার কোনও আশা নেই, এ কারণেই দেশে গিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করবেন তারা। সব ধরনের দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই তারা রওনা হয়েছেন। আর প্রাইভেটকার সংশ্লিষ্টরাও ইচ্ছামতো ভাড়া হাকাচ্ছেন।
প্রাইভেটকারে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনের অভিযোগে বেশ কয়েকটি প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এসব প্রাইভেটকার গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন দূরপাল্লার গন্তব্যের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে বেশ কয়েকটি প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
এ বিষয়ে গাবতলী জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট সোহেল জানান, দূরপাল্লায় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কিছু প্রাইভেটকার পেয়েছি, যেগুলোতে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনের জন্য যাত্রী উঠানো হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে এলে আমরা সেসব প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
একই অবস্থা বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় যাওয়ার জন্য রাজধানী থেকে বের হওয়ার পয়েন্ট আবদুল্লাহপুর এবং টঙ্গি এলাকায়।
লকডাউন ঘোষণার পরে থেকে শিমুলিয়ায় ফেরিঘাটে মানুষের ঢল নামে। দলে দলে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে হাজারো মানুষ। যাত্রী চাপের কারণে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ১৬ ফেরির সব কটিই চলাচল করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি পরিসেবায় যানবাহনের পাশাপাশি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। তারপরও দুই পাড়েই শতশত যান পারাপারের অপেক্ষায়। রাজধানী ছাড়ার পাশাপাশি অনেকে আবার ঢাকাও ফিরছেন। এ ক্ষেত্রে দুই দিকেই চাপ বেড়েছে।
অপরদিকে, বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট থাকায় ঘাটে আসার আগেই যানবাহন ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারপরও শনিবার চাপ কমানো যাচ্ছে না। লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার বন্ধ থাকায় ফেরি করে যাত্রীরা গাদাগাদি করে পারাপার হচ্ছে। তবে গণপরিবহন না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যেতে পরিবার পরিজন নিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়ছে যাত্রীরা। এছাড়া ৩ নম্বর পন্টুন সংযোগ সড়ক বর্ষার পানি জমে দুর্ভোগ বেড়েছে।
এ বিষয়ে বি আইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ম্যানেজার মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, চাপ বেড়ে যাওয়ায় সবগুলো ফেরিই চলছে। তারপরও অপেক্ষারত যানের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। তিনি জানান, রাজধানী থেকে যেমন লোকজন ঘরে ফিরছে, আবার নানা প্রয়োজনে জরুরি কাজ সারতে রাজধানীতেও যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। তাই দুই দিকেই চাপ বেড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ