বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

বিভ্রম

আবির হাসান রাকিব:

তোমার ছাপোষা ভালোবাসায় সহানুভূতির মোহর লাগিয়ে আমার বুকের বা পাশের ব্যথাটা আর বাড়িও না। অনেক দিন হলো বুকের ব্যথাটা খুব যন্ত্রণা করছে। আজকাল আর চাইলেই হুটহাট চিঠি লিখতে বসে পড়তে পারি না। কি করবো বলো, এখন তো আর খুব ভালো দেখতে পাই না! সেদিন দুটো ভুল ওষুধ খেয়ে ফেলে কয়েকদিন ভুগতে হলো বেশ। অবশ্য হবেইনা কেন, বয়সতো আর কম হলো না। যাই হোক, ভাবছিলাম চশমাটা বদলে ফেলবো। কিন্তু অল্প বিস্তর অর্থসঙ্কটের জন্য ঠিক করা হয়ে উঠছে না। তোমার দেয়া ওই আংটিটা বিক্রি করে দিয়েছিলাম বেশ কয়েকমাস আগেই, যেটা তুমি আমায় বিয়ের পর প্রথম দিন দিয়েছিলে। কি খুশিই না হয়েছিলাম সেদিন, তোমার প্রথম উপহারে! তবে এখন তোমার স্মৃতি বলতে ওই মাফলারখানাই। তুমি কিছু ভেবো না, আমি মন খারাপ করিনি। সোনার আংটিখানাতে কি আছে! তুমিতো পাশেই আছো। জানো, আজকাল চিঠি পড়তে বসলেও অক্ষরগুলো কেমন যেন গুলিয়ে যায়। কেন যেন মনে হয় প্রতিটি চিঠিই চোখের জলে নোনতা করে পাঠিয়েছ, তাই অক্ষরগুলো এমন ঘোলাটে। আসলেই কি চোখের ভুল? নাকি... যাই হোক, টুকুনের দেশে ফিরে আসার কথা শুনে খুব উচ্ছ্বসিত হলাম। ও কি এখনও তোমার হাত ধরে পার্কে বেড়াতে যায়? নাকি তোমার হাতের ছোটো আঙুলটা এখন আর পথ চলতে প্রয়োজন হয় না? হবেই বা কি করে বলো? এখনতো ও অনেক বড় হয়েছে। যে নিজেই বিলাসবহুল গাড়িতে চড়ে ঘুরে বেড়ায় সে কি আর কুঁচকে যাওয়া চামড়ায় হাত রেখে ভরসা পাবে? যাক, তোমার পায়ের ব্যথাটা কমেছে তো! কে মালিশ করে দেয়? রোজ রাতেই কি ব্যথা হয়? আমি তো কখনোই ব্যথাটা বাড়তে দিতে চাইতাম না। কিন্তু তুমি নিশ্চয়ই তোমার পুরোনো খামখেয়ালির অভ্যাসবশত এখনও কষ্ট পাচ্ছো। ওরকম করো না। ঘুমিয়ে পড়ার পর গায়ে চাদরটাকে টেনে দেয়? টুকুন? নিয়মিত ওষুধগুলো তিনবেলা দেয় তো? প্রেশারটা এখন কেমন? তেলাপিয়ার মাথাটা খাওতো এখনও? নাকি জড়তা হয় নিজেকে বোঝা ভেবে? ওরকম কিছু ভেবো না। টুকুন তোমায় বড্ড ভালোবাসে। নিজের একটু যতœ নিও। এত চাপা স্বভাবের হলে কি করে হয় বলো? এখানে আমি ভালোই আছি বলতে পারো। এখানকার সবাই বেশ ভালো আর আন্তরিক। খুব যতœ করে বুয়াটা। মাঝে মধ্যে একটু বিরক্ত হয়। তা আমি কিছু মনে নিই না। শুধু মাঝেমাঝে পাশের রুমের ভদ্রমহিলা একটু বাজে বকে। তবে তাতেও আমি কিছু মনে করি না। আমিতো জানিই, ওরকম বয়স হলে সবাই-ই একটু আধটু বকে। কি বলে শুনবে? হা হা। বলে তুমি নাকি আর এ পৃথিবীতে নেই। আমি অযথাই কষ্ট করে ভাঙা চশমায় চিঠি লিখে সময় নষ্ট করি। তোমাকে নাকি সাত বছর আগেই পারিবারিক কবরস্থানে শুইয়ে দিয়ে আসা হয়েছে। আমি নাকি শেষ বয়সে বিভ্রান্তি নিয়ে বেঁচে আছি। হা হা! কি পাগল বলোতো! তুমি না থাকলে প্রতি জোছনায় কিভাবে ঘুরে বেড়াই তোমার হাত ধরে? আমি কি ভুল দেখতে পারি? যত যাই হোক, তোমার গায়ের গন্ধটাতো আর ভুল হতে পারে না। কি যে বলবো! ওর আসলেই প্রলাপ বকার রোগটা ধরে গেছে। বৃদ্ধাশ্রমে আসলে যে অবস্থা হয় আর কি অনেকের! যাই হোক! ভালো থেকো। আর অত দেরি করে করে চিঠি দিও না। একটু জলদি দিও। তোমার মাফলারটা যতেœ তুলে রেখেছি। আবার যখন শীতের সন্ধ্যায় আসবে এটা জড়িয়েই ব্যালকনিতে ঘুরে বেড়াবো। কেমন!!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ