সোমবার ২৯ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

আশরাফুলের ব্যাটিংয়ে আবাহনীকে হারালো শেখ জামাল

স্পোর্টস রিপোর্টার : এবার মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাটিংয়ে চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে হারল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। লিটন দাসের দুর্দান্ত ইনিংসে শেখ জামালকে ১৭৪ রানের টার্গেট দিয়েছিল আবাহনী লিমিটেড। টি-টোয়েন্টিতে যা চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যই। মিরপুর শের-ই-বাংলার উইকেট ধরলে তো আরও কঠিন। গতকাল মিরপুরে সেই কঠিনকে সহজ করে ফেললেন আশরাফুল। যেন ফিরে গেলেন সেই পুরোনো দিনে। মাঠের চার দিকে দারুণ সব শট। আগের ইনিংসে ৫১ বলে ৭০ রানের ইনিংসে আবাহনীর ত্রাতা হয়েছিলে লিটন। তাকে ছাপিয়ে নায়ক আশরাফুল। ৪৮ বলে ৭২ রানের অপরাজিত ইনিংসে আবাহনীর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমীকরণ কঠিনই হয়ে গেলো। আশরাফুল নায়ক হলে পার্শ্ব-নায়ক নুরুল হাসান সোহান-নাসির হোসেন। দুজনেই ২২ বলে সমান ৩৬ রানের ছোটখাটো ঝড় তুলে ফেরেন সাজঘরে। যার জন্য আশরাফুলের কাজটা আরও সহজ হয়ে যায়। আর শেষ দিকে দিকে জিয়াউরের ৯ বলে ২২ রানের ঝড়ে ৯ বল হাতে থাকতেই দ্রুত জয় পায় শেখ জামাল। আগের ম্যাচে আশরাফুলের ধীরগতির এক ইনিংস প্রায় ডোবাতেই বসেছিল শেখ জামালকে। মোহামেডানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৪২ বলে ৩৮ রান করে মোহাম্মদ আশরাফুল যখন সাজঘরে ফিরছিলেন, দলের ওপর তখন পাহাড়সমান চাপ। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, রানের সঙ্গে বলের দিকে নজর না রাখলেই বিপদ। আশরাফুল ওই ম্যাচে বেশ কয়েকটি চোখ ধাঁধানো শট খেললেও টি-টোয়েন্টির সঙ্গে ঠিক মানানসই ছিল না তার ইনিংসটা। আশরাফুলের ধীরগতির ইনিংসের পর শেখ জামালের মাথার ওপর চেপে বসে শেষ ৬ ওভারে ৫০ রানের কঠিন লক্ষ্য। চাইলেই বলেকয়ে এমন লক্ষ্য পাড়ি দেয়া যায়? ভাগ্য ভালো। শেখ জামালের দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়নি নুরুল হাসান সোহান (৩১ বলে ৩৬) আর তানবীর হায়দার (১৭ বলে ৩২) দারুণ দুটি ইনিংস খেলে দেয়ায়। কিন্তু যদি তারা এভাবে ঝড়োগতিতে রান তুলতে না পারতেন, তবে কি হতো! ম্যাচটা হাত থেকে ছুটে গেলে দায়টা যে আশরাফুলের ওই ধীরগতির ইনিংসটার ওপরই পড়তো, সেটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু সেই আশরাফুলই ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই দেখা দিলেন স্বরুপে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা দেখিয়ে দিলেন, বয়সটা ৩৭ ছুঁইছুঁই হলেও টি-টোয়েন্টির সেই মারকাটারি ব্যাটিংটা ভুলে যাননি। এখনও দেড়শর ওপর স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করার সামর্থ্য তার আছে। সামর্থ্য আছে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার। বলতে গেলে একাই তো। শুধু ব্যাটে ঝড়ই তুললেন না, এবার দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়লেন আশরাফুল। তার ৪৮ বলে গড়া ৭২ রানের হার না মানা এক ইনিংসেই মিরপুরে সুপার লিগের ম্যাচে আবাহনীকে ৬ উইকেট আর ৯ বল হাতে রেখে হারিয়েছে শেখ জামাল। সাইফউদ্দিনের করা বল লং অনে বাউন্ডারির ওপর দিয়ে আছড়ে ফেললেন জিয়াউর রহমান। শূন্যে ঘুষি ছুড়লেন নন-স্ট্রাইকে থাকা মোহাম্মদ আশরাফুল। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ক্রিকেটার-স্টাফরা ছুটে আসলেন মাঠের ভেতর। আবাহনীর বিপক্ষে এই জয়ে মাঠে আশরাফুলের উচ্ছ্বাস যেন থামেছেই না। গতকাল ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন, খেলেছেন একদম শেষ পর্যন্ত। ১২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে টেনে নেয়া, সেটাও আবার ১৭৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে। আশরাফুল সব কিছু মাথায় নিয়েই খেলেছেন, ঢেলে দিয়েছেন অভিজ্ঞতার সবটুকু। ৩৬ বলে ফিফটির ঘর যখন ছুঁয়েছেন, তখনও শেখ জামালের ৬ ওভারে দরকার ৫৪ রান। এর দুই ওভার পরই (১৭তম ওভারের প্রথম বলে) আউট হয়ে যান ঝড় তুলে দলকে এগিয়ে নেয়া নুরুল হাসান সোহান (২২ বলে ৪ চার, ৩ ছক্কায় ৩৬)। কিন্তু আশরাফুল মাথা গরম করেননি। জিয়াউর রহমান উইকেটে এসে মারমুখী ব্যাটিং শুরু করলে তাকেও সঙ্গ দিয়েছেন। ৯ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় জিয়া শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২২ রানে। আশরাফুলের ৪৮ বলে ৭২ রানের ইনিংসে ছিল ৮ চার আর ২ ছক্কার মার। মাঝে ছোটখাটো এক ঝড় তুলেছিলেন নাসির হোসেনও। ২২ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৩৬ রান করে লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের শিকার হন তিনি। শেখ জামালের এই জয় যেন তারুণ্য ও অনভিজ্ঞতার বিপক্ষে অভিজ্ঞতার জয়। আবাহনী শেষদিকে নির্ভর করেছিল তাদের দুই তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব আর মেহেদি হাসান রানার ওপর। কিন্তু অনভিজ্ঞ দুই পেসার অভিজ্ঞ আশরাফুল, সোহান, জিয়াদের মন পড়তে পারেননি। তাদের স্লোয়ার এবং শর্ট বলগুলোকে পেছন থেকে সময় নিয়ে খেলে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসি হেসেছে শেখ জামাল। এর আগে লিটন দাসের ৫১ বলে ৭০ আর নাইম শেখের ২৮ বলে ৪২ রানের মারকুটে দুটি ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেটে ১৭৩ রান তুলেছিল আবাহনী। কিন্তু এমন পুঁজিও যথেষ্ট হলো না আশরাফুল-জিয়াদের অভিজ্ঞতার সামনে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ