বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

চট্টগ্রামে ২৪৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত

 

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় নুতন আরও ২৪৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ৫৬ হাজার ৮৮০ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার  সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এইদিন চট্টগ্রামে ১০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১৫৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বি আইটিআইডি) ৩৯৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্ত হয় ৪৬ জন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ১০৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ১৭০টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়।এছাড়া, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাব ৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৮ জন, শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ১৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৯ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৪৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৪ জন, জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ১৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭ জন এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে।তবে এদিন এপিক হেলথ কেয়ার ল্যাবে কোনো নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। এছাড়া কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ৮ নমুনা পরীক্ষা করে কারো শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।  সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৬২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪৭ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নগরে ১২৩ জন এবং উপজেলায় ১২৪ জন। 

এদিকে  চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৮৮০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনায় চট্টগ্রামে মারা গেছেন মোট ৬৬৬ জন।জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৬২ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে নগরের ১২৩ জন। নগরের বাইরের বিভিন্ন উপজেলার ১২৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিটি শহরের বাসিন্দা।আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ৭১ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ২৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। পরীক্ষার তুলনায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ২২ শতাংশ। এদিন চট্টগ্রামে করোনায় তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তার আগের দিন চট্টগ্রামে ৯৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।পরীক্ষায় ১৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ছিল ১৯ শতাংশের বেশি। সেদিন চট্টগ্রামে করোনায় চারজন মারা যান।চট্টগ্রামে গত বছরের ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ৯ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম কোনো ব্যক্তি মারা যান।

এদিকে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মেডিক্যাল অক্সিজেনের চাহিদা। সংকট মোকাবেলায় আবুল খায়ের গ্রুপ মেডিক্যাল অক্সিজেন সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করেছে।সিভিল সার্জন বা জেলা প্রশাসকের চাহিদাপত্র অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় লিকুইড (তরল) অক্সিজেন সরবরাহ করছে এ শিল্পগ্রুপের একেএস লিমিটেডের অক্সিজেন প্লান্ট।  

চট্টগ্রামের একেএস লিমিটেডের এজিএম মো. শামসুদ্দোহা  জানান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আবুল খায়ের গ্রুপ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ব্যক্তি পর্যায়ে ১৮ হাজারের বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার বিনামূল্যে রিফিল করে দিয়েছে। প্রতিটি ১০-২২ হাজার টাকা দামের ৫ হাজারের বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার গ্যাসসহ  বিভিন্ন হাসপাতাল ও করোনা আইসোলেশন সেন্টারকে অনুদান দিয়েছে।  তিনি জানান, করোনায় অক্সিজেন সংকট শুরুর পর প্রথম দিকে আমরা ১ দশমিক ৪ কিউবিক মিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করেছি। পরে ৭ দশমিক ৫ কিউবিক মিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করি।   তিনি বলেন,  ২০২০ সালে বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলায় অতি জরুরি অক্সিজেনের প্রয়োজনে একেএস প্ল্যান্টে উৎপাদিত অক্সিজেন জনস্বার্থে উন্মুক্ত করে দেয় আবুল খায়ের গ্রুপ। প্রতিদিন ২৬০ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের বৃহত্তম এ অক্সিজেন প্লান্ট থেকে নিয়মিত হাসপাতালগুলো মেডিক্যাল অক্সিজেন সংগ্রহ করছে। এর মধ্যে ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বি আইটিআইডি), আগ্রাবাদের মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল, আন্দরকিল্লার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঢাকা, ভাটিয়ারি, রামু, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন সেনানিবাসের হাসপাতাল, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল, জয়পুরহাট, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, বরিশাল, নাটোর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও  ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালের অক্সিজেন রিফিল করেছি আমরা। আবুল খায়ের গ্রুপের নিজস্ব উদ্যোগে ২০টি হাসপাতালে বিনামূল্যে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষের প্রয়োজনে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আবুল খায়ের গ্রুপের প্রচেষ্টা চলমান থাকবে জানান তিনি।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ