বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

রাজধানীর ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে কোম্পানির অধীনে বাস চলবে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত কোম্পানির মাধ্যমে বাস চলাচল শুরু হবে। গতকাল  বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। নগরীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন মেয়র। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব রুটে এ পদ্ধতিতে বাস চলবে।

অবশ্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত বাস রুট রেশনালাইজেশনের ১৪তম সভা শেষে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঘোষণা দিয়েছিলেন চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে এই রুটে বাস চালু হবে। কিন্তু পূর্ব ঘোষিত সময়ে আর বাস চলাচল শুরু হয়নি।

এ প্রসঙ্গে গতকাল কমিটির ১৭তম সভা শেষে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, করোনা মহামারির কারণে গত ১ এপ্রিল থেকে এই রুটের বাস চালু করা সম্ভব হয়নি। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই রুটে বাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে কমিটির ১৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি শেখ ফজলে নূর তাপস। কমিটির বাকি সদস্যদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, রাজউক, বি আরটিসি, বি আরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার গণপরিবহনের মালিক দুই হাজারের বেশি। ঢাকা ও আশপাশের ২০০- এর অধিক রুটে বাস চলাচল করে। যাত্রী তোলার জন্য এক বাসের চালক অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। এই ব্যবস্থা পরিবর্তনে ২০০৪ সালে ঢাকার জন্য করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনায় বাস রুট রেশনালাইজেশন বা বাস রুট মেসেজের ফ্র্যাঞ্চাইজি চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য লক্কড়ঝক্কড় বাস তুলে দেওয়া, সহজ শর্তের ঋণে নতুন বাস নামানো। এই পদ্ধতিতে পুরো ঢাকায় বাস চলবে কয়েকটি কোম্পানির মাধ্যমে। মালিকেরা বিনিয়োগের হার অনুসারে লভ্যাংশ পাবেন।

সভা শেষে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘ঘাটারচরে একটি বাস ডিপো নির্মাণ করার জন্য আমরা দুই মেয়র জায়গা পরিদর্শন করেছি। সেখানে আমরা প্রায় ১২ বিঘার মতো জমি শনাক্ত করতে পেরেছি। সেই জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে একটি বাস ডিপো নির্মাণ করা হবে। আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে এর কার্যক্রম শুরু করব। এ ছাড়া যাত্রীদের জন্য বাস-বে ও যাত্রীছাউনি নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

মেয়র আরও বলেন, যাঁরা বাস পরিচালনা করবেন, তাঁদের সঙ্গে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই চুক্তিসংক্রান্ত একটি নীতিমালাও তৈরি করা হয়েছে। আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করতে বাস মালিকপক্ষ ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ জুলাই সেই চুক্তি সম্পাদন হবে।

তাপস বলেন, ‘ঢাকার বাইরে চারটি জায়গায় আন্তজেলা বাসগুলোর জন্য টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই কার্যক্রম যেন দ্রুত করা যায়, সে জন্য আমাদের বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।’ টার্মিনালগুলোর জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলো হচ্ছে হেমায়েতপুর, ভাটুরিয়া, বাঘাইর ও কেরানীগঞ্জ। রুটগুলোতে বাস কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করেছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে ১ হাজার ৬৪৬টি বাস কোনো প্রকার রুট পারমিট ছাড়া চলাচল করছে। এসব বাসের জন্য নগরীতে সীমাহীন যানজট লেগে থাকে। এই বাসগুলো চলতে দেওয়া হবে না। আগামী ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও বি আরটিএ অভিযান পরিচালনা করবে। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ