রবিবার ২৮ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

রাজশাহী মেডিকেলে করোনায় একদিনে ১৮ জনের মৃত্যু ॥ শনাক্ত ১৮৮

 

রাজশাহী অফিস: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে একদিনে আরো ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত এটিই এই হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী। যাদের ৮ জনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার মধ্যে বিভিন্ন সময় এই মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর ১৩ জন, চাঁপাইনবাগঞ্জের একজন, নওগাঁর ৪ জন। এদের মধ্যে ৪ জন মারা যান আইসিইউতে। মৃতদের মধ্যে ৬ জনের বয়স ৬১ বছরের উপরে। বাকিদের মধ্যে ৫ জন ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৩ জন ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং ৪ জন ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে। এ নিয়ে চলতি মাসের গত ২৪ দিনে এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ২৬০ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ১২১ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯৩ জন। এর আগে সবচেয়ে বেশি মারা যান গত ৪ জুন ও ২৩ জুন ১৬ জন এবং সবচেয়ে কম ১২ জুন চারজন।

শনাক্ত ফের বাড়ছে 

টানা চারদিন কমার পর রাজশাহীতে ফের বাড়ছে ভাইরাস শনাক্তের হার। বুধবার দুটি ল্যাবে রাজশাহীর ৩৮০ নমুনা পরীক্ষা করে ১২৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। যা আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। যা আগের দিন মঙ্গলবার ছিল ৩৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর আগে সোমবার ছিল ৩৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। শামীম ইয়াজদানী জানান, বুধবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পৃথক ল্যাবে ৬৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে ১৮৮ জনের। রাজশাহী ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯১ নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। আর নওগাঁর ১৮৩ নমুনার মধ্যে পজেটিভ এসেছে ৫০ জনের। 

ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর

রাজশাহীতে এখনো করোনা পরীক্ষা করতে অনাগ্রহ আছে মানুষের মাঝে। সঠিক সময়ে করোনা পরীক্ষা করানো গেলে আক্রান্তের হার আরো বাড়বে। তবে একেবারে শেষ দিকে এসে পরীক্ষা করানোর কারণে আক্রান্তের হার এখনো কম দেখাচ্ছে। কিন্তু প্রতিদিন যে হারে জ্বর-সর্দি আক্রান্ত রোগী আসছে, তাতে অধিকাংশই করোনা আক্রান্ত রোগী বলেও ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। আর এসব রোগীতে ভরে যাচ্ছে রাজশাহীর হাসপাতাল। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন জ্বর-সর্দিজনিত যে হারে রোগী পাচ্ছি, তাতে অধিকাংশই করোনা আক্রান্ত। এরমধ্যে গ্রামের রোগীই বেশি। ফলে ধরে নিতে হবে গ্রামের জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত অধিকাংশরাই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কোনো এলাকায় কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে আমরা সেটিকে সামনে রেখেই চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি।’

লকডাউন চলছেই

সংক্রমণ ও মৃত্যু না কমায় রাজশাহী মহানগরীতে লকডাউন অব্যাহত রয়েছে। এদফায় ৩০ জুন পর্যন্ত এই লকডাউন চলার কথা রয়েছে। এই লকডাউনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক দোকানপাট ও যানবাহন চালু থাকে। সন্ধ্যেয় নগরী হয়ে যায় নিস্তব্ধ। সড়কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ