রবিবার ২৮ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে এখনো পলাশীর মতো ষড়যন্ত্র চলছে

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঐতিহ্য সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়-সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: পলাশী ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে আর কোন পলাশী নয় শীর্ষক আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, পলাশীর মতো এখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র চলছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং পলাশী থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার ঐতিহ্য সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এইসব কথা বলেন। দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, কবি আব্দুল হাই সিকদার, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এডভোকেট জালাল উদ্দিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ( ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। 

প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, পলাশীর প্রান্তরের বিশ^াস ঘাতক মীর জাফর ও ঘষেটি বেগমরা বেঁচে না থাকলেও আজ তাদের বংশধর কুশিলবরা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রকে আধিপত্যবাদীদের পদতলে সমর্পণ করেছে। পলাশী থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশবিরোধী শক্তিকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ১৯৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বিশ্বাসঘাতকদের কারণে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়েছিল ১৯০ বছরের জন্য। ইস্ট ইন্ডিয়ার ফাঁদে পড়ে বিশ্বাসঘাতক চক্র শুধু দেশের স্বাধীনতাই বিকিয়ে দেয়নি, ভারতে ইংরেজ শাসনের পটভূমিও সৃষ্টি করেছিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ চিন্তা না করে সন্ধি ও চুক্তি করলে যে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে পলাশী আমাদের সামনে সেই শিক্ষা হয়ে আছে। বিশ্বাসঘাতকদের প্রতি ক্ষমা যে বিপদ ডেকে আনে, তারও শিক্ষা রয়েছে পলাশী ট্র্যাজেডির মধ্যে।

কবি আব্দুল হাই সিকদার বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র চলছে। তাই সকল জাতীয়তাবাদী ইসলামিক মূল্যবোধের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজও থেমে নেই পলাশীর সেই ষড়যন্ত্র। এখনো ভিন্ন নামে মীরজাফর, ঘষেটি বেগম, জগৎশেঠরা দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা আর ন্যায্যপ্রাপ্তি নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। পলাশীর ইতিহাস তাই আমরা ভুলে যেতে পারি না। পলাশী ফিরে আসে বারবার নতুনরূপে। ষড়যন্ত্রকারী-চক্রান্তকারীরা তৎপর। সুতরাং আমাদের সজাগ ও তৎপর হতে হবে। যে কোনো মূল্যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বাতন্ত্র্য সুরক্ষা করতে হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ট্রাজেডি এই যে, প্রচন্ডক্ষমতালোভী ও জাতীয়তাবিরোধী মীর জাফরের প্রেতাত্মারা বারবার গোর থেকে উঠে আসে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাদের উত্তরসূরীরাও একই আচরণ অব্যাহত রাখে। তারা এ দেশকে ‘কলোনি’ বানাবার স্বপ্নে বিভোর। তাই পলাশীর চেতনার নির্যাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে কারো নাম মীর জাফর না থাকলেও, মীর জাফরদের কাজ আমাদের মধ্যে চালু আছে। নবাবদের অনুগ্রহ পাওয়া জগৎশেঠ, রাজা রায় দুর্লভ, উমি চাঁদ প্রমুখ হিন্দু সমাজপতি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে অপসারণ করার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের সাথে আঁতাত করেন। নবাব করার জন্য প্রস্তাব দিয়ে তারা মীর জাফর আলী খানকে দলে টানেন। বাংলা থেকে ৫৫৪ বছরের মুসলিম শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য বর্ণবাদী হিন্দু নেতারা ইংরেজদের শরণাপন্ন হয়ে সাহায্য কামনা করেন। পলাশীর ঘটনা আমাদের জাতিসত্তার বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্র এখনো চলমান আছে। পলাশী থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের জাতিসত্তার বিরুদ্ধে চলমান সব ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে সংগঠিত যুদ্ধটি ছিল মূলত যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। ৩ জুলাই বাংলার স্বাধীন শাসক নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রকারীরা মুসলিম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। ফলে স্বাধীনতা হারিয়ে ১৯০ বছর বাংলা ছিল ব্রিটিশদের শাসনাধীন। দেশে আজ গণতন্ত্র নেই, জনগণের ভোটাধিকার পদদলিত। এ পরিস্থিতিতে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তি বাংলাদেশকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে না পারলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় ঐতিহাসিক পলাশীর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, পতাকা-মানচিত্র, স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষায় সব দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যে গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, পলাশীর বিপর্যয় তখনই ঘটেছিল যখন অর্থনীতির ওপর থেকে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে গিয়েছিল। পলাশীর ট্র্যাজেডির জন্য যতটা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি দায়ি ঠিক ততটাই নবাবের কাছের লোকেরাও দায়ী। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যের নামে এ দেশে প্রবেশ করে অবশেষে দেশের স্বাধীনতা হরণ করেছিল। বাণিজ্যের নামে কেউ যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে না পারে সে ব্যাপারে বর্তমান সরকারসহ সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে সজাগ থাকতে হবে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ