মঙ্গলবার ৩০ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনায় আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগের নামে প্রতারণা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের  

খুলনা অফিস : আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে চাকরি দেয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সরোজিৎ বাইন। দায়েরকৃত মামলার পর কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক হোসেন হেমায়েতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে কেএমপির খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন। খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে (খালিশপুর) দায়েরকৃত একটি মামলায় গত ২৭ মে ওই গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। যার নম্বর খালিশপুর সিআর-৫৯/২১ এবং মামলা নম্বর ৩৫২/২১। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মহেশ^রীপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও নগরীর খালিশপুর থানাধীন বড় বয়রা পালপাড়া রোডের বাসিন্দা বিভুতী ভুষন বাইনের ছেলে সরোজিৎ বাইন এ মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে খুলনা জজকোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমন খান গত বছর (২০২০) ২৬ নভেম্বর ফারুক হোসেন হেমায়েতের বিরুদ্ধে একটি লিগ্যাল নোটিশ দেন। লিগ্যাল নোটিশ ও মামলার আরজিতে কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক হোসেন হেমায়েতের বিরুদ্ধে বাদীর কাছ থেকে চাকরি দেয়ার নামে সাড়ে তিন লাখ টাকা গ্রহণ এবং নিয়োগ পত্র দেয়ার পরও সংশ্লিষ্ট স্থানে যোগদান করতে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

মামলার আরজিতে বলা হয়, কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লিমিটেড’র আওতায় পিয়ন পদে চাকরির জন্য বিবাদীর নগরীর খালিশপুর থানাধীন বয়রা জংশনের ৪৮ নম্বর বাড়ির মোল্লা রহিম মঞ্জিলের অফিসে বাদী গেলে চাকরির সিকিউরিটি হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বাদী সাড়ে তিন লাখ টাকা দিতে রাজী হলে বিবাদী তাকে চাকরি দিতে সম্মত হন। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ জুন বিবাদীর উক্ত ঠিকানায় বসে বাদী সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রদান করেন। এসময় বিবাদীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্যাডে এ ব্যাপারে একটি অঙ্গীকারনামাও প্রদান করেন। একইসাথে ওই বছরের ২ জুলাই কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লিমিটেড এর প্যাডে বাদীকে পিয়ন পদে চাকরির জন্য একটি নিয়োগপত্র দেয়া হয়। বাদী নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট অফিসে চাকরিতে যোগদান করতে গেলে সেখান থেকে বলা হয়, ওই পদে আগে থেকেই লোক আছে। এমনকি তার যোগদানপত্র গ্রহণ না করে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। উপায় না পেয়ে সরোজিৎ বাইন পরে ফারুক হোসেন হেমায়েতের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তাকে এই বলে আশ^স্ত করেন যে, ‘অসুবিধা নেই, কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে’। এভাবে কয়েক মাস ঘুরানোর পরও তাকে কোন প্রকার চাকরি না দিয়ে ছলচাতুরি করা হয়। এক পর্যায়ে গত বছর ২৬ নভেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে ফারুক হোসেন হেমায়েতকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু ওই লিগ্যাল নোটিশের জবাব না দেয়ায় সর্বশেষ গত ৪ মার্চ তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করা হয় এবং বলা হয় ‘পারলে টাকা আদায় করে নিস’।

এরপর উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতে ৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয়।

এ ব্যাপারে কেএমপির খালিশপুর থানার অফিসার ইনর্চার্জ(ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা থানায় পৌঁছেছে। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং সার্ভিসেস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক হোসেন হেমায়েত বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য না। তিনি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেননি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ