মঙ্গলবার ৩০ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফিক্সড ডিপোজিট রাখতে পারবে না ব্রোকার হাউজ

 

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যভুক্ত কোনো ব্রোকার হাউজ বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবের অর্থ ব্যাংক কিংবা আর্থিকপ্রতিষ্ঠানসহ অন্য কোথাও ফিক্সড ডিপোজিট করতে পারবে না। এদিকে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা বিও হিসাবে টাকা রাখলে সুদ পাবেন। তবে সব বিনিয়োগকারী এই সুদ পাবেন না। যে বিনিয়োগকারী তার বিও হিসাবে আর্থিক বছরের ন্যূনতম এক মাস ধারাবাহিকভাবে ১ লাখ টাকার ক্রেডিট ব্যালেন্স রাখবেন, তিনি সুদ আয় পাওয়ার যোগ্য হবেন।

এমন একটি নির্দেশনা জারি করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত মঙ্গলবার ব্রোকারহাউজ এবং স্টক এক্সচেঞ্জগুলো পেয়েছে। সার্কুলারে বিনিয়োগকারীদের অর্থ থেকে সুদ বাবদ যে লাভ হয়, তা তাদের মধ্যে বিতরণের জন্য ব্রোকার হাউজগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এই নির্দেশনা জারি করেন গত সোমবার সন্ধ্যায়। চেয়ারম্যান সাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে যে টাকা জমা হয়। সে টাকার সুদের লাভের ভাগ বিনিয়োগকারীদের দিতে হবে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অর্থের সুদ থাকলে সেগুলোও স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারী প্রটেকশন ফান্ডে জমা দিতে হবে। আর এটা দিতে হবে অর্থবছর শেষ ৩০ দিনের মধ্যে।

উল্লেখ্য, দুই পুঁজিবাজারে মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২৫০টি ব্রোকার হাউজ রয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের রয়েছে দেড় শতাধিক ব্রোকার হাউজ। তাতে ২৬ লাখের মত বিও হিসাব রয়েছে। এছাড়াও নতুন করে ডিএসইতে যুক্ত হচ্ছে আর ৪৬টি ব্রোকার হাউজ। এতে সাড়ে ৪ শতাধিক ব্রোকার হাউজ হবে পুঁজিবাজারে। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা বিও হিসাবে টাকা রাখলে সুদ পাবেন। তবে সব বিনিয়োগকারী এই সুদ পাবেন না। যে বিনিয়োগকারী তার বিও হিসাবে আর্থিক বছরের ন্যূনতম এক মাস ধারাবাহিকভাবে ১ লাখ টাকার ক্রেডিট ব্যালেন্স রাখবেন, তিনি সুদ আয় পাওয়ার যোগ্য হবেন। এছাড়া কোনো গ্রাহকের হিসাবে এক আর্থিক বছরে কমপক্ষে ৫০০ টাকা সুদ আয় জমা হলে, তিনি সুদ আয় পাবেন। ব্রোকারেজ হাউসে বিও হিসাবে জমা করা অর্থের বিপরীতে যে সুদ আয় হয়, তা বিনিয়োগকারীদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দিয়ে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সোমবার জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্রোকারেজ হাউসগুলো সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে জমা করা অর্থের কারণে ব্যাংক থেকে যে সুদ অর্জিত হয়, তা বিনিয়োগকারীদের মাঝে আনুপাতিক হারে বিতরণ করতে হবে। তারপরেও কোন অবণ্টিত সুদ থাকলে, তা স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারী প্রটেকশন ফান্ডে জমা দিতে হবে। যা প্রতি অর্থবছর শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দিতে হবে। এজন্য প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউসকে সমন্বিত গ্রাহক হিসাব রক্ষণা-বেক্ষণ করতে হবে। তবে এই হিসাবের কোনো অর্থ ফিক্সড ডিপোজিট করা যাবে না।

এদিকে মাসিক ভিত্তিতে প্রতিটি স্টেকহোল্ডার কোম্পানির সমন্বিত গ্রাহক হিসাব তদারকির জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠিতে ট্রেকহোল্ডার কোম্পানির সমন্বিত গ্রাহক তদারকিতে ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ আনুষঙ্গিক ডকুমেন্টস মাসিক ভিত্তিতে যাচাই করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বানকো সিকিউরিটিজে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনার পরে বিএসইসি এই উদ্যোগ নিল। এই ব্রোকারেজ হাউসটিতে গ্রাহকদের সমন্বিত হিসাবে ৬০ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের। যে কারণে হাউসটির লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ