রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১
Online Edition

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হলো বাংলাদেশের ৫০০০০ ডলার

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ সরকারের দেয়া ৫০ হাজার ডলার ফিলিস্তিন সরকারের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য সাহায্য হিসেবে পাঠানো ওষুধসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়েছে। জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র এ তথ্য জানায়। এদিকে ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিয়ে গড়ে ওঠা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) নীতিগত পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গত মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি ফিলিস্তিন সম্পর্কিত ন্যাম কমিটির মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নিয়ে এ পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জর্ডানের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অর্থ ও ওষুধসামগ্রী ফিলিস্তিনকে দেয়া হয়েছে। জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান গত ২১ জুন জর্ডানে ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে জর্ডান হাশেমাইট চ্যারিটি সংস্থার মহাসচিবের কাছে বাংলাদেশ সরকারের এই সাহায্য হস্তান্তর করেছেন। ফিলিস্তিনিদের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর জন্য জর্ডান হাশেমাইট চ্যারিটি ফাউন্ডেশনই একমাত্র সংস্থা যারা জর্ডান সরকার ও দখলদার ইসরাইলী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাপ্ত সহায়তা ফিলিস্তিত ভূখণ্ডে পৌঁছে দেয়।
বাংলাদেশের বিকন গ্রুপ থেকে প্রাপ্ত ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর থেকেই ফিলিস্তিন বিষয়ে বাংলাদেশ সর্বদা সোচ্চার। ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতি সব সময়য়েই সহমর্মিতা পোষণ করে আসছে। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে প্রদত্ত তার প্রথম ভাষণেও ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতি একাত্মতা পোষণ করে সব দখলদারিত্বের অবসানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারই ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন।  
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া সহায়তা ফিলিস্তিনী জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য জর্ডান সরকার ও হাশেমাইট চ্যারিটি ফাউন্ডেশানকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাশেমাইট চ্যারিটি ফাউন্ডেশানের মহাসচিব ড. হুসেইন শিবলি ওষুধসামগ্রী পাঠানোর জন্য বিকন গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মুসলিম ভ্রাতৃত্বের অনন্য নজির হিসেবে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া চিকিৎসা সহায়তা ফিলিস্তিনি জনগণের মানসিক শক্তিকে দৃঢ় করবে। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক উদারতার কথা উল্লেখ করে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্রতিনিধি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জনক শেখ মুজিবুর রহমান ফিলিস্তিনীর অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। মানবিক আদর্শের দুই মহান নেতার উত্তরসূরিরা আজও উভয় দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ধরে রেখেছেন। বাংলাদেশ তার আদর্শিক অবস্থান ও ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য সেদেশের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন নিরাপদ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল বাহিনী কর্তৃক সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি এবং নির্বিচারে তাদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ সময় তিনি ফিলিস্তিন সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ফিলিস্তিনের সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম ও নীতি লঙ্ঘন করায় ন্যামকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। মোমেন বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক চলমান তদন্তে ন্যামের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সঙ্কটের ন্যায়সঙ্গত, টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ন্যামকে তার প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে। এ সময় মোমেন ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্মরণীয় সমর্থনের কথা স্মরণ করেন। তিনি ফিলিস্তিনের স্থিরতা, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বে বাংলাদেশের সংহতি ও অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ভার্চুয়াল বৈঠকে ড. মোমেন ফিলিস্তিনের জরুরি মানবিক চাহিদা মেটাতে ন্যামকে কোভিড-১৯ টিকা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান। বৈঠকে ফিলিস্তিন, ইন্দোনেশিয়া, আলজেরিয়া, কিউবা, মিশর, জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ