সোমবার ২৬ জুলাই ২০২১
Online Edition

আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন -পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বাংলদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ বছর ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের পুরোনো এই সংগঠনটি। গতকাল বুধবার সকালে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে সব নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শত প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগকে আজ অত্যন্ত মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ্যই হলো দেশকে ‘সোনার বাংলাদেশ’ এবং বাঙ্গালিদের বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর  সকাল ৯ টায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় এ সময় দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও শাজাহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি,  তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড.আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কৃষি ও সমাবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুননাহার লাইলী, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় নেতাকর্মীদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ‘শুভ শুভ শুভ দিন আওয়ামী লীগের জন্মদিনসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।  
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ অতীতে যেমন জনগণের সাথে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কোনো যড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে দেশের মাটি ও জনগণের কাছ থেকে দূরে রাখতে পারবে না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শেকড় বাংলাদেশের মাটির অনেক গভীরে। কোনো ষড়যন্ত্রই কোনো শক্তিই জনগণ থেকে আওয়ামী লীগকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ৭২ বছরের ইতিহাস সংগ্রাম ও সাফল্যের ইতিহাস, গৌরবের ইতিহাস, উন্নয়ন ও অর্জনের ইতিহাস। শত ষড়যন্ত্র করেও আওয়ামী লীগকে মাটি ও মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও পারবে না। বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা আমরা ওই ঐতিহ্য বহন করছি। সংগ্রাম, সাফল্য, গৌরব, অর্জন-উন্নয়নের যে ঐতিহ্য আমরা বহন করে চলেছি সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।’
দলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী যেটা ছিল এখন তা অনেক বন্ধ হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা আরো সতর্ক থাকব।’
আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ,কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।  
এছাড়া  যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রলীগ, তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগ, ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগ, প্রজন্মলীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার কে এম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটি। দীর্ঘ এই পথচলায় দলটির যেমন অনেক বড় বড় সফলতা রয়েছে, তেমনি কিছু ব্যর্থতাও আছে। কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বড় বড় সফলতা চাপা পড়ে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠার ৭২ বছরের ইতিহাসে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬৬ সালের ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অর্জন ঐতিহাসিক।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার টানা ২১ বছর পর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ৯৬ সালে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। সরকার গঠনের পরেই পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদন করতে সক্ষম হয়। এ ছাড়াও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকে আজ পর্যন্ত শাসনভার আওয়ামী লীগের হাতেই রয়েছে।
টানা তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাটা আওয়ামী লীগের বড় কৃতিত্ব এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি রেকর্ডও বটে। এই সময়ের মধ্যে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্র বিজয়, ভারতের সাথে ঐতিহাসিক ছিটমহল বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর, মেগা প্রজেক্ট পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের দৃশ্যমান অগ্রগতিসহ নানা সফলতার দিক রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ