সোমবার ২৬ জুলাই ২০২১
Online Edition

রাজশাহী মেডিকেলে বাড়ছে লাশের সংখ্যা নগরীর লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বৃদ্ধি

রাজশাহী: করোনাক্রান্ত রোগীদের নিয়ে হিমশিমদশা রাজশাহী মেডিকেলে। জরুরি বিভাগের বাইরের দৃশ্য -সংগ্রাম

রাজশাহী অফিস : করোনার সংক্রমণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বেড়ে চলেছে লাশের সংখ্যা। একদিনে আরো ১৬ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নতুন করে আরো ১৭৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে নগরীর লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করে ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ এর সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে। বুধবার বেলা ৩টায় জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এখন যেসব বিধিনিষেধ আছে, সেগুলোও আগামী এক সপ্তাহ বলবৎ থাকবে। তবে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে যে, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই আদেশের আওতা বহির্ভুত থাকবেন। রাজশাহীর জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্যবিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে লকডাউন বাড়ানো হলো বলেও জানান জেলা প্রশাসক। হাসপাতালেও এখন প্রতিদিন রাজশাহী থেকে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রাজশাহীর দুটি ল্যাবে লকডাউন শুরুর পরদিন ১২ জুন সংক্রমণের হার ছিল ৫৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সর্বশেষ ২২ জুন সংক্রমণের হার পাওয়া গেছে ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। লকডাউন শুরুর পরও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৬ জন পর্যন্ত মারা যাচ্ছেন।
আরো ১৬ জনের মৃত্যু
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনে আরো ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। যাদের ৮ জনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টার মধ্যে বিভিন্ন সময় তারা মারা যান। মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর ৮ জন, চাঁপাইনবাগঞ্জের ৩ জন, নাটোরের ২ জন, নওগাঁর ২ জন ও ঝিনাইদহের একজন। এ নিয়ে চলতি মাসের গত ২৩ দিনে এ হাসপাতালের মারা গেলেন ২৪৫ জন। শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬০ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ৪৪ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬, নাটোরের ২, নওগাঁর ৫, পাবনার ২ ও ঝিনাইদহের একজন। তিনি বলেন, হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধাসহ ৪৮ বেডের আরো একটি ওয়ার্ড মঙ্গলবার চালু করা হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বেডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫৭টি। বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩৫৭ বেডের বিপরীতে মোট চিকিৎসাধীন রোগী আছেন ৪১০ জন। বাকিদের মেঝে ও বারান্দায় অতিরিক্ত বেড তৈরি করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দুই কারণে মৃত্যু বেড়েছে
রাজশাহীতে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু কোনোভাবেই কমছে না। প্রতিদিন ১০-১২ জনের মৃত্যু হচ্ছে। একই সঙ্গে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। মূলত দুই কারণে রাজশাহীতে মৃত্যু বেড়েছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, প্রথমত করোনা আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের শেষ সময়ে হাসপাতালে আনার কারণে মূলত বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত গ্রামের মানুষ করোনা পরীক্ষা কম করাচ্ছে। জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বাসায় কবিরাজি চিকিৎসা নেয়। এরা হাসপাতালে এসে অক্সিজেন নিতে নিতেই মারা যান। গতকাল পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে ৮ জনের বয়স ৬১ বছরের উপরে। বাকিদের মধ্যে তিনজন ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং পাঁচজন ৩১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।  
নতুন শনাক্ত ১৭৬ জন
রাজশাহীতে গত ২৪ ঘন্টায় ১৭৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার রাজশাহীর দুটি পিসিআর ল্যাবে ৫৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার এই দুটি ল্যাবে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোট ৫৫৬ জন রোগীর করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জনের করোনা পজিটিভ আসে। রাজশাহীতে ২৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১৬ জন পাওয়া যায়। এছাড়া ল্যাব দুটিতে ৩৭৩ জনের করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ