রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১
Online Edition

নিবন্ধন জটিলতায় করোনা টিকা পাচ্ছে না অনেক ফুটবলার

স্পোর্টস রিপোর্টার : নিবন্ধন জটিলতায় দেশী বিদেশি ফুটবলারদের অনেকেই নিতে পারছেনা করোনা টিকা। প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে  যাচ্ছে। দেশের ফুটবলাঙ্গনেও পড়েছে করোনার প্রভাব। মোহামেডানের ১২ জন ফুটংবলার ইতোমধ্যে করোনা পজিটিভ হয়েছেন। মোহামেডানের এতো সংখ্যক ফুটবলার একসঙ্গে করোনা পজিটিভ হওয়ায় ফুটবলারদের ভ্যাক্সিনেশন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ফুটবল ফেডারেশন ফুটবল সংশ্লিষ্টদের করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৭০০ ভ্যাকসিন বরাদ্দ পেয়েছিল। ফুটবল ফেডারেশনের অনেকে ইতোমধ্যে এই আওতায় প্রথম ডোজও নিয়েছেন। কিন্তু ফুটবল ফেডারেশনের মূল অংশীদার ফুটবলারদের অনেকেই টিকা দিতে পারেননি নিবন্ধন জটিলতায়। সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশের অনেক ফুটবলারের নেই জাতীয় পরিচয়পত্র, এজন্য সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ফুটবলাররা ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় পড়েননি। 

বাংলাদেশের ফুটবলারদের অনেকেই জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করেন। পরবর্তীতে পাসপোর্ট ও জন্ম নিবন্ধন দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করেন। অ্যাপে পাসপোর্টের অপশন না থাকায় প্রিমিয়ার লিগে খেলা বিদেশি ফুটবলার আর কোচরাও ভ্যাকসিন দিতে পারেননি। মোহামেডানে পজিটিভ হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন বিদেশি ফুটবলার ও কোচ। বিদেশিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন মোহামেডানের ফুটবল কমিটির সম্পাদক আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স, ‘প্রতিটি দলেই বিদেশি রয়েছে। বিদেশিদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনা জরুরি। বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের জন্য কিছু করা উচিত।’ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের ফুটবল দলের একজনও ভ্যাকসিন নেননি। মুক্তিযোদ্ধার ফুটবলারদের কয়েকজনের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেও তারা এখনো ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি। ৩০ জনের দলের মধ্যে কয়েকজন দেওয়াকে কোনো সুফল দেখছেন না মুক্তিযোদ্ধার ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম, ‘আমার দলের বড় অংশ জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ভ্যাকসিনের বাইরে থাকছে। ফলে কয়েকজন দিলেও পুরো দল নিরাপদ বা শঙ্কামুক্ত হতে পারছে না। 

বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবার দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’ যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে তাদের অনেক ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ডোজও সম্পন্ন করেছেন ফেডারেশনের প্রক্রিয়ার আগেই। অনেকে আবার এক ডোজ দিয়ে দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায়। তবে জাতীয় দল ও প্রিমিয়ার লিগের ৮০ শতাংশের বেশি ফুটবলার ভ্যাক্সিন দিতে পারেননি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য। ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমের খান এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদেরই দায় দিচ্ছেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা উচিত। এটি কোনোভাবেই ক্লাব ও ফেডারেশনের দায়িত্ব নয়।’ কয়েকজন ফুটবলার স্বীকারও করেছেন নানা ব্যস্ততায় ও অবহেলায় জাতীয় পরিচয়পত্র করেননি। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ ফুটবলারদের ভ্যাক্সিনেশন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের বিশেষ ব্যবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভ্যাকসিন বরাদ্দ দিয়েছিল। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় অনেকেই নিতে পারেননি। এজন্য আমরা অনেক সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন অফিসকে চিঠি দিয়ে বিশেষ অনুরোধও করেছি দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য। লকডাউনে অনেক অফিস বন্ধ ছিল। এরপর করোনা টিকা কার্যক্রমই স্থগিত ছিল।’ প্রিমিয়ার লিগে খেলা বিদেশি ফুটবলার ও কোচদের ব্যাপারে বাফুফে এখনো উদ্যোগ নেয়নি। তবে জাতীয় দলের ব্রিটিশ কোচিং স্টাফ ও টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর পল স্মলি বিশেষ ব্যবস্থায় আরও কয়েকমাস আগেই নিয়েছেন। জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ বিধায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষভাবে বিবেচনা করেছিল। ১৩ ক্লাবের বিদেশি ফুটবলার ও কোচ মিলিয়ে সংখ্যা ৫০ এর উপরে। এই ব্যাপারে অবশ্য বাফুফেকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। ২৫ জুন পুনরায় লিগ শুরুর সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে অনেক ক্লাবই করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়েছে। আজ-কালের মধ্যে ফলাফল আসার কথা। করোনা পজিটিভ সংখ্যা কেমন আসে দেখার বিষয় আর ভ্যাকসিন ছাড়া করোনা তৃতীয় ধাপের মধ্যে লিগ চলমান রাখাটাও বড় চ্যালেঞ্জ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ