রবিবার ০২ অক্টোবর ২০২২
Online Edition

করোনা মোকাবেলায় ঢাকার চারপাশের সাত জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি

* সরকারি বেসরকারি সব অফিস বন্ধ
* চলবে না লঞ্চ ফেরি
* ট্রেনের জন্য নতুন নির্দেশনা  
* খোলা থাকবে পোশাক কারখানা
স্টাফ রিপোর্টার : করোনার ভারতীয় রূপ ঢাকায় যেন আসতে না পারে সেজন্য ঢাকা শহরের সাতটি জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এতে ঢাকা শহর সারাদেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো। এই বিধিনিষেধের ফলে ঢাকা থেকে ওই জেলাসমূহে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। আবার এসব জেলা থেকে কোন মানুষ ঢাকার ভেতর আসতে পারবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ঢাকা শহরের চারপাশের সাত জেলায় আগামী ৯ দিন জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের কার্যক্রম ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এ সময় বন্ধ থাকবে সরকারি বেসরকারি অফিস, চলবে না লঞ্চ, ফেরি, স্পিডবোট, ট্রেনের জন্য থাকছে নতুন নির্দেশনা তবে খোলা থাকবে পোশাক কারখানা।  
মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জে এ বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এসব জেলা আমরা লকডাউনে নিয়ে নিয়েছি। এসব জেলার মানুষ ঢাকায় ঢুকতে পারবেন না। ঢাকার সঙ্গে মুভমেন্ট বন্ধ হলে এমনিতেই সারাদেশে কমে যাবে। তবে লকডাউনের মধ্যেও সাত জেলায় তৈরি পোশাক কারখানা চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।
আদেশে বলা হয়েছে, বিধিনিষেধের সময়ে এই সাত জেলায় সার্বিক কার্যাবলি/চলাচল (জনসাধারণের চলাচলসহ) বন্ধ থাকবে। তবে আইন-শৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা, যেমন-কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (নদীবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এবং পণ্যবাহী ট্রাক/লরি এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।
এই বিধিনিষেধের কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গতকাল সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার ) থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সাত জেলায় লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। এই সাত জেলায় কী কী বন্ধ থাকছে প্রশ্ন করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সব বন্ধ থাকবে। মানুষও যাতায়াত করতে পারবে না। শুধুমাত্র মালবাহী ট্রাক এবং অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কিছু চলবে না। জেলাগুলো ব্লকড থাকবে, কেউ ঢুকতে পারবে না। এসব জেলায় সরকারি অফিসগুলো কীভাবে চলবে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছুই বন্ধ থাকবে।
বর্তমানে সাতক্ষীরা, বাগেরহাটের মোংলা, যশোর পৌরসভা, অভয়নগর, বেনাপোল, শার্শা, কুষ্টিয়া সদর, চুয়াডাঙ্গা দামুরহুদা, পুরো মাগুরা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, নাটোর পৌরসভা ও সিংড়া এবং বগুড়া পৌরসভায় একই ধরনের বিধিনিষেধ চলছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ঢাকার বিষয়ে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আসছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরো বলেন "যদি কোন লোকাল অথরিটি মনে করে তাদের লকডাউন করা দরকার সেটা তারা করতে পারে। সেই অথরিটি তাদের দেয়া হয়েছে"। তবে ঢাকা জেলা নিয়ে অতি শিগ্রি কোন সিদ্ধান্ত আসবে না বলে তিনি জানান।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সংক্রমণের ঢেউয়ের প্রেক্ষাপটে গত ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন নামে পরিচিতি পায়। এরপর মে মাসে সংক্রমণ কিছুটা কমে এলে বেশি কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। তবে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে জুনের শুরুতে দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু আবার বাড়তে থাকে।
তখন সংক্রমণের হার অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় আলাদাভাবে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ শুরু হয়। আর সারা দেশে চলমান সাধারণ বিধি-নিষেধের মেয়াদ গত ১৬ জুন এক ধাক্কায় এক মাস বাড়িয়ে দেয় সরকার। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে অফিস-আদালত খুলে দেওয়া হয় তখন। ১৬ জুনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, উচ্চ ঝুঁকির জেলাগুলোর স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কারিগরি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে লকডাউনসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
রেলওয়ের নতুন নির্দেশনা :
এই সাত জেলার অন্তর্গত কোনো জায়গায় ট্রেন থামবে না বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাত জেলায় বিধিনিষেধ (লকডাউন) ঘোষণা করেছে সরকার। এই সাত জেলার অন্তর্গত কোনো জায়গায় ট্রেন থামবে না বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।
গতকাল সোমবার রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের গন্তব্যে যেতে যদি কোনো লকডাউন এলাকা পড়ে সেখানে ট্রেন থামবে না, যাত্রী উঠাবে না, নামাবেও না। লকডাউন এলাকা ক্রস করে ট্রেন গন্তব্যে যাবে। তিনি বলেন, একইভাবে অন্যান্য এলাকার জন্যও এই বিধি মেনে ট্রেন চালানো হবে। লকডাউন এলাকার রেলস্টেশনসমূহ বন্ধ থাকবে।
রেলমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনের ব্যাপারে এ নিয়ম মেনে ট্রেন চলবে। তবে সব লোকাল ট্রেন ওই সব এলাকায় চলাচল বন্ধ থাকবে। লকডাউন এলাকা থেকে কোন আন্তঃনগর কিংবা লোকাল ট্রেন থামবেও না ছাড়বেও না। লকডাউন এলাকায় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।
চলবে না নৌযান :
বি আইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক জানিয়েছেন, লকডাউন ঘোষণা করা ৭ জেলায় সকল যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল আজ মঙ্গলবার থেকে বন্ধ থাকবে। তিনি বলেন, আরিচা ও মাওয়া ঘাটের লঞ্চ ও স্পিডবোটও বন্ধ থাকবে, ফেরিতে শুধুমাত্র মালবাহী গাড়ি পারাপার হতে পারবে। ঢাকা বা ঢাকার বাইরে থেকে ছেড়ে আসা কোনো নৌযান এই সাত জেলার মধ্যে কোনো ঘাটে দাঁড়াতে পারবে না বলেও তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ