শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

সিনোফার্মের ভ্যাকসিনে অগ্রাধিকার চায় চীনে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভয়েজ অব বাংলাদেশী স্টুডেন্ট ইন চায়নার উদ্যোগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাইনিজ ভ্যাক্সিনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : তিন দফা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা। চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে সিনোফার্মের টিকা দেয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা বলেন, চীনে উৎপাদিত ভ্যাকসিন না নিলে দেশটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাইনিজ ল্যাংগুয়েজ, প্রকৌশল, এমবিবিএস ও গবেষণার বিভিন্ন বিষয়ে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভয়েস অব বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইন চায়নার ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের ভ্যাকসিনের অগ্রাধিকারে রেখে দ্রুত ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসা। দীর্ঘ সাত মাস ধরে বন্ধ থাকা চীনে গমনেচ্ছু বাংলাদেশী নাগরিকদের সব ভিসা পুনরায় চালু করা এবং চীনা অ্যাম্বেসি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পরবর্তী সেমিস্টারের মধ্যেই চীনে ফিরিয়ে নেবার ব্যবস্থা করা।
মানববন্ধনে ভয়েস অব বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইন চায়নার পক্ষে ফজলে রাব্বি বলেন, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস মহামারির ফলে প্রায় পাঁচ হাজারের মতো শিক্ষার্থী শীতকালীন অবকাশের সময় এবং পরবর্তীতে মহামারি ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং অনেকের ব্যক্তি উদ্যোগে দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে গত দেড় বছর কেটে গেলেও আজ পর্যন্ত আমাদের ফিরে যাওয়া হয়নি এবং আমাদের ফিরে যাওয়ার জন্য কোনো পদক্ষেপও নেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে চীন সরকার চীনে প্রবেশের শর্ত হিসেবে সে দেশের উৎপাদিত ভ্যাকসিনের কথা উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশ সরকার চীনা ভ্যাকসিনের স্বীকৃতি দিয়েছে ও চীনা সরকারের দুই ধাপে উপহার পাঠানো ১১ লাখ টিকা গ্রহণ করেছে।  চীনে ফেরতেচ্ছু শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন অগ্রাধিকারের জন্য আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছি। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনে ফেরতেচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীদের ভ্যাকসিন অগ্রাধিকারের ঘোষণা দেয় এবং তাদের নির্দেশনামতে আমরা স্বেচ্ছায় চাইনিজ ভ্যাকসিন নিতে ইচ্ছুক চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীর তালিকা দিয়েছি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে পরবর্তীতে কারা চাইনিজ ভ্যাকসিনের অগ্রাধিকার পাবে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে আমরা তালিকায় আমাদের নাম দেখতে না পাওয়ায় অনেক আশাহত হয়েছি।
চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের অগ্রাধিকার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। কেন বাদ দেয়া হয়েছে জানতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কখনোই এমনটা আশা করিনি। স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং এবং আমাদের মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করেও এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেয়া ও ভ্যাকসিন না দেয়া আমাদের আশাহত ও বিস্মিত করেছে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে চীনা ভ্যাকসিনসহ সাতটি ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে। অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজারসহ দেশে অন্যান্য ভ্যাকসিন থাকলেও আমরা তো অন্য কোনো ভ্যাকসিনে অগ্রাধিকার চাইনি। শুধুমাত্র চাইনিজ ভ্যাকসিনের অগ্রাধিকার চেয়েছি।  পাকিস্তান, নেপালসহ অন্যান্য দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও চায়নিজ অ্যাম্বাসি তাদের দেশের নাগরিক, ব্যবসায়ী, ছাত্রসহ যারা চীনে ফিরতে ইচ্ছুক তাদেরকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে এসেছে। আর সেখানে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের সরাসরি ঘোষণার পরও আমরা ভ্যাকসিন অগ্রাধিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, যা আমাদের অত্যন্ত মানসিকভাবে হতাশ ও বিপর্যস্ত করেছে। তারা বলেন, আমাদের জোর দাবি- ভ্যাকসিন মজুদ শেষ হওয়ার আগেই আমাদের ভ্যাকসিন অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবেন ও দ্রুত ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ