বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১
Online Edition

জীবন বীমার খরচ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে ব্যবসা করা জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সুপারভাইজরি লেভেল এবং কমিশন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এর ফলে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যয় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে বলে জানিয়েছেন আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ড. এম. মোশাররফ হোসেন।
গতকাল রোববার ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। দেশের বীমা খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। আইআরএফ সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমনের সঞ্চালনায় এবং সংগঠনের সভাপতি গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, একটি জীবন বীমা কোম্পানি যখন সঠিক সময়ে বীমা দাবি পরিশোধ না করে তখন এক ধরনের বদনাম ছড়ায়। এ কারণে আমরা জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ভিত শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিয়েছি।
ইতোমধ্যে সুপারভাইজরি লেভেল এবং কমিশন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এর ফলে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর খরচ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে। যা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করবে। এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে বলে জানান ড. এম. মোশাররফ হোসেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন অনুসারে বীমা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা আগে যে নির্দেশনা দিয়েছি তা বাস্তবায়ন করতে হবে। অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আমরা এটা কঠোরভাবে মনিটরিং করছি। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা আছে। তবে আইনে যেহেতু আছে, আইন তো মানতেই হবে। এ সময় বীমা খাতের কিছু সমস্যাও তুলে ধরেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান। এর মাধ্যমে জনবল সংকটকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, বীমা কোম্পানিগুলোর প্রায় ২ কোটি গ্রাহক। এই বিপুল জনগোষ্ঠী যে সেক্টরে জড়িত, তার নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ মাত্র ৩১ জন জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের নিজস্ব কোনো জায়গাও নেই। তবে আমাদের জনবল কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে। আশা করছি এখন আমরা আরও কিছু জনবল নিয়োগ দিতে পারবো।
জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার এক নির্দেশনা দিয়ে আইডিআরএ সুপারভাইজরি লেভেল এবং কমিশন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে।
এ নির্দেশনায় আইডিআরএ জানায়, ২০১২ সালের ১৫ মার্চ জারি করা সার্কুলারে (নং লাইফ-০৩(খ)/২০১২) উল্লেখিত সুপারভাইজরি লেভেলে ৫টি গ্রেড সম্বলিত অনুচ্ছেদ ‘এফ’ বাতিলপূর্বক সুপারভাইজরি লেভেলে সর্বোচ্চ ৩টি গ্রেডে কর্মকর্তা নিয়োগ করা যাবে। সেগুলো হলো- জেনারেল ম্যানেজার (উ.)- জিএম; ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (উ.)-ডিজিএম এবং এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (উ.)- এজিএম।
এ ক্ষেত্রে ফাইন্যান্সিয়াল এসোসিয়েট (এফএ), ইউনিট ম্যানেজার (ইউএম) এবং ব্রাঞ্চ ম্যানেজার (বিএম) পদসমূহ আগের সার্কুলার (নং লাইফ-০৩(খ)/২০১২) মোতাবেক বলবত থাকবে। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েটরা প্রথমবর্ষ প্রিমিয়াম থেকে যে হারে কমিশন অর্জন করবেন তার ওপর ইউএম ও বিএমরা কমিশন পাবেন।
এ ক্ষেত্রে ইউনিট ম্যানেজারের মোট কমিশন ৩৫ শতাংশ। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ বেসিক কমিশন এবং ৫ শতাংশ সার্কুলার (নং লাইফ-০৩(খ)/২০১২) এর বি২ অনুসারে। আর ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের মোট কমিশন হবে ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে ২০ শতাংশ বেসিক কমিশন এবং ১০ শতাংশ সার্কুলার (নং লাইফ-০৩(খ)/২০১২) এর বি২ অনুসারে।
সুপারভাইজরি লেভেলে পুনর্বিন্যস্ত তিনটি গ্রেডের ক্ষেত্রে সার্কুলার (নং লাইফ-০৩(খ)/২০১২) এর এ১- এ উল্লেখিত ফাইন্যান্সিয়াল এসোসিয়েটদের জন্য যে কমিশন হার নির্ধারণ করা আছে তার ওপর সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ পাবেন জিএম (উ.), ১৬ শতাংশ পাবেন ডিজিএম (উ.) এবং এজিএম (উ.) পাবেন ১৮ শতাংশ। এ ছাড়াও কমিশন প্রদানের ক্ষেত্রে সার্কুলার (নং লাইফ-০৩(খ)/২০১২)-এ বর্ণিত অন্যান্য শর্তাবলি অপরিবর্তিত থাকবে।
মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো পিরামিড আকারের হবে বলে সার্কুলারে জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ইউনিট ম্যানেজারের অধীনে কমপক্ষে ৫ জন সক্রিয় ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট থাকবে, প্রত্যেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের অধীনে কমপক্ষে ৪ জন সক্রিয় ইউনিট ম্যানেজার থাকবে এবং প্রত্যেক সুপারভাইজারের অধীনে কমপক্ষে ৩ জন অধীনস্ত উন্নয়ন কর্মকর্তা থাকবেন।
এ ছাড়াও গত ২৫ মার্চ জারি করা সকল বীমা কোম্পানির একইরূপ সাংগঠনিক কাঠামো সংক্রান্ত সার্কুলার (নং- জিএডি-৬/২০২১)-এ উল্লেখিত সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কমিশন ভিত্তিক কোনো নিয়োগ বা পদায়ন করা যাবে না বলে আইডিআরএ’র নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ