মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

আ’ লীগ সরকার দেশে লুটেরা অর্থনীতি চালু করেছে

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে লুটপাট ছাড়া কিচ্ছু হয় না অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশে লুটেরা অর্থনীতি চালু করেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছরে দেশ যত কিছু অর্জন করেছিলো এই সরকার সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। আমাদের শিক্ষা, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের অর্থনীতিকে শেষ করেছে। একটা লুটেরা অর্থনীতি চালু করেছে, সম্পূর্ণ লুটেরা অর্থনীতি। কিচ্ছু হয় না আপনার লুট ছাড়া। আপনার ১০ হাজার কোটির টাকার একটা প্রজেক্ট হয়ে যায় ৪০ হাজার ৫০ হাজার কোটি টাকা এবং এই ৪০/৫০ হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে যায়।
জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আয়োজনে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: ইতিহাসের ধ্রুব তারা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গ্রন্থে জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা তিন প্রবন্ধ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষকের লেখা স্থান পেয়েছে। সংকলিত গ্রন্থটির প্রকাশক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল। এর প্রচ্ছদ এঁকেছেন মো. ইসরাফিল প্রামানিক রতন। ২‘শ পৃষ্ঠার গ্রন্থের মূল্য ধরা হয়েছে ৪‘শ টাকা।
প্রকাশিত গ্রন্থের সম্পাদনা পরিষদের আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক মো. লুতফর রহমানের পরিচালনায় আলোচনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, গ্রন্থের সম্পাদনা পরিষদের নির্বাহী সম্পাদক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান ও সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকায় আছে, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশীদের একাউন্টস বাড়ছে অনেকভাবে। আপনার কানাডা, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম তৈরি হচ্ছে। কাদের এসব? আমি নাম বলছি না, তিনি এখানেই (অনুষ্ঠান) আছেন তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। তিনি একটা রেসিডেন্সিয়াল এরিয়াতে থাকেন। ওখানে যতগুলো প্লট আছে তার অর্ধেকই নাকী তারা (ক্ষমতাসীনরা) নিয়ে গেছে। কাদের লোকেরা নিচ্ছে? এরকম অবস্থা সব জায়গাতে। এভাবে দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়া, রাজনীতিকে ধবংস করে দেয়া, একদলীয় শাসনে দেশকে নিয়ে যাওয়া.. এটাই করছে তারা।
বর্তমান অবস্থাকে বড় সংকট হিসেবে অভিহিত করে এর থেকে উত্তরনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এগিয়ে আসান হওয়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ওরা (সরকার) গোয়েবলসীয় কায়দায় মিথ্যাচার প্রচারনা করছে, ইতিহাসকে বিকৃত করছে। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা হচ্ছেন সবচাইতে সচেতন শ্রেনীর পেশাজীবী। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন, গোটা জাতিকে তৈরি করতে হবে, আপনাদের ভবিষ্যত বংশধরদের তৈরি করতে হবে এবং লাখো সৈনিক তৈরি করতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করে এই বড় সংকট থেকে কাটিয়ে উঠি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি, গণতন্ত্রকে মুক্ত করি এবং আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেবকে দেশে ফিরিয়ে আনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতির উর্ধেব উঠে কাজ করার আহবান দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল। আমরা যারা শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে কিছুটা পরিচিত আছি তারা জানি যে, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দর্শনে যারা বিশ্বাস করেন তাদের সম্মিলিত একটা সংগঠন এটি। আমার কাছে যেটা মনে হয় যে, একেবারে দলীয় সংগঠনের পরিণত হওয়াটা বোধহয় খুব একটা ভালো হবে না। দলের জন্য হবে না, নিজেদের জন্য হবে না, রাজনীতির জন্যও হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল তার নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়ে গড়ে উঠেছিলো, সেটাই আপনারা প্রতিষ্ঠিত করবেন-এটাই আমরা বাইরে থেকে সেভাবে আশা করি। আপনারা সাদা দল জিন্দাবাদ দেন, সাদা দলের রাজনীতিকে জিন্দাবাদ দেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে জিন্দাবাদ দেন, জিয়াউর রহমানকে জিন্দাবাদ দেন। কিন্তু বিএনপির মধ্যে একেবারে লীন হয়ে যাইয়েন না।
তিনি বলেন, আপনারা কিছু মনে করবেন না। আমি কথাগুলো আমার অনুভুতি থেকে বলছি যে, এটা হলে আমরা (বিএনপি) অনেক বেশি উপকৃত হবো, আমাদের রাজনীতি উপকৃত হবে। আপনারা সেভাবে এগুন আপনারাও উপকৃত হবেন। আপনারা আমাদেরকে পরামর্শ দেন, আমাদেরকে বুদ্ধি দেন যে, এভাবে আপনারা কাজ করবেন। আমরা সেইভাবে কাজ করব।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের দেশ এখন পুরোপুরি বিভক্ত হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির এই দুইভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে। তার ফলে কী হয়েছে? একজন মানুষ আপনি ধরেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলছেন সেটাও অনেকের কাছে গ্রহনযোগ্য হয় না সে হয়ত বিএনপি অথবা আওয়ামী লীগের লোক। এই বিষয়গুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার। যার জীবনী নিয়ে আজকে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হলো, যেটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তিনি কিন্তু সমসময় জাতীয় ঐক্যে বিশ্বাস করতেন। তিনি বিভক্তিতে বিশ্বাস করতেন না। তার কৃতিত্বটা সেই জায়গা যখন গোটা জাতি যখন বিভক্ত করেছিলো আওয়ামী লীগ ১৯৭২-৭৫ সালে, সেই অবস্থা থেকে গোটা জাতিকে বের করে নিয়ে এসে তিনি একটা ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিলেন। এই বিষয়টা অত্যন্ত জরুরী।
জিয়াউর রহমানকে একজন বিপ্লবী নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফখরুল বলেন, আমরা একসময় শপথ নিয়েছিলাম ছাত্রজীবনে। সমাজ পাল্টিয়ে দেবো, বিপ্লব করবো। কিন্তু বিপ্লবটা করেছেন জিয়াউর রহমান। এতো অল্প সময়ের মধ্যে সব কিছু পাল্টিয়ে দিয়েছেন, মানুষের চিন্তাগুলোকে পাল্টিয়ে দিয়েছেন। গণতন্ত্র ছাড়া অর্থনীতি টেকসই হবে না, খালকাটা কর্মসূঁচিতে হাজার হাজার মানুষকে নামিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসন ও অর্থনীতি পরিচালনার জন্য গ্রাম সরকার তৈরি করেছেন-এই বিষয়গুলোর এসেছে জিয়াউর রহমানের মৌলিক চিন্তা, স্বকীয় চিন্তা থেকে।জিয়াউর রহমান আমাদের নিজস্ব পরিচিতি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দিয়েছেন।
জিয়াউর রহমান জীবন-কর্মের ওপর গবেষণাধর্মী কাজ এবং নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানাতে সাদা দলের শিক্ষকদের এগিয়ে আসার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটা ক্যাম্পিয়েইন শুরু করেছে যে, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক ছিলেন না, অনেক বলে যে, উনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি, উনি পাকিস্তানের অনুচর ছিলেন। বিভিন্নভাবে তাকে একটা খলনায়কে তারা পরিণত করতে চায়। শিশুদের শেখানো হয় আমি জাানি বলে বলছি যে, জিয়াউর রহমান নাকী একজন কিলার, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান নাকী জড়িত ছিলেন। একথা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে  তাদের নেতা থেকে কর্মী সবাই একই কথা বলে। ওটাকে আমাাদের কাউন্টার করতে হবে যারা আমরা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদক বিশ্বাস করি তাদেরকে বলতে হবে যে এটা সঠিক নয়। উপরন্তু তারা উল্টো মিথ্যাটা বলছে। কেনো বলছে, কি কারণে বলছে এটা আমাদেরকে বুঝতে হবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, জিয়াউর রহমান জনগনের কল্যাণের জন্য ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছেন, সবাই পছন্দ করেছে সেই কর্মসূচি। তারপরেও তিনি জনগনের গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন বলে তার রাষ্ট্রপতি পদ এবং ১৯ দফা কর্মসূচির জন্য তিনি গণভোটের আয়োজন করেছিলেন, জনগনের সমর্থন নিয়েছিলেন। কোনো দরকার ছিলো। কিন্তু যেহেতু তিনি জনগনের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন সেজন্য জনগনের সমর্থনটা তিনি প্রয়োজন মনে করেছিলেন।জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচনেও সবাইকে নিয়ে করেছেন এবং বিজয়ী হয়েছেন। তার অনন্য দেশপ্রেম, অদম্য কর্মোদ্যোগ, প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস, ঈর্শ্বনীয় দূরদৃষ্টি এবং সাথীদের উদ্দিপ্ত করার অসামন্য যোগ্যতা, সৎ ও নির্বিক এই মানুষটিকে মহামানবে পরিণত করেছে। তোষামোদী, স্বজনপ্রীতি, দূবর্লতা, চারিত্রিক দূবর্লতা কিংবা দুর্নীতি তাকে এড়িয়ে চলেছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বড় সেকুলারিজম। সেই জাতীয়তাবাদে মুসলমান, হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধসহ আর যত ধর্ম আছে সব আছে, নৃ-তাত্বিক যত গ্রুপ চাকমা থেকে শুরু করে যত আছে আর আমরা বাঙালী সব মিলে হলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। এই ফ্যাসিস্ট সরকার যাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে ঋণ করে ঘি খাওয়া আর জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে ধবংস করার পরিকল্পনা করা, জিয়াউর রহমানকে ভিলেন বানানো। তিনি যে সত্যিকার অর্থে দেশমাত্রিকাকে ভালোবাসতো, সে যে দেশের টানে তার শপথ ভঙ্গ করে বিদ্রোহ করেছিলেন একথা বলতে তাদের লজ্জা লাগে।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকোমল বড়ুয়া, আবুল কালাম সরকার, এমতাজ হোসেন, শামসুল আলম, মোজাদ্দেদী আল ফেসানী, শহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, তোজাম্মেল হোসেন, হাসানুজ্জামান স্বপন, মতিউর রহমান, দেবাশীষ পাল, আল আবদুল করীম, কামরুল হাসান, মঞ্জুর এলাহী, নুরুল ইসলাম, ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার, আতাউর রহমান, বিএনপির ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, হেলেন জেরিন খান, শামীমুর রহমান শামীম, সেলিমুজ্জামান সেলিম, কাদের গনি চৌধুরী, আলবার্ট পি কস্টা, খালেদ হোসেইন ফাহিন, মাহবুব আলম, আবদুর রহিম, কাজী মনিরুজ্জামান প্রমুখরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ