সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

জুলুম-নির্যাতন ও কুরবানির মধ্য দিয়ে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে এগিয়ে যায় ইসলামী আন্দোলন -নুরুল ইসলাম বুলবুল

আশুলিয়া সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনের পথ কখনোই ফুল বিছানো ছিল না। জুলুম নির্যাতন ও ত্যাগ কুরবানির মধ্য দিয়ে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে এগিয়ে যায় ইসলামী আন্দোলন। আন্দোলনের সেই বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে আন্দোলনের কর্মীদেরকে সবর ইস্তেক্বামাতের পাশাপাশি জাগতিক এবং সমসাময়িক সকল জ্ঞানে জ্ঞানী হতে হবে।
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ঢাকা জেলা উত্তরের পেশাজীবী জোন আয়োজিত  বার্ষিক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা সহ-সেক্রেটারি হাসান মাহবুব মাস্টারের সভাপতিত্বে এবং পেশাজীবী থানা আমীর এইচ এম জোবায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে দারসুল কুরআন পেশ করেন ঢাকা অঞ্চল উত্তর এর অন্যতম টীম সদস্য মাওলানা মুহাঃ দেলওয়ার হোসাইন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা উত্তর এর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আফজাল হোসাইন এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো: শাহাদাত হোসাইন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মো: হারুন অর রশিদ, ইপিজেড থানা সেক্রেটারি মো: সোহেল রানা।
প্রধান অতিথি নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, পবিত্র কুরআন হাদীস ইক্বামাতে দীনের কাজকে মুসলমানদের জন্য ফরজ করেছে। রাসূল (সা) এর আদর্শের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থেকে এদেশে দীন প্রতিষ্ঠার কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত কর্মীদেরকে তাই ইসলাম জানা এবং মানার ক্ষেত্রে আরো যত্নবান হওয়া দরকার। তথ্য-প্রযুক্তির জ্ঞানসহ সমসাময়িক সকল যোগ্যতায় আন্দোলনের কর্মীদেরকে অনুসরণীয় হতে হবে।
জনাব বুলবুল বলেন, ইসলামী আন্দোলন কোন ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নয়। ভালো অবস্থান-খারাপ অবস্থান, চাকরি থাকা-না থাকা ইত্যাদি কোন কিছুই আন্দোলনের পথে বাঁধা হতে পারে না। নিজের পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, সহায়-সম্পদ যেন কোন অবস্থাতেই আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সা) এবং ইসলামী আন্দোলনের উপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে না। তিনি বলেন, দুনিয়ার জীবন কখনোই আখেরাতের উপর প্রাধান্য পেতে পারে না। দুনিয়ার সেই সম্মান, মর্যাদা, চাকরি ও সম্পদ মানুষের জন্য কল্যাণকর যা আখেরাতকে সমৃদ্ধ করে। কেননা মানুষ তার মৃত্যুর সাথে সাথে দেখতে পাবে সে কী আমল নিয়ে কবরে গিয়েছে।
প্রধান অতিথি বলেন, খোদাভীতি মানুষের জন্য ক্রেনের মত ভূমিকা পালন করে। জীবনের সকল জটিলতা অসহায়ত্ব, খোদাভীতির ক্রেনে চড়ে পাড়ি দেয়া যায়। রিযিক প্রসঙ্গে তিনি হযরত আলী (রা) এর একটি হাদীস উল্লেখ করে বলেন, ‘তোমরা রিযিকের পেছনে দৌড়িও না, রিযিকের মালিকের পেছনে দৌড়াও। তাহলে রিযিক তোমাদের পেছনে দৌড়াবে।’
হিকমত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হিকমত করে দীনের কাজ থেকে দূরে থাকার কোন সুযোগ নাই। বিকল্প রাস্তা তৈরি করে কাজটি করার নাম হলো হিকমত। তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহর পছন্দনীয় ধারাই হচ্ছে জেল জুলুম নির্যাতন।
কর্মীদের উদ্দেশে জনাব বুলবুল বলেন, চাকরিতে প্রমোশন, ব্যবসার উন্নতি, উন্নত ক্যারিয়ার এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে কেউ ইসলামী আন্দোলন না করার অজুহাত পেশ করেন। তিনি বলেন, অজুহাত মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। ফলে অজুহাত পেশ করার কোন সুযোগ নাই। দীন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা না করলে আল্লাহর কোন অসুবিধা নাই, আল্লাহ অন্য কোন জাতি বা গোষ্ঠীকে আমাদের উপর চাপিয়ে দিবেন। তখন অত্যাচার, অবিচার, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষন, খুন, গুম হতে থাকবে এবং মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাবে কিন্তু আল্লাহ তাদের আজাহারি শুনবেন না।
জনাব বুলবুল বলেন, জামায়াতকে নবীদের মিশন ও ভিশনকে সামনে নিয়ে শহর নগর জনপদে ছড়িয়ে পড়তে হবে। মানবসেবার মাধ্যমে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সাথে জামায়াত কর্মীদেরকে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। সেক্টরভিত্তিক লোক তৈরিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নেতৃত্ব, জনশক্তি এবং সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী করতে হবে। তিনি দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নির্যাতিত আলেম-ওলামাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা উত্তর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আফজাল হোসাইন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদেরকে জ্ঞানার্জন, জান্নাত উপযোগী আমল, বেশি বেশি সামাজিক কাজ করা এবং বিপদ আপদে ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে আন্দোলনের পথে কাজ করে যেতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ