বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ইয়াবার চেয়েও ভয়াবহ মাদক ‘ঝাক্কি’

স্টাফ রিপোর্টার : আইসের সঙ্গে ইয়াবা, ঘুমের ওষুধ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় ওষুধের তরল মিশিয়ে তৈরি করা হয় মাদক ‘ঝাক্কি’। ‘ঝাক্কি মিক্স’, ‘ককটেল মাদক’। যা ইয়াবার চেয়েও ভয়াবহ। আর এই মাদক তৈরিতে একটি চক্র বাসা ভাড়া নিয়ে বানিয়েছিল ‘মেথ ল্যাব’। সেখানেই তৈরি করা হতো ‘ঝাক্কি’ মাদক। ‘ঝাক্কি’ একবার সেবন করার পর দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত একজন মানুষ নেশারত কিংবা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে।
চক্রটি বাজার থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও কেমিক্যাল কিনে মাদকের সঙ্গে মিশ্রণ করত। পরে পাতন পদ্ধতিতে ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে আইসের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ইয়াবার রং পরিবর্তন করে ‘ঝাক্কি’ তৈরি করা হতো। চক্রটি আইস ও ইয়াবার পরীক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করছিল। তারা ভেজাল ও পরিশুদ্ধ আইস সরবরাহ এবং নিজেরাও ঝাক্কি সেবন করত বলে র‌্যাব জানায়। নতুন এই মাদক উচ্চবিত্তদের সন্তানেরা সেবন করত। এ চক্রের অন্যতম মূলহোতা তৌফিকসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার ভোর পর্যন্ত র‌্যাবের আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের  ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন, চক্রের মূলহোতা মো. তৌফিক হোসাইন (৩৫), মো. জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন (৩৭), মো. আরাফাত আবেদীন ওরফে রুদ্র ওরফে ঝাক্কি রুদ্র (৩৫), মো. রাকিব বাসার খান (৩০), মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (২৭) ও মো. খালেদ ইকবাল (৩৫)। অভিযানে আইস, ইয়াবা, বিদেশী মদ, গাঁজা, ১৩টি বিদেশী অস্ত্র, রেপলিকা অস্ত্র, ইলেকট্রিক শক যন্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কারওয়ান বাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে এ বিষয়ে জানান র‌্যাব সদরদফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম নতুন নতুন মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর কারণে চক্রটি ভয়ানক মাদক আইসের সঙ্গে ইয়াবা, ঘুমের ওষুধ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় ওষুধের তরল মিশ্রণে ‘ঝাক্কি’ তৈরি করছিল। মাদক তৈরিতে তারা একটি বাসা ভাড়া নেয়। বাসা ভাড়া নেয়ার পর তারা ‘মেথ ল্যাব’ তৈরি করে। তিনি বলেন, ‘মেথ ল্যাবটি’ মূলত গ্রেফতারকৃত আরাফাত রুদ্র ওরফে ঝাক্কি রুদ্র ও তার কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় পরিচালিত হতো। তারা ভেজাল ও পরিশুদ্ধ আইস সরবরাহ ও নিজেরাও সেবন করত। এছাড়া তারা উত্তরায় একটি বাইং হাউজের নামে বাসা ভাড়া করে গোপনে মাদক সেবন ও অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করত। যেখানে সেবনকারী সিন্ডিকেটের একই ‘রিং’ বা পরিচিতরা আসা-যাওয়া করত।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, মাদক ব্যবসার মূলহোতা ও সমন্বয়কারী হলেন তৌফিক। অর্থ যোগানদাতা হলেন জুবেইন ও খালেদ। রুদ্র কেমিস্ট হিসেবে ‘মেথ ল্যাব’ পরিচালনা করতেন। সবুজ সংগ্রহ ও সরবরাহকারী এবং তৌফিকসহ বাকিরা সকলেই মাদক বিপণনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ চক্রে আরও ১০-১৫ জন রয়েছেন। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার জুবেইন লন্ডন থেকে বিবিএ শেষ করে দেশে আসেন। তৌফিক দেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করেন। খালেদ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করেন। রুদ্র ও সাইফুল এইচএসসি পাস করেন। আর খালেদ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। রুদ্রের নামে ৩টি মাদক মামলা রয়েছে ও জুবেইনের নামে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ