বুধবার ২৮ জুলাই ২০২১
Online Edition

কবিতা

টেমস তীরে 

সাঈদ চৌধুরী 

 

টেমস তীরের ছায়াময় মাঠে 

আমি বসে থাকি কাঠের বেঞ্চে

একটি গাছ অদৃশ্য বন্ধুত্বের অংশ 

এবং একই সঙ্গে পানি 

আমি ফুল পাখিদের সাথে মিশে যাই

যার ছন্দ ধ্বনি বিশুদ্ধ

মাঝে মাঝে মেঘের গায়ে বিদ্যুৎ চমকায়

বৃষ্টিপাতগুলি ছন্দময় ছড়ার মতো

একদিন বরফ পড়েছে বৃষ্টি-আদ্র মাটিতে

অদ্ভুত সৌন্দর্য ছুঁয়েছিলো আমাকে 

এখন রোদেলা আকাশে পাখিরা শিস দিচ্ছে

হৃদয় ভরে অবিচলিত ভাবে

কবিরা স্বপ্ন দেখে, দিন বদলের স্বপ্ন

ডানা মেলে পাখির মতো

পাখির সাথে একাত্মতার ভিতরে জীবনের 

দুর্দান্ত মুহূর্তগুলো ভেসে আসে 

মনোবিজ্ঞান ও দর্শনতত্ত্ব জ্ঞান

উচ্চতর স্থির এবং উচ্চতর গভীর

মহা তরঙ্গগুলি আমার স্বপ্নে লালিত

আগুনের লকলকে জিভের মতো

এটি যেন স্বর্গ থেকে প্রতীত হয়

নজিরবিহীন শিল্প প্রাচুর্যে।

 

 

মনের বিশালতা

মুন্সি আব্দুল কাদির

 

আকাশ বিশাল উঁচু

মন কি তবে নিচু

আকাশ ভেদে যাত্রা সুদূর

ঐ আরশের পানে

বাতাস এসে সুর তুলেছে

মনের মধুর গানে।

 

কই ইথারের গতি

বুঝতে মনের মতি

এক নিমিশে মন ঘুরে হায়

আকাশ পাতাল ধ্যানে

প্রভুর প্রেমে আজ মজেছে

তাঁর দেওয়া বুঝ জ্ঞানে।

 

নৈঃশব্দের নৈশভোজ

জসীম উদ্দীন মুহম্মদ

 

আরও একটু রাত হলেই আমি রোজ কাত হই

আমার সাথে কাত হয় আস্থা, অনাস্থা এরা সবাই

তখন ধীরে ধীরে নৈঃশব্দরা নৈশভোজে যায়

আর আমার কিম্ভুতকিমাকার.... প্রহরগুলো

একটা আরেকটাকে আস্ত জ্যান্ত গিলে খায়.!!

 

অনেকেই আমাকে হতাশাবাদের টোপর পরিয়ে

থাকেন, আমিও জানি এ নিছক অমূলক নয়,

তবুও বারবার দেখি হিংসুটে  কবিতার চোখ

কালো অক্ষরের আলো কে পাহারা দেয় এ বুক 

তবুও..থামার নাম-গন্ধটি নেই এ বুকের ধুঁকধুঁক!

 

অতঃপর ঘুম ভাঙতেই দেখি আমার কচিকচি

ভাবনারা গুম হয়েছে....এই যেমন  

রাত পোহালেই শোনা যায় আজ অমুকের কাল

আর তমুকের আকাল...যদিও যে লোফার সেও

জানে, এখন বেদিল করোনাকাল! 

 

এমনি কতোকিছু হয়.. আরও হবে অনেক কিছু ...

তবে কি হতাশারা আর কোনোদিন ছাড়বে না পিছু?

তবুও রোজ রাতেই আমার স্বপ্নেরা ডানা মেলে

ভাবে নতুন প্রহর থেকে আর কান নিবে না চিলে!! 

 

আমার আমি

আবুল খায়ের বুলবুল

 

আমার  মুখ বন্ধ বলেই

হাত নড়ে না

আমার বাক রুদ্ধ বলেই

কথা চলে না

আমি একাকী 

নিজের সাথে 

নিজেই বলি কথা

প্রতিনিয়ত  যুদ্ধ চলে

কিন্ত আমি যুদ্ধ ক্ষেত্রে 

যেতে পারি না।

 

পাখি আমার একলা পাখি

শাহিদ উল ইসলাম

 

পাখি আমার একলা পাখি বন্দী হয়ে খাঁচায়;

মুক্তি যে চায় মুক্ত হতে বেঁচে থাকার আশায়।

কিন্তু পাখি জানে না যে মৃত্যুই সে প্রক্রিয়া,

যম যাতনায় না ধরিলে হবে না সে ক্রিয়া।

তবু পাখি মুক্তি যে চায় মৃত্যু ক্রিয়া মেনে,

আপন সকল পর হবে যে এই কথাটিও জেনে।

 

পাখি আমার একলা পাখি বুঝতে চায় না কিছু,

সকল কিছুর বিনিময়ে নেয় সে মুক্তির পিছু।

খাঁচা তাহার কবরগাহে পাখি গেল কোথায়?

এই কথাটি ভাবতে পাখি আকাশ ভাঙ্গে মাথায়।

খাঁচা ছাড়া পাখি এখন পায়না খুঁজে তারে,

তাই তো পাখি খাঁচাটারে খুঁজে বারেবারে।

 

একটি বিকেলের অপেক্ষা 

রফিকুল ইসলাম

 

সূর্যটাকে উত্তাপে ঝলসাতে দেখেছি

স্বপ্নবোনা কামনার বাগান

নরম রোদে প্রেয়সীর নাকফুল ছুঁয়ে যাওয়া

একটি বিকেলের কত যে অপেক্ষা 

বন্ধুর আড্ডায় জোনাকি প্রলুব্ধ সন্ধ্যা ।

কত  অপেক্ষা ভরাবসন্তের  পথ চেয়ে 

আগামী কোন শুভক্ষণ কোন হলুদ খামে 

সুখানুভূতির স্বপ্নমাখা চোখে এখন বর্ষা নামে।

বসন্তকে ডেকে অসমাপ্ত মুহূর্তে ঝরে যাবে কেউ,

ঝরাপাতার মতো ছিল ভাবান্তর, 

গন্ধহীন ফুলবসন্ত; এখন ভেজা পোশাকের ঘ্রাণে 

শতবর্ষা অবিশ্রান্ত ।

অবিন্যস্ত মেঘে ছেঁয়ে আছে শহরের আকাশ 

শহর জুড়ে বৃষ্টি, বাড্ডা রামপুরা গুলশানের রাস্তায়

বৃষ্টি ফোঁটাগুলি অভিমানে ভেঙে পড়ছে জানালায়,

সময়ের শূন্যতায় স্বপ্নেরা ঝুলছে শহরের ছাদে

বৃষ্টির বিচ্ছেদে উজ্জ্বল রঙধনু 

আবিষ্ট দৃষ্টিতে ঝলমল করছে ।

নির্বিবাদে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে রাত আঁধারে

অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো ঝিকমিক তারার মতো

লটকে রয়েছে স্বচ্ছ জলে- মাছের চোখে

চোখ দু'টি আজও বন্ধক দিতে পারিনি,

সুখানুভূতির  কোন বন্দরে।

 

নতুন প্রাণের সন্ধানে

শাহীন সৈকত

 

যাদের কথা মনে করে আমি সারা দিনমান পার করে যাই

সন্ধায় ফিরে আমি দেখি, কেউ তারা আমায় মনে রাখে নাই।

হতাশা আর ব্যর্থতা নিয়ে, যখন রাত্রি নামে আমার ঘরে

নির্ঘুম চোখে পার হয় রাত আমার চোখে না পলক পরে।

মোহের পিছনে ছুটছে যারা আমিতো তাদের দলের নই

কাজহীন এই জীবনে আমি ভেজেই চলেছি পরের খই।

তোমরা যারা ধোকায় ফেলে আমাকে তিমিরে ফেলতে চাও

অভিশাপ নয়, অনেক বেশী তোমাদের জন্যে করুণা, নাও।

এখনও আমি বেশ ভালোই আছি

তোমরা কেমন? জানি না তা,

শীত বুঝি যায় ঝড়িয়ে দিয়ে গাছের সকল হলুদ পাতা।

এখানেই পাবে আগমন ধ্বনি বসন্ত লাগুক সবার প্রাণে

ফুলে ফলে হেসে উঠবে সবাই

নতুন কোন প্রেমের টানে।

 

দ্রব্যমূল্য

শ্যামল বণিক অঞ্জন

 

দ্রব্যমূল্য অগ্নিতুল্য যায় না কিছু ছোঁয়া,

শুধুই বাজার ঘুরাই সার মাথায় উঠে ধোঁয়া!

রোজ দরকারি মাছ তরকারি ক্রয় সীমানার বাইরে,

কাড়ি কাড়ি টাকার বাজার মন ভরে না ভাইরে!

মুলা ডাটা কিনতে হাঁটা এ গলি ওগলি,

কাঁচা লঙ্কা বাড়ায় শঙ্কা দামের ঝালে জ্বলি!

ঝিঙে পটল কপি কাকরোল বুকটা ওঠে কেঁপে!

সান্ত¡না পাই কাছে যখন ডাকে কাঁচা পেঁপে।

লাউ কুমড়ো বরবটি যে করে উপহাস,

শিম টমেটো রক্তচাপ বাড়ায় দীর্ঘশ্বাস!

মুরগী মাছের গেলে কাছে ওঠে ভীষণ কাঁশি,

চুলকানীটা বাড়ে দ্বীগুন দাম শুনলে খাসি!

আজকাল আর ঘি'য়ে বৃদ্ধি করে না তো বল,

ডিম দুধ কিনতে গেলে শরীর হয় দুর্বল!

 

ক্ষত 

দ্বীন মোহাম্মাদ দুখু 

 

যদি বর্ষা নামে-

আমার শহর হয় প্লাবিত

ডুববো আমি-

তবু ভুলবো নাকো 

তোমায় হারানোর ক্ষত।

 

আকাশ যেমন চমকে ওঠে 

বিকট বজ্রপাতে

তার চেয়েও কাঁপছি আমি

তোমার ঘাত প্রতিঘাতে।

 

ঝড়ের বাতাস তুলোর মতো

উড়ায় ঘর বাড়ি,

তোমার প্রেমে ভস্ম হৃদয় 

ছাই হয়ে আজ 

উড়তে উড়তে অপেক্ষমাণ 

চড়তে মৃত্যু নামের গাড়ি। 

 

জীবনকাব্য

আবু বক্কর সিদ্দিক 

 

আঁধার আমায় ডাকে--

অথৈজলে সাঁতরে ঊষার দুয়ারে।

চিত্তরথ তখনও,গড়িয়ে যাচ্ছে নির্বিঘেœ

মাঝি বেশে কোনো এক ডিঙির খোঁজ!

গাঙশালিকের ছানাটাও তিরস্কার করে

মাঝে মাঝে ছোট ঠোঁট জোড়া দিয়ে ছবি আঁকে,

সমুদ্রের নীলাদ্রি রূপম বিভৎসতার কথা রোজ।

 

আমিও,ইঁদুর-বেড়াল খেলায় পরাজয় হই নি

আস্ত গিলে খেয়েছি জলের সাথে ভোজ।

দু'দিন পরে আবার উনি কড়া নাড়লেন, 

রাজার হুকুমে সবাই আজ জেলে বন্দি

দু'টাকার টুকরো কাপড়খানাই হলো ফন্দি

অন্ধের কিছুটা জমি যদিও দখলে রাখে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ