সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

রাজশাহীর সীমান্ত থেকে ছড়িয়েছে করোনার ‘ভারতীয় ধরন’

রাজশাহী: গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের অক্সিজেন সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন  -সংগ্রাম

 

আরো ১০ জনের ॥ নতুন শনাক্ত ১৯৪

রাজশাহী অফিস: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ অব্যাহত হয়েছে বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে। এই অঞ্চলে সীমান্ত এলাকা থেকেই করোনার ‘ভারতীয় ধরন’ বিস্তার লাভ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে জানা গেছে। রামেক হাসপাতালে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় করোনায় আরো ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯৪ জন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে নগরীতে চলমান লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নগর পুলিশের পর এবার অক্সিজেন সেবা কার্যক্রম চালু করলো রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনা এখন গ্রামগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে করোনার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। এসব অঞ্চলের বহু গ্রামে করোনার উপসর্গ নিয়ে রোগী ছড়িয়ে রয়েছে। তবে কেবল যারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টেস্ট করার জন্য যাচ্ছে তাদেরই প্রকৃত অবস্থা জানা যাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষই উপসর্গ থাকলেও টেস্ট করার ক্ষেত্রে উদাসীন থাকায় সংক্রমণের প্রকৃত পরিসংখ্যান মিলছে না। চলতি মাসের শুরুর দিকে মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে এই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার শুরু হয় বলে জানা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার নগর ভবনে এক অনুষ্ঠানে রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন উল্লেখ করেন, করোনার ‘ভারতীয় ভেরিয়েন্ট’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পর রাজশাহীতে মহানগরীতে তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

আরো ১০ মৃত্যু ১৯৪ আক্রান্ত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এসব করোনা রোগী মারা যান। রামেক হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জান যায়, মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর ৭ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁর একজন করে ৩ জন মারা গেছেন। এসময়  ১৯৪  জনের করোনা শনাক্ত হয়। বুধবার রাজশাহীর দুটি পিসিআর ল্যাবে ৫৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুটি পিসিআর ল্যাবে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোট ৫৬০ জন রোগীর করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬ জনের করোনা নেগেটিভ আসে। বাকিদের আসে পজিটিভ। রাজশাহীতে ২১২ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করে ৮৯ জন আক্রান্ত পাওয়া যায়।

লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি 

করোনাসংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাজশাহী মহানগরী এলাকায় আগামী ২৪ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত লকডাউনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বুধবার রাতে রাজশাহী সার্কিট হাউজে রাসিক মেয়র এ এইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে সার্কিট হাউজের সামনে ব্রিফিং করে নতুন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান মেয়র লিটন। রাজশাহীতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ১১ জুন থেকে সাতদিনের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৭ জুন রাত ১২টায় এর মেয়দ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনা করে একদিন আগেই আরো ৮ দিনের সর্বাত্মক এ লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফকালে মেয়র লিটন বলেন, গত ছয়দিন রাজশাহীতে করোনা পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। সংক্রমণ উঠানামা করলেও মৃত্যু হার একই থেকে গেছে। ফলে সর্বাত্মক লকডাউন ১৭ তারিখের পর আরও সাতদিন বাড়নো হয়েছে। যা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এসময় জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘এই লকডাউনে বৃহস্পতিবার থেকেই রাজশাহী সিটিকে জেলা থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করা হবে। জেলা থেকে মহানগরীর অভ্যন্তরের প্রবেশের সমস্ত পথ বন্ধ করে দেয়া হবে। যাতে করে মহানগরী থেকে কেউ এর বাইরে কিংবা জেলা থেকে কেউ মহানগরীতে প্রবেশ করতে না পারে। জরুরি সেবা ব্যতীত সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’ এসময় রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী, সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদারসহ জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাসিকের অক্সিজেন সেবা কার্যক্রম

প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহযোগিতায় রাজশাহী মহানগরীতে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে অক্সিজেন প্রদান সেবা কার্যক্রম চালু করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনে এক অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। এসময় মেয়র লিটন নগরীর বাইরে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলার মানুষের জন্য রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদারের হাতে চারটি জেলার মধ্যে প্রত্যেক জেলার জন্য ১০টি মোট ৪০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার তুলে দেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের কার্যালয়ের জন্য কাউন্সিলরদের মাঝে ৩০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়। এখন থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে অক্সিজেন স্বল্পতায় অথবা শ^াষকষ্টে ভুগছেন এমন ব্যক্তি ও তাঁর স্বজনেরা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের হটলাইন-০১৭৫৮-৯০১৯০৩ এই নম্বরে কল করলে অথবা নিকটস্থ ওয়ার্ড কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিক তার বাড়িতে পৌছে যাবে অক্সিজেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। রোগীকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনমতো দেওয়া হবে অক্সিজেন ও চিকিৎসাসেবা। ২৪ ঘন্টা চালু থাকবে এই সেবা। ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে চালু হলো মানবিক এই সেবা কার্যক্রম। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ