সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ঢাকার কাছেই অবস্থান করছে করোনার নতুন ঢেউ!

স্টাফ রিপোর্টার : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবারো বাড়ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় করোনা ভাইরাসের আরেকটি ঢেউ আঘাত হানার আশংকা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সেটি কতটা সামাল দিতে পারবে সেটি নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট উদ্বেগ। এক মাস আগে শনাক্তের হার সাত শতাংশে নেমে আসলেও এখন সেটি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ হয়েছে।
সীমান্তের জেলাগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও সংক্রমণের হার বাড়ছে। ফলে জনবহুল ঢাকা শহরে করোনা ভাইরাসের আরেকটি বড় ধরনের ঢেউয়ের আশংকা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের উত্তর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় করোনা ভাইরাসে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এখনও ৪০ শতাংশের উপরে। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে সেসব জেলায়। গত ১৫ দিনে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রায় দেড়শ রোগী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে বাংলাদেশে। শুধু সীমান্তবর্তী জেলাই নয়, ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা টাঙ্গাইলে এখন করোনা ভাইরাসে শনাক্ত রোগীর হার প্রায় ৪০ শতাংশ। এক সপ্তাহের পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার  বাড়তির দিকে। চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে করোনা ভাইরাসে দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।
গত এক সপ্তাহ আগে পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ঢাকা জেলায় চার শতাংশ থাকলেও এখন এটি প্রায় ছয় শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই আশংকা করছেন, শনাক্তে হার এখন দৃশ্যত কম মনে হলেও ধীরে-ধীরে এটি বাড়তে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমদ বলেন, ঢাকায় করোনা ভাইরাসের আরেকটি ঢেউ আঘাত করলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সেটি কতটা সামাল দিতে পারবে তা নিয়ে সংশয় আছে। তিনি বলেন, সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে সেটা মার্চ-এপ্রিল মাসের মতো হবে কি না। নাকি পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকায় করোনার চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল শয্যার ৭৭ শতাংশ খালি। গত একমাস যাবত হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেশ কমেছে।  কিন্তু করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ আঘাত করলে জনবহুল ঢাকা শহরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সেটি সামাল দিতে পারবে কি-না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যতম মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম জানান, এই মুহূর্তে কোভিড ডেডিকেটেড সাত হাজার শয্যা আছে হাসপাতালে। রোগীর সংখ্যা যদি আট হাজার হয়ে যায় তাহলে সেটা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে।
ঢাকা শহরে শনাক্তের হার এখনো ছয় শতাংশের নিচে আছে। কিন্তু সারা বাংলাদেশে চারপাশ থেকে যদি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে, তখন ঢাকায় রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাবার আশংকা সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে।
গাণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এরই মধ্যে ধারণা দিয়েছেন, জুলাই মাসে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পিক বা সর্বোচ্চ চূড়ায় যেতে পারে, যখন দিনে হয়তো ১০ হাজারের মতো শনাক্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ কমো মডেলিং গ্রুপের আওতায় যেসব বিশ্লেষক এ সম্ভাব্য চিত্র এঁকেছেন, তারা সেটি গত ৩০শে মার্চ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। পরিস্থিতি সেদিকে গেলে ঢাকার অবস্থা আবারো নাজুক হবে বলে বলে বিশ্লেষকরা আশংকা করছেন।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় একদিকে সরকারি কাজে প্রচণ্ড সমন্বয়হীনতার কাজ করছে, অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিরা কার্যত কোন ভূমিকাই পালন করছেন না। "সমন্বয়ের খুব অভাব দেখা যাচ্ছে। করোনার যত নির্দেশনা এগুলো বাস্তবায়নে দশটা মন্ত্রণালয় কাজ করার কথা। কিন্তু সেটি হচ্ছেনা। আবার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহবান বা নির্দেশনাসহ যেসব কাজে জনপ্রতিনিধিদের থাকার কথা ছিলো সেটিও দৃশ্যমান হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ