বৃহস্পতিবার ০৫ আগস্ট ২০২১
Online Edition

রেমিট্যান্স প্রবাহে স্বস্তি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরিরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের পাশাপাশি সচেতন সকল মহলেও স্বস্তির সঙ্গে নতুন করে আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমের রিপোর্টে জানা গেছে, করোনার কারণে সব দেশেই অর্থনীতি যখন বিপর্যয়ের কবলে পড়েছে এবং বাংলাদেশেও যখন সংকটের সৃষ্টি হবে বলে আশংকা করা হয়েছিল, তেমন এক সময়েও রেমিট্যান্স তথা প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। শুধু তা-ই নয়, প্রতি মাসেই রেমিট্যান্স খাতে নতুন নতুন রেকর্ডও তৈরি হচ্ছে। গত ৯ জুন পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য-পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

এর একটি প্রধান কারণ হিসেবে দুই শতাংশ হারে সরকারের দেয়া প্রণোদনা বা ইনসেন্টিভের কথা জানানো হয়েছ। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে সরকার এই প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছিল। অর্থনীতিবিদসহ তথ্যাভিজ্ঞরা জানিয়েছেন, দুই শতাংশ হারে প্রণোদনার ফলে প্রবাসীরা শুধু বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলেই অনেক বেশি পরিমাণে টাকা পাঠানো শুরু করেননি, ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানোর ফলে হুন্ডি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের পরিমাণও অনেক কমে গেছে। এভাবে সব মিলিয়েই লাভবান হয়েছে জাতীয় অর্থনীতি। এরই সুফল হিসেবে বেড়েছে রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ২৮৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অন্যদিকে র্প্বূবর্তী অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৬৩৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ করোনার তীব্র সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও কমবার পরিবর্তে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬৪৬ দশমিক ৬০ কোটি ডলার। এটা নিঃসন্দেহে দেশের  এক বিরাট সাফল্য। 

আমরা আনন্দিত এ কারণে যে, সরকারের প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত হয়েছে বলেই রেমিট্যান্সও বেড়েছে। এমন অবস্থা কিন্তু কিছুদিন আগেও ছিল না। যেমন ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির জানিয়েছিলেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের তথা রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে গেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিভিন্ন সময়ে ইতিবাচক বলে প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে কখনোই প্রণোদনা দেয়ার মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আর সে কারণেই একদিকে হুন্ডির অবৈধ ব্যবসা লাফিয়ে বেড়েছে অন্যদিকে কমেছে রেমিট্যান্স আয়। বর্তমান পর্যায়ে সরকার অবশ্য দূরদর্শিতা দেখাতে পেরেছে। এর সুফলও পাওয়া গেছে অনতিবিলম্বে।

আমরা আশা করতে চাই, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা দেয়ার তথা উৎসাহিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবেÑ যাতে রেমিট্যান্স আয় অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকে। একথা বুঝতে হবে যে, করোনার কারণে একদিকে সকল ধরনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অন্যদিকে আসছে না বৈদেশিক বিনিয়োগ। ফলে রফতানি আয়ে প্রকৃতপক্ষে ধস নেমেছে। এমন অবস্থায় একমাত্র রেমিট্যান্স ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে বলেই সর্বতোভাবে উৎসাহ যোগাতে হবে প্রবাসীদের প্রতি। না হলে জাতীয় অর্থনীতিও ভয়ংকর ধসের মুখে পড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ