শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

স্কুল বন্ধ তবুও নেয়া হচ্ছে বেতনের দ্বিগুণ অর্থ

খুলনা অফিস : এক বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকলেও শিক্ষার্থীদের পরিশোধ করতে হচ্ছে সকল ফি। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অভিভাবকদের চাপ দিয়ে আদায় করছে বেতন। বেতন দেয়ার পরও নিস্তার নেই শিক্ষার্থীদের। কৌশলে অ্যাসাইনমেন্ট, অনলাইন ফিসহ আদায় করা হচ্ছে বিভিন্ন অংকের টাকা। যা বেতনের থেকেও দ্বিগুণ।
খুলনা মহানগরীর মুজগুন্নী শহীদ তিতুমীর স্কুলে প্রত্যেক সাবজেক্ট’র জন্য অ্যাসাইনমেন্ট এর ফটোকপি করার জন্য নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা করে। হাজী ফয়েজ উদ্দিন স্কুলে প্রত্যেক মাসে অনলাইন ফি নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা করে। সরকারি স্কুলগুলোতে টাকা না নিলেও বেসরকারি স্কুলগুলোতে চলছে অ্যাসাইনমেন্ট অনলাইন ক্লাসের নামে হরিলুট
শিক্ষা বিভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের থেকে প্রশ্নপত্র ফটোকপিসহ নানা অজুহাতে বিনা রশিদে সাবজেক্ট প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে অ্যাসাইনমেন্ট এর জন্য শিক্ষার্থীদের স্কুলে ডেকে নিয়ে স্কুল থেকে বলা হচ্ছে মাসিক বেতন না দিলে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হবে না বলে এমন অভিযোগ রয়েছে
সেই হিসাব মতে নবম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর দশটি বই থাকে, তাকে প্রতি সপ্তাহে গুনতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ধরা হলে ২০০ টাকা। মাসে গুনতে হচ্ছে ৮০০ টাকা যেখানে একজন শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন ২০০-৫০০ টাকা। সেখানে অ্যাসাইনমেন্টের নামে নেয়া হচ্ছে ৮০০ টাকা, অনেক স্কুলে একসাথে সমস্ত টাকা দিয়ে দিতে হচ্ছে বাধ্যতামূলক। অথচ অ্যাসাইনমেন্ট এর উপরের পেজটি ফটোকপি করতে লাগে মাত্র এক টাকা।
এতে করোনার কারণে কর্মহীন ও স্বল্প আয়ের অভিভাবকরা বেকায়দায় পড়েছেন। তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অথচ গত নভেম্বরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নিতে পারবে। কিন্তু টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ এবং অ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত কোনো ফি নেয়া যাবে না। এছাড়াও যেসব অভিভাবকদের করোনাকালে অবস্থা শোচনীয় তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিতে দেখার কথা বলা হয়। এরআগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একাধিকবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতনের বিষয়টি সমন্বয়ের কথা বলেছিলেন। সরকারের এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে খুলনার প্রায় প্রতিটি স্কুলে সকল প্রকার ফি গ্রহণ করেছে শিক্ষার্থী থেকে, চলতি বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে ভর্তির সময়, খুলনা শিশু নিকেতন স্কুলের নার্সারির শ্রেণীর শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বেতন বাবদ ৮০০ টাকা এবং শিক্ষা বহির্ভূত কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক এসএমএস ও বিকাশ ফি ৪২২০ টাকা নেয়া হয়েছে।
তিতুমীর স্কুলের নবম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর থেকে মাসিক ফি ২০০ টাকা, আইটিসি ৮০০ টাকা মোট ১ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। হাজী ফয়েজ উদ্দিন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক বেতন ১৬০ টাকা সেশন ফি ৫৬৮ টাকার, রশিদ ফি ২০ টাকা খেলাধুলা ফি ১২ টাকা অনলাইন ফি ১০০ টাকা নেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ