শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

রপ্তানি বাণিজ্যে সম্ভাব্য ধস মোকাবেলায় এখনই উদ্যোগ নিতে হবে

এম এ খালেক : বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হবার জন্য জাতিসঙ্ঘের সংশ্লিষ্ট কর্তৃক চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। জাতি হিসেবে এটা ছিল আমাদের বহুল আকাক্সিক্ষত একটি চাওয়া। কারণ কোনো জাতিই দিনের পর দিন দরিদ্র হয়ে থাকতে চায় না। বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। একটি দেশের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি যখন ১৫ থেকে ৬০ বছর অর্থাৎ কর্মক্ষম বয়সের মধ্যে থাকে তখন সেই অবস্থাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বলা হয়। অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন, একটি জাতির জীবনে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা একবারই আসে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা একটি জাতির জীবনে হাজার বছরে একবার আসে। যে জাতি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থাকে সঠিকভােেব কাজে লাগাতে পারে সেই জাতিই উন্নতির শিখরে আরোহন করতে পারে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা বেশি দিন স্থায়ী হয় না। এটা ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। জাপান এক সময় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থার কারণে উন্নতির শিখরে আরোহন করতে সমর্থ হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু তারপরও শুরু হয় তাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা। জাপান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করতে সমর্থ হয়। জাপান প্রায় ৪৫ বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে অবস্থান করছিল। কিন্তু কিছু দিন আগে চীন জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ শক্তি হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। মূলত জাপানের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা শেষ হয়ে যাওয়া এবং চীনের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থা চলমান থাকার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে চীন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে যাবে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এক সময় যে দেশকে ‘তলাবিহীন ঝুঁড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল সেই দেশ এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। সরকার উন্নয়নের জন্য একক কৃতিত্ব দাবি করলেও এখানে সরকারের তেমন কোনো কৃতিত্ব নেই। বরং সরকার যদি শুধু দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারতেন তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হতো। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অবস্থাকে এখনো সঠিকভাবে কাজে লাগানোর মতো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ সরকার নিতে পারেন নি। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জন কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। সঠিক পরিকল্পনা মোতাবেক উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে বাংলাদেশ আরো বেশি হারে অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতো পারতো। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হবার জন্য চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না।
বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে এটা দিবালোকের মতো সত্যি। কিন্তু এই অর্জনের বিপরীতে আমাদের বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবেলা করা হবে তার উপর দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ আগামীতে ভয়াবহ সঙ্কটে পতিত হতে যাচ্ছে রপ্তানি বাণিজ্যের বর্তমান ধারা বহমান রাখার ক্ষেত্রে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা হারাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হবার পর আরো তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখবে। তারপর বাংলাদেশ আর বর্তমান জিএসপি সুবিধা পাবে না। জিএসপি সুবিধা হারালে বাংলাদেশের পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ হারে শুল্ক প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিকট থেকে ১৯৭৬ সাল থেকে জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছে। জিএসপি সুবিধার আওতায় বাংলাদেশি পণ্য কোনো ধরনের শুল্ক ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ভুক্ত দেশগুলোর বাজারে প্রবেশ করতে পারছে। বর্তমানে বাংলাদেশি পণ্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি রপ্তানি হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও বাংলাদেশি পণ্য ব্যাপকভাবে রপ্তানি করা হয়। আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ‘কোটা’ সুবিধা প্রদান করতো। কোটা সুবিধার আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি পণ্য আমদানি করতো। কিন্তু ২০০৫ সালে বিশ্বব্যাপী মুক্তবাজার অর্থনীতি অনুসৃত হবার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোটা সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সীমিত পরিসরে জিএসপি সুবিধা প্রদান করে ঠিকই কিন্তু তাতে তৈরি পোশাক সামগ্রিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি। পরবর্তীতে অদ্ভুত অভিযোগ উত্থাপন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দেয়া জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে, যা এখনো বহাল রয়েছে। বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি যায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কাজেই উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হবার পর বাংলাদেশকে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপাদে পড়তে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তীর্ণ হবার পর তারা বাংলাদেশকে জিএসপি+ সুবিধা প্রদান করবে। কিন্তু জিএসপি সুবিধা পেতে হলে মানবাধিকার নিশ্চিতকরণসহ এমন কিছু শর্ত পরিপালন করতে হবে যা বাংলাদেশের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। কাজেই আগামীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজার হারানোর সমূহ শঙ্কা রয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক পণ্যের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী ভিয়েতনাম কিছু দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিকট থেকে জিএসপি সুবিধা লাভ করেছে। কাজেই আগামীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে সৃষ্ট বাংলাদেশি পণ্যের শূন্য স্থান ভিয়েতনাম নিশ্চিতভাবেই পুরণ করবে।
বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে সীমিত সংখ্যক দেশ ও সামান্য কিছু পণ্যের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা। বাংলাদেশ সামান্য কিছু পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তার অবস্থান ধরে রাখতে সচেষ্ট। এসব পণ্যের বেশির ভাগই আবার আমদানিকৃত কাঁচামাল নির্ভর। পণ্য রপ্তানি যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় তার অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই কাঁচামাল এবং ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানিতে চলে যায়। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে রপ্তানি খাতের মূল্য সংযোজনের হার তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করে সেই সব দেশে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম। আবার যেসব দেশে  বেশি পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে সেই সব দেশে রপ্তানির পরিমাণ খুবই সামান্য। উদাহরণ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন ও ভারতের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু এই দু’টি অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ খুবই সামান্য। আবার চীন এবং ভারত থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানি করে কিন্তু এই দু’টি দেশে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ খুবই সামান্য। চীন এবং ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে দেশ দু’টিতে আমাদের রপ্তানির পরিমাণ খুবই কম। চীন এবং ভারত বাংলাদেশকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দিয়ে থাকে। এই সুবিধা খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ। এর কোনো বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে। চীন কিছু দিন আগে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বাংলাদেশি পণ্যকে তাদের বাজারে শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানির সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু এই সুবিধার কোনো বাস্তবায়ন এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অথচ শুধু চীনের বাজার যদি আমরা খানিকটা দখল করতে পারতাম তাহলে রপ্তানি নিয়ে আমাদের আর ভাবতে হতো না। চীন শুধু বিশাল জনসংখ্যার একটি দেশ তাই নয় তারা পণ্য আমদানিতেও বিশ্বের শীসস্থানীয় একটি দেশ। গত বছর(২০২০) চীন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। অথচ চীনের আমদানি বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ যদি চীনের আমদানি বাণিজ্যের এক শতাংশ দখল করতে পারতো তাহলে বছরে বাংলাদেশ ২৫ বিলিয়ন(২ হাজার ৫০০ কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য দেশটিতে রপ্তানি করতে পারতো। বাংলাদেশ বর্তমানে চীনে মাত্র ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে। বর্তমানে চীন বিশ্ব রপ্তানি বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশ্ব বাণিজ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে চীন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। তারা লো-এন্ডের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে। তারা এখন হাই এন্ডের তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে। ফলে চীনের বাজারে স্বল্প মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। চীনের তৈরি পোশাক বাজারের মাত্র ৭ শতাংশ বর্তমানে বাংলাদেশের দখলে রয়েছে। আর ভিয়েতনামের দখলে রয়েছে ১৯ শতাংশের মতো। বর্তমান যুগ হচ্ছে,‘গিভ এন্ড টেকের যুগ।’ কিন্তু আমরা ভারত এবং চীনের সঙ্গে এই নীতি গ্রহণে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। চীন এবং ভারতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমরা যদি বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে দেশ দু’টিকে বাধ্য করতে পারতাম তাহলে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির পরিমাণ অনেকগুন বাড়ানো সম্ভব হতো। ভারত নানাভাবে তার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার নিরূৎসাহিত করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করছে। ফলে প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রবেশ করতে পারছে না। বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে সেই সব দেশ যাতে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানি করে সেই শর্তারোপ করা যেতে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতে অধিকহারে মূল্য সংযোজনের স্বার্থে স্থানীয় কাঁচামাল নির্ভর পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। রপ্তানি পণ্য তালিকায় অধিক মূল্য সংযোজনকারী নতুন নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আগামীতে বিশ্ব বাণিজ্যে আমাদেরকে মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে হলে এখনই কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ