শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

মুক্তির পথ আরও সাশ্রয়ী হতে পারে

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়, ভোগবাদী সভ্যতায় লাভ-ক্ষতির অঙ্কটাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। আর এই অঙ্কের যারা নিয়ন্ত্রক তাঁরা ক্রমাগত স্থ’ূলবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে চলেছেন। ফলে আপাতত লাভের অঙ্ক কষতে গিয়ে তাঁরা শুধু বিশ্বব্যবস্থার ভারসাম্যই নষ্ট করেননি, নষ্ট করেছেন প্রকৃতিরও ভারসাম্য। এরাই করোনার কারিগর। করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায়ও তাঁরা স্থ’ূলবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে চলেছেন। ফলে অনেক ঢাকডোল পেটানোর পরও কাক্সিক্ষত সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে এখন স্পষ্ট করেই কথা বলা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।
মহামারি সৃষ্টির মূল কারণ প্রকৃতি ধ্বংসের বিষয়টিকেই উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, বিশ্বনেতারা ভবিষ্যৎ মহামারি রোধে সাশ্রয়ী ও কার্যকরী কৌশলকে অবহেলা করে চলেছেন। বিশ্বনেতাদের পদক্ষেপের কোথাও প্রকৃতি রক্ষার বিষয়টিকে ঠিকভাবে রাখা হচ্ছে না। গবেষকরা বলছেন, বনাঞ্চল বিনষ্ট করা ও বন্যপ্রাণী শিকারের ফলে প্রাণী ও তাদের বহনকরা জীবাণু ক্রমাগতভাবে মানুষ ও গবাদি পশুর সংস্পর্শে চলে আসছে। নতুন সংক্রামক রোগের প্রায় ৭০ শতাংশ বিভিন্ন প্রাণী থেকে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯, সার্স, বার্ড ফ্লু, ইবোলা, এইচআইভি প্রভৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভেনটিং প্যানডেমিকস অ্যাট দ্যা সোর্সের (পিপিএস) গঠন করা আন্তর্জাতিক গবেষকদের নতুন একটি স্বতন্ত্র টাস্কফোর্স মহামারি মোকাবিলায় উৎস চিহ্নিত করতে কাজ করছেন। এই টাস্ক ফোর্সে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলের বিজ্ঞানীরা রয়েছেন। সংস্থাটির বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহামারির মূল কারণ প্রতিরোধের বিষয়গুলো বিশ্বনেতা ও কর্তৃপক্ষ খুব কমই উল্লেখ করে থাকেন। টাস্কফোর্সের নেতা হার্ভার্ড সেন্টার ফর ক্লাইমেট, হেলথ অ্যান্ড দ্য গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টের গবেষক অ্যারন বার্নস্টেইন বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ পুরো প্রকৃতি থেকে আমাদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্বনেতারা পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে দূরে রয়েছেন। মহামারি প্রতিরোধ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ সম্পর্কে তাঁদের কাছ থেকে কিছু শুনে থাকলেও এর মূল কারণ ঠেকানোর বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে খুব কম কথা শোনা গেছে।’ অ্যারন বার্নস্টেইন আরও বলেছেন, ‘বর্তমানে বিশ্বনেতারা যেসব কথা বলেন, তার বেশির ভাগই স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতি, রক্ষণাবেক্ষণ ও টিকা সংক্রান্ত। কিন্তু এগুলো হচ্ছে রোগ ছড়ানোর পর তা প্রতিরোধের উপায়। কিন্তু আমরা এটা শিখেছি যে, মুক্তির পথ আরও সাশ্রয়ী হতে পারে। মহামারি উৎপত্তির পর তা ব্যবস্থাপনার চেয়ে মহামারির পথ বন্ধ করার ব্যয় খুব সামান্য। আর এসব পদক্ষেপের অধিকাংশই আবার জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংকটের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও কাজে লাগে।’ এমন বিশ্লেষণের আলোকে বলা চলে, মহামারির ক্ষতি থেকে বাঁচতে হলে বনাঞ্চল রক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ বন্যপ্রাণীর ব্যবসা বন্ধ, ফার্মের পশুপাখিকে সংক্রমণ থেকে উন্নত সুরক্ষা, বন্যপ্রাণীর বাজার এলাকায় দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের মতো পদক্ষেপ গ্রহণে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে বিশ্বনেতাদের। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা এবং জাতিসংঘেরও এক্ষেত্রে করণীয় আছে। এখন দেখার বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে কতটা এগিয়ে আসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ