শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদসহ গ্রেপ্তার ৫ জন গোয়েন্দা হেফাজতে

স্টাফ রিপোর্টার : ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণির মামলা দায়েরের পর এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামী ব্যবসায়ী ও ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি) নাসির উদ্দিন মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল সোমবার  রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাকেসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে ঢাকা বোট ক্লাবের কার্য নির্বাহী কমিটি থেকে নাসির ইউ মাহমুদকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে মোট তিনজনের
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, নাসির উদ্দিনকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে মিন্টো রোডের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে মামলার তদন্ত সংস্থা সাভার থানায় হস্তান্তর করা হবে।  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পরীমণির ঘটনায় এখন পর্যন্ত নাসির উদ্দিন মাহমুদ ছাড়াও আরও চার জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, উত্তরার এক নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কের ১৩ নম্বর বাসা থেকে নাসির উদ্দিন মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তিন জন নারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ওই বাসা থেকে কিছু মাদকও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের মধ্যে পরীমণির মামলার এজাহারভুক্ত আসামী অমিও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক একটি মাদক মামলার প্রস্তুতিও চলছে। এর আগে সাভার থানায় নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয় জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করেন ঢাকা চলচিত্রের নায়িকা পরীমণি। গতকাল সোমবার দুপুরে পরীমণি নিজে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
তিন রক্ষিতাসহ লুকিয়ে ছিলেন নাসির: ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরে এই মামলার আরেক আসামী অমির বাসায় তিন রক্ষিতাসহ আত্মগোপনে ছিলেন ব্যবসায়ী নাসির। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে অভিযান চালিয়ে নাসিরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। অভিযান শেষে সাংবাদিক সম্মেলন ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, মামলার ভিত্তিতে সাভার থানা আমাদের কাছে তদন্তের অনুরোধ জানায়। যেহেতু আসামীরা ঢাকা মহানগরে অবস্থান করছে, তাই তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অনুরোধ করে সাভার থানা। আমরা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছি। অভিযানের একপর্যায়ে ডিবি পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে উত্তরা ১ নম্বর রোডে ওই বাসায় ডিজে পার্টি হয়। হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বাসাটায় আমরা অভিযান চালাই। সেখান থেকে সাভার থানায় দায়ের হওয়া মামলার দুই আসামীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আরো তিনজন নারীকে আটক করি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য।’ মাদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে ডিএমপিতে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি। পরীমনি বাংলাদেশের একজন স্বনামখ্যাত নায়িকা। তাকে চলচ্চিত্রের অহংকার বলে অভিহিত করেন গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘পরীমনির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করা গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তদন্ত করে আমরা তাদের গ্রেপ্তার করেছি। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। প্রয়োজনে তাদের রিমান্ডে আনা হবে।’
নাসিরের বিরুদ্ধে পরীমণির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার হারুন আর রশিদ বলেন, ‘আমরা পরীমণির সঙ্গে কথা বলব। আমরা তার অভিযোগও খতিয়ে দেখছি। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সঙ্গে আর কোনো রাঘববোয়াল আছে কি না, যারা রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন উঠতি বয়সী তরুণীদের দিয়ে অসামাজিক কার্যক্রম চালায়, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমাদের কমিশনারের নির্দেশ আছে।’ ঢাকার গুলশান-বানানীতে যেসব উঠতি বয়সী মেয়ে ডিজে পার্টির নামে ক্লাবে গিয়ে অনাচার করে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় বোট ক্লাবে অভিযান চালানো হবে কি না জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার বলেন, সাভার থানার মামলায় পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া মাদক উদ্ধার হয়েছে। মাদক মামলা তদন্তে বোড ক্লাবে অভিযান চালানো হবে। আরও যে আসামী আছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা মদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানান ডিবির যুগ্ম কমিশনার। নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মদের ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ক্লাবে ছোট ছোট মেয়েদের রক্ষিতা রাখেন এবং ক্লাবে সে এই কাজগুলো করে। তাদের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে অনেক অভিযোগ আছে। এখন কেউ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ডিবি।
মামলায় যা বলেছেন পরীমণি: ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও বন্ধু অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ‘নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে এবং আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে।’ মামলায় এক নম্বর আসামী করা হয় উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদকে। দুই নম্বর আসামী পরীমনির বন্ধু অমি। এছাড়া আরও চার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে মামলায় আসামী করা হয়েছে। এজাহারে পরীমনি বলেন, ‘গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দুটি গাড়িতে করে তারা উত্তরার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে অমি বলে বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে। অমির কথামতো তারা সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করায়। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। অমি ক্লাবের ভেতরে গিয়ে বলে এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর তোমরা নামলে নামতে পার।’ এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, ‘তখন আমার ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ও বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করি। টয়লেট থেকে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামী মদ্যপানের জন্য জোর করেন। আমি মদ্যপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামী জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমি সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।’ এজাহারে বলা হয়, ‘এক নম্বর আসামী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন এবং আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি নাসির মাহমুদকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে জখম করেন।’
পরীমণি বলেন, ‘আমি প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন দিতে গেলে আমার ফোনটি টান মেরে ফেলে দেয়া হয়। এ সময় দুই নম্বর আসামীসহ অজ্ঞাতনামা চারজন এক নম্বর আসামীকে ঘটনা ঘটাতে সহযোগিতা করেন। আমি অজ্ঞাতনামা আসামীদের দেখলে শনাক্ত করতে পারব।’ এজাহারে তিনি আরও বলেন, ‘দুই নম্বর আসামী অমি পরিকল্পিতভাবে আমাকে বর্তমান বাসা থেকে ঢাকা বোট ক্লাবে নিয়ে যায়। সে অজ্ঞাতনামা চারজন আসামী ও নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমি আমার সঙ্গীদের সহায়তায় ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পাই। রাত আনুমানিক ৩টায় আমি আমার গাড়িতে প্রায় অচেতন অবস্থায় অপর সঙ্গীদের সহায়তায় বাসায় ফিরে আসি।’ পরীমণি অভিযোগ করেন, ‘আসামীরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।’
কে এই আলোচিত নাসির? : আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামী ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা করা নাসির পেশায় একজন উচ্চপর্যায়ের ঠিকাদার। সরকারের গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি), রাজউক, রেলওয়েসহ সরকারি-বেসরকারি নানা ঠিকাদারি কাজ করেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সাবেক নির্বাহী পরিষদের সদস্য নাসির ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের উত্তরা ক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের সাবেক জেলা চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হল ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নাসির কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তিনি এক সময় ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগেও খেলেছেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। এদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। নাসির উদ্দিন মাহমুদের নামে পরীমণির পোস্টে দেখিনি। পরীমণি তো কারও নাম বলেননি। নাম না বললে আমরা কীভাবে বুঝব?  তনি আরও বলেন, পুলিশের তদন্তে দলের কারও নাম বেরিয়ে এলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার: পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন মাহমুদকে গ্রেফতারের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের বিরুদ্ধে পরীর আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নাসির বলেন, ‘আমি বুধবার (৯ জুন) রাতে যখন ক্লাব (ঢাকা বোট ক্লাব) থেকে বের হই, তখন পরী মণি ও তার বন্ধু মদ্যপ অবস্থায় ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে একটি ছেলে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করছিলেন। ক্লাবে ঢোকার পর আমাদের বারের কাউন্টার থেকে বড় বড় ও দামি ড্রিংকসের বোতল জোর করে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমি বাধা দিই। এক পর্যায়ে আমি আমার নিরাপত্তাকর্মীদের ডাক দিলে তাঁরা পরী মণি ও তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে যান।
যা বলছেন জায়েদ খান: ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি অভিযোগ তুলেছেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে এ প্রসঙ্গে জানালেও সহযোগিতা পাননি তিনি। তবে পরীর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জায়েদ খান। গতকাল দুপুরে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জায়েদ খান জানিয়েছেন, তিনি পরীর পাশে আছেন। পরীর অভিযোগ প্রসঙ্গে শিল্পী সমিতির এই নেতার ভাষ্য, ‘পরীমণি আমার কাছে জানিয়েছে, কোনো বিচার চায়নি। বলেছে, আইজিপি মহাদয়ের সঙ্গে দেখা করিয়ে দাও। তার পরের দিন শুক্র-শনি, আমি বলেছি রোববার সময় চাইব, ওনার চেয়ার তো ছেলেখেলা না। ও আমাকে একা জানিয়ে গেছে। এরপর আমি মিশা ভাইকে জানিয়েছি। একটা মিটিং লাগবে তো,  আমি একা তো শিল্পী সমিতি না।’ জায়েদ খান আরও বলেন, ‘তারপর ওর (পরীমণি) সঙ্গে ১৩ জুন দুপুরে কথা হয়েছে; তুমি টিভিতে দেখো আইজিপি মহোদয় রাজশাহী আছেন। উনি আসলে ডেট নেব; সেই ধৈর্য হয়নি। ও তো আমার কাছে কোনো বিচার চায়নি, আমার কাছে বলেনি আমাকে থানায় নিয়ে চলো বা সাংবাদিক সম্মেলন করো। আমি বলেছি থানায় যাব মামলার জন্য; বলেছে এসব তোমাদের করতে হবে না। তুমি শুধু আইজিপির সঙ্গে দেখা করাও, আমি দুদিন সময় চেয়েছি, ও তো ধৈর্য ধরল না।’ অভিযোগ জানানোর পর পরীকে নিজের বাসায় দিয়ে এসেছেন জানিয়ে জায়েদ খান বলেন, ‘তাহলে আমি তার পাশে থাকলাম না কই। আমি এখনও ওর পাশে আছি।’।
বাসার সামনে পুলিশ মোতায়েন: পরীমণি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, গণমাধ্যমে এমন অভিযোগের পর তার নিরাপত্তা জোরদার করে রাজধানীর বনানীর বাসভবনের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া বলেন, পরীমণি গণমাধ্যমে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। এরপর আমরা তার নিরাপত্তা জোরদার করেছি। আমাদের একটা টহল টিম সেখানে আছে; সদস্য চার জন।
বোট ক্লাব থেকে নাসিরকে বহিষ্কার: ঢাকা বোট ক্লাবের কার্য নির্বাহী কমিটি থেকে নাসির ইউ মাহমুদকে বহিষ্কার করেছে। সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে মোট তিন জনের। ক্লাবটির সচিব অবসরপ্রাপ্ত লে. কমান্ডার মো. তাহিসন আমিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি এবং নাসির ইউ মাহমুদকে কেন্দ্র করে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয় বিবৃতিতে। যাদের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে তারা হলেন-নাসির ইউ মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শাহ এস আলম। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সোমবার বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় নাসিরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির সভাপতি ড. বেনজির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কমিটির আরও আট সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ক্লাবের উপদেষ্টা রুবেল আজিজও সভায় অংশ নেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নাসির ইউ মাহমুদ ক্লাবের নিয়ম না মেনে নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিথিকে ক্লাবের ভিতরে নিয়ে এসেছিলেন। যা ক্লাবের নিয়ম শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
এর আগে রোববার (১৩ জুন) রাতে প্রথমে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে বিচার চান পরীমণি। ফেসবুক পেজে পরীমনি লেখেন, ‘বরাবর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’ ‘এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্র বন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা। যাদের পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনার বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়!’ পরীমণি আরও লেখেন, ‘আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারি না। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কী বলবে এই গিলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মতো (যাদের অনেক নাম এক্ষুণি মনে পড়ে গেল) তাদের মতো আমিও কেবল তাদের দল ভারি করতে চলেছি হয়তো। আফসোস ছাড়া কারোর কি করার থাকবে তখন! আমি তাদের মতো চুপ কি করে থাকতে পারি মা? আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোনো অন্যায় মেনে নিতে!’ ‘আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহূর্ত মাকে খুব দরকার এখন, মনে হয়নি এটা। আজ মনে হচ্ছে, ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার, একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্য দরকার। আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে দরকার মা। মা আমি বাচঁতে চাই। আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ