রবিবার ২০ জুন ২০২১
Online Edition

ডেঞ্জার জোন সিলেটে সহসাই খুলছে না ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো

সিলেট ব্যুরো : গত ২৯ মে দফায় দফায় সিলেটে ভূমিকম্পের পর নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ বিপণীবিতান ও আবাসিক বন্ধ ঘোষণা করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন। ১০ দিন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও ডেঞ্জার জোন সিলেটে সহসাই খুলছেনা ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্ণয়ে একসাথে কাজ করবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (সিইই) ও পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকরা এই কাজ করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে খুঁজে বের করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে এসব ভবন কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ- এ নিয়ে সিসিককে পরামর্শ দেবে শাবি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকালে ও বিকেলে পৃথক দুটি তদন্ত দল ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো পরিদর্শন করেন। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মার্কেট খোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সিসিক।  এর আগে বুধবার বিকেলে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে সিসিকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান দৈনিক সংগ্রামকে জানান, বিশেষজ্ঞ টিমের একটি দল গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ও বিকেলে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট পরিদর্শন করেন। তাদের দেয়া প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেবে সিসিক। শাবির বিশেষজ্ঞ টিম পরিদর্শনের পর তাদের নির্দেশনা পেলে খুলে দেয়া হবে ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে বন্ধ থাকা মার্কেট বা ভবন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ২৯ মে ৬ দফা ও ৩০ মে এক দফা সিলেটে ভূমিকম্প অনুভুত হলে পরবর্তী সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নগরের ৬ টি মার্কেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গত ৩১ মে সোমবার সকাল থেকে ৯ জুন বুধবার পর্যন্ত এ সকল মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মার্কেটগুলো হলো- সিলেট নগরীর মিতালি ম্যানশন, সিটি সুপার মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, রাজা ম্যানশন, সমবায় ভবন ও সুরমা মার্কেট। এই ৬টি ভবন (মার্কেট) আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় ছিল বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া অতিঝুঁকিতে থাকা জিন্দাবাজারের একটি দোকান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর পনিটুলা এলাকায় সামান্য হেলে থাকা ভবনের বাসিন্দাদেরও ১০ দিনের জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু : সিলেট বিভাগে প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সাথে বাড়ছে প্রাণহানী। গত একদিনে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সাথে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৯২ জন। যার মধ্যে ৫৯ জনই সিলেটের। আর একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৬৭ জন। গত বছরের মার্চ থেকে এ বছরের ১০ জুন পর্যন্ত ১৪ মাসে সিলেট বিভাগে করোনায় ৪২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশী মারা গেছেন সিলেট জেলায়। এ জেলায় করোনায় ৩৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জে ৩০ জন, হবিগঞ্জে ১৮ জন ও মৌলভীবাজারের ৩১ জন রয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. সুলতানা রাজিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গেল ২৪ ঘন্টায় সিলেটের চারটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৯২ জন করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ৫৯ জন, সুনামগঞ্জের ২ জন, হবিগঞ্জে ২ জন, মৌলভীবাজারে ১৯ জন ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ১০ জনের করোনা সনাক্ত হয়। নতুন এই ৯২ জনসহ সিলেট বিভাগে করোনা প্রমাণিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩৯৫ জন। এরমধ্যে শুধুমাত্র সিলেট জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৩৯৬ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৮৫১ জন, হবিগঞ্জে ২ হাজার ৫৩৯ জন ও মৌলভীবাজারে ২ হাজার ৬০৯ জনের করোনায় আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬৭ জন। এরমধ্যে ৬০ জন সিলেটের বাসিন্দা। এছাড়া হবিগঞ্জে ১ জন, ও মৌলভীবাজারে আরও ৬ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা দাঁড়ালো ২১ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১৪ হাজার ৭৩৯ জন। 

এছাড়া এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৭৫১ জন, হবিগঞ্জে ২ হাজার ৮১ জন ও মৌলভীবাজারে ২ হাজার ৩৫৩ জন সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী। এরা সবাই সিলেট জেলার বাসিন্দা। সবিমিলিয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩৫ জন। এরমধ্যে সিলেট জেলায় ২১০ জন, সুনামগঞ্জে ১ জন, হবিগঞ্জে ৫ জন, মৌলভীবাজারে আরও ১৯ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট বিভাগে করোনায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১ জন সিলেট ও অন্যজন মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ