শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

ইতিহাস কখনো সরীসৃপের মতো বুকে হাঁটে

এম এ কবীর : পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম সত্য উপকারের কথা মানুষ মনে রাখে না। নিদারুণ বাস্তবতা হলো, কার কাছে আপনার কতদিন অগ্রাধীকার সেটা নির্ভর করে কার জন্য কতদিন কিছু একটা করার সামর্থ্য আছে তার উপর। মানুষকে কেন্দ্র করেই প্রকৃতি-পরিবেশ ও সমাজ গঠন হয়েছে। মানুষ ছাড়া প্রকৃতি টিকে থাকতে পারে, প্রকৃতি ছাড়া মানুষের টিকে থাকা অসম্ভব। আল্লাহ মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। মানুষের কল্যাণ ও জীবন ধারণের প্রয়োজনে পরিবেশে বিদ্যমান সব উপাদান নিয়ামত হিসেবে দান করেছেন। আল্লাহ বলেছেন, ‘জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।’ (সুরা বাকারা : ২৯)
 আল্লাহ প্রদত্ত এসব নিয়ামত এখন ধ্বংসের মুখে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের পরিবেশ চরম হুমকিতে। মানব জীবন বিপর্যয়গ্রস্ত। এ বিপর্যয়ের জন্য প্রকৃতি যতটা না দায়ী, তার চেয়েও বেশি দায়ী মানবসমাজ। মানুষের বিবেকহীন প্রকৃতি বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ক্ষণিক লাভের আশায় অবাধে বৃক্ষ নিধন করে গড়ে তুলছে আবাসন কিংবা শিল্পকারখানা। নির্বিচারে গাছ কেটে উজাড় করছে বন। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। হারিয়ে যাচ্ছে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রকৃতির সৌন্দর্য।
অনেকে মন্দ কাজ করে ভাবে সে ছাড়া বোধ হয় বিষয়টা কেউ জানে না। বোঝে না। বোঝার চেষ্টাও করে না। এটা তার অতি আত্মবিশ্বাস। যেটা ইতিবাচক নয়, নেতিবাচক। আসলে মন্দ লোকের তৃতীয় চোখ থাকে না। একটা অসার মাথা থাকে। সাইকোপ্যাথির মতো মানসিক রোগ থাকে। অগভীর আবেগ, কম ভয়, উদাসীন সহানুভূতি, ঠাণ্ডা মাথায় অন্যায় করা, নিজ দোষ স্বীকার না করা, অহংকার করা, মানুষকে মিথ্যা কথা দিয়ে প্রভাবিত করা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, পরিকল্পনা করে অন্যায় কাজ করা, সুযোগ খোঁজা, মানুষের ক্ষতি করে অনুতপ্ত না হওয়া, মানুষের কষ্ট দেখে উপহাস করা এবং অসামাজিক আচরণ যেমন খারাপ চরিত্রের দিকে ধাবিত হওয়া, স্বার্থপূরণের জন্য নিজের চরিত্র নষ্ট করা, পরের সাফল্যের বা শ্রমের উপর নিজ জীবনধারা বিন্যাস করা এবং ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে অপরাধিত্ব বজায় রাখা-এই সবগুলো নেতিবাচকতা যার মধ্যে থাকে সেইতো সাইকোপ্যাথ।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবকিছু সুবিন্যস্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ইবাদাতের ব্যাপারে ইসলাম যতটা সোচ্চার, ঠিক ততটাই গুরুত্বারোপ করেছে পরিবেশের প্রতিও। মানুষের জন্য কী রকম পরিবেশ উপযোগী এবং কোন পরিবেশে মানুষ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারবে ইসলাম তা সুনিশ্চিত করেছে। পৃথিবীতে প্রাণিকুলের টিকে থাকার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ দরকার, সুস্থ ও সুন্দরভাবে জীবনধারণের জন্যও এর বিকল্প নেই। আমাদের চারপাশের গাছপালা, মাটি, পানি, বায়ু, জীবজন্তু, পশুপাখি, রাস্তাঘাট, নদীনালা, পাহাড়-পর্বত, যানবাহন, বাড়িঘর, কল-কারখানা, এসব পরিবেশের উপাদানগুলো আল্লাহ আমাদের জন্য নিয়ামত হিসেবে দান করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘জমিনকে আমি বিস্তৃত করেছি এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় স্থাপন করেছি। আর তাতে উৎপন্ন করেছি সকল প্রকার বস্তু সুনির্দিষ্ট পরিমাণে। আর তাতে তোমাদের জন্য এবং তোমরা যার রিজিকদাতা নও তাদের জন্য রেখেছি জীবনোপকরণ। আর প্রতিটি বস্তুরই ভান্ডারসমূহ রয়েছে আমার কাছে এবং আমি তা অবতীর্ণ করি কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণে। আর আমি বায়ুকে উর্বরকারীরূপে প্রেরণ করি অতঃপর আসমান থেকে বৃষ্টিবর্ষণ করি এবং তা তোমাদের পান করাই। তবে তোমরা তার সংরক্ষণকারী নও।’ (সুরা হিজর : ১৯-২২) কালি ফুরিয়ে গেলে কলমটা আবর্জনার ঝুড়িতে জমা হয়। বাসি হয়ে গেলে প্রিয়জনের দেয়া ফুলটাও পরদিন ডাস্টবিনে পাওয়া যায়। কতটা বড় মানুষ? যতটা মানুষ ভাবে ততটা নয়। মানুষ যখন বিশাল আকাশের দিকে তাকায়, তখন মানুষ কতটা ছোট তা সে বুঝতে পারে। মানুষ যখন মহাসমুদ্রের সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন উত্তাল নীল ঢেউ মানুষের কানে কানে যেন বলে যায় ‘যতটা বড় তুমি তোমাকে ভাবছো তুমি ততটাই ছোট।’
সকালে যে পত্রিকার দাম দশ টাকা, একদিন পর সেই একই পত্রিকার এক কেজির দাম দশ টাকা।  বছরের শুরুতে ক্লাসের পাঠ্য হিসেবে যে বইগুলো গুরুত্ব দিয়ে কেনা হয়, বছর শেষে সেই বইগুলোই কেজি মাপে বিক্রি করা হয়। আবার বৃষ্টি থেমে গেলে ছাতাটাকেও বোঝা মনে হয়। সমগ্র পৃথিবীর সাথে মানুষের তুলনা কখনো কি করা যায়? যায় না। প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্তের আঘাতের চেয়ে মানুষের প্রতিঘাত কখনো কি বড় হয়ে উঠতে পারে? হয়তোবা পারে। হয়তো পারে না। সময়ের চেয়ে মানুষ কখনো বড় হয় না। তারপরও শক্তি দিয়ে মানুষ সময়কে কেনার বৃথা চেষ্টা করে। ঠকে যায়, ধস নামে। মাটিতে গড়াগড়ি খায়। কেউ মানুক আর না মানুক, বড়র থেকে বড়, তার থেকেও বড় থাকে। এ যেন অসীম ধারণার যুক্তিতে বুলেটবিদ্ধ কবির কবিতার মতো। যে কবি প্রতিনিয়ত বড় থেকে বড় স্বপ্নের সাথে লড়ে যায়। থমকে দাঁড়ায়। নত হয়, ক্ষয়ে ক্ষয়ে রিক্ত হয়, আবার নিজেকে ভাঙতে ভাঙতে একসময় বিস্মিত চোখে কিংবদন্তি মহানায়কের মতো উঠে দাঁড়ায়। মানুষ নিজেকে যত ছোট ভাববে, ততই মানুষ বড় হয়ে উঠে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। এটাই গতানুগতিক ধারা। ঝাপসা চোখে আলোকিত চিঠির শব্দের মায়াবী জাদু। কারো জন্য কিছু করে থাকলে সেটা চিরতরে ভুলে যান। সেটা যতদিন মনে রাখবেন ততদিন সেটা আপনাকে অহংকারী করে তুলবে। একজন মানুষ কতটা শক্তিশালী, কতটা বড়। যে মানুষ জানে না তার মৃত্যু কখন হবে। কখন দেহটা মাটিতে মিশে হারিয়ে যাবে। সব কিছু অনিশ্চিত। গন্তব্যহীন। যেখানে সুর নেই, তাল নেই, আছে অচেনাকে চেনার মতো করে নিজেকে চেনার নিস্তব্ধতার গান। মানুষ যখন মানুষ হয়ে উঠবে, ছোট করে নিজেকে আবিষ্কার করবে তখন সব বড়র বড়রা মানুষের কাছে ছোট হয়ে ধরা দেবে। অহংকার নয়, হিংসা নয়, বড়ত্ব নয়, প্রতিহিংসা নয়, বিশুদ্ধ ও উদার মনের বড়ত্বে মানুষ বড় হয়ে উঠুক। ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে মানুষ বড় হয়ে উঠুক। দুঃখকে জয় করে মানুষ বড় হয়ে উঠুক। চিন্তার শক্তিতে মানুষ বড়র থেকে আরো বড় হয়ে উঠুক। মানুষ ‘মানুষ’ হয়ে উঠুক। কুপির নিভু নিভু আলোর সাথে আলিঙ্গন করে মানুষ নিজেকে নিজের মতো করে চিনুক। তবেই না আমরা মানুষ। ছোট কিংবা বড়। সময় ফুরিয়ে গেলে মূল্য কমতে থাকে সবার, সবকিছুর। মানুষ আপাদমস্তক স্বার্থপর প্রাণী। ভিখারিকে দুই টাকা দেয়ার আগেও চিন্তা করে কতটুকু পুণ্য অর্জন হবে। বিনাস্বার্থে কেউ ভিক্ষুককে ভিক্ষাও দেয় না। কেউ কেউ ভবিষ্যতকে দেখতে পায়। এটা মানুষের কপালের ঠিক নিচে থাকা দৃশ্যমান চোখের দেখা নয়। বরং মানুষের অদৃশ্য চোখের দেখা। আমরা তৃতীয় নয়নের কথা বলি। হয়তো সেটাই এটা। এটা কোনো রূপকথা নয়, উপকথা নয়, হাইপোথিসিস নয়। এটা বাস্তবতা নয়, কল্পনাও নয়। এটা এমন এক শক্তি যা মানুষের ভেতরকে বাইরে এনে অদেখাকে দেখার জীবনবোধ তৈরী করে। অন্যকে বোঝার মতো শক্তি সবার থাকে না। কারো কারো থাকে। এই যে প্রকৃতি, সেটিকে দেখার মতো কজনইবা মানুষ আছে। হয়তো কেউ কেউ আছে। একটা কথা এখন বেশ প্রচলিত, ‘সবাই মানুষ নয়, কেউ কেউ মানুষ।’
 প্রত্যেক জীবের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন সুস্থ ও মনোরম পরিবেশ। অনুকূল পরিবেশ ছাড়া কোনো জীবের অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়।  সংরক্ষণ করা এবং এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভরযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে বৃক্ষ নিধন নয়, পরিবেশের পরিচর্যা করা দরকার। রাসুল (সা.) প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পরিবেশ সংরক্ষণে রাষ্ট্র ও সমাজ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সামর্থ্য হলে বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের হার কমে আসে।
রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ একটু ভিন্নভাবে বলেন, চোখ কেড়েছে চোখ, উড়িয়ে দিলাম ঝরা পাতার শোক। কথাগুলো দর্শনশাস্ত্র ও মনস্তত্ব মিলিয়ে দেখবে। সেই বিচারে কোনো একটা অর্থবোধক ফলাফল হয়তো থাকতেও পারে, আবার নাও পারে। কারণ মানুষ যা চিন্তা করে তা আবার অন্য চিন্তা দ্বারা পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটা অব্যাহত থাকবে যতদিন পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকবে। মানুষ ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে। এই দেখাটা কখনো মানুষ মনে রাখতে পারে, কখনো পারে না।
একটা কিছু বলার জন্য/আমি যখন তৈরি,/তুমি বললে, এখনি নয়/আবহাওয়াটা বৈরি।
/বাতাসের এই উল্টো গতি/দেখে প্রহর গুণি,/তারার ভীড়ে হারিয়ে গিয়ে/শীতল শব্দ শুনি।/তারপরও সম্ভাবনার /দ্বারটা খুলে থাকি,/আশঙ্কাকে দূরে ঠেলে/নতুন স্বপ্ন আঁকি।
কেউ যদি আপনার জন্য খুব ছোট কিছুও করে, সেটা আজীবন মনে রাখবেন। এটা আপনাকে বিনয়ী ও কৃতজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ভালো মানুষ হিসেবে বাঁচিয়ে রাখবে। মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে তখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে। মানুষের প্রচলিত চোখ দুটো বন্ধ থাকে। তারপরও মানুষ স্বপ্ন দেখে। তার মানে স্বপ্ন দেখাটা চোখের উপর নির্ভরশীল নয়। যে স্বপ্নগুলো তৃতীয় চোখ দিয়ে মানুষ দেখে, সেটা মানুষকে স্বপ্নের লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে নেয়। এটা এমন এক চোখ যা মানুষের ভেতরে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে।
তাহলে এটা কি চিন্তার চোখ? সেটা হবার সম্ভাবনা হয়তো একটু বেশি। কারণ চিন্তা থেকেই মানুষের কল্পনাশক্তি জাগ্রত হয়। তারপরও তৃতীয় নয়ন আর চিন্তার মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য হয়তো আছে। যেটা বুঝতে হলে নিজেকে চিন্তাশক্তির বাইরের কোনো এক পৃথিবীতে নিয়ে যেতে হয়। এটা সবাই পারেনা। কেউ কেউ পারে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বনজ সম্পদের গুরুত্ব সবকিছুর ঊর্ধ্বে। একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় মোট আয়তনের তুলনায় বনভূমির পরিমাণ শতকরা ২৫ শতাংশ হওয়া অপরিহার্য। সরকারি হিসাব মতে বর্তমানে দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১৭.৬২ শতাংশ। বনজ সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে একটি আইন প্রণয়ন করা হয়, যা ‘বন আইন-১৯২৭’ নামে পরিচিত। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকার এ আইনের বিভিন্ন সংশোধনী আনে। এ আইনের মাধ্যমে বনজ সম্পদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। যেমন, অনুমতি ব্যতীত বনাঞ্চলে প্রবেশ করা, বনভূমি থেকে গাছপালা ও অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ করা, বনভূমিতে বসতভিটা তৈরি করা ও চাষাবাদ করে বনাঞ্চলের ক্ষতিসাধন করা, বৃক্ষ নিধন, অপসারণ ও পরিবহন, বনাঞ্চলে গবাদিপশু চরানো, বনে শিকার অথবা শিকারের উদ্দেশ্যে ফাঁদ পাতা, বনে আগুন জ্বালানো, আগুন রাখা বা বহন করা, জলাশয়ের পানি বিষাক্ত করা অথবা বন কর্মকর্তা বা রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত ব্যক্তির কাজে বাধা প্রদান করা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়। এগুলোর বেশিরভাগ আইনের লঙ্ঘনই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বন আইন ভঙ্গের জন্য ন্যূনতম ছয় মাসের জেলসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেলসহ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
আমরা যে দুটো চোখ দিয়ে দেখি তা কি আমাদের মধ্যে দেখার গভীরতা তৈরী করতে পারে? কতটা পারে, কতটা পারে না, তা অনেকটাই আপেক্ষিক। বরং যে চোখ দিয়ে মানুষ দেখার অহংকার করে, সে চোখ হয়তো অন্ধ। মানুষ হয়তো ভেবে নিয়েছে চোখ তাকে দেখায়। কিংবা ঘটনাটা একদম উল্টো। হয়তো চোখ মানুষকে দেখে। যা বোঝার ক্ষমতা মানুষ রাখেনা। রবীন্দ্রনাথ তার জীবনবোধের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, চোখ কতটুকুই দেখে, কান কতটুকুই শোনে, স্পর্শ কতটুকুই বোধ করে। কিন্তু মন এই আপন ক্ষুদ্রতাকে কেবলই ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
পশ্চিম জার্মানির মারবার্গ বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জেনার হেবার ওনার এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব ইতোমধ্যে শতকরা ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সেকারণে এন্টার্কটিকার ফাইটোপ্লাঙ্কটন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিকর এ প্রভাব এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে দক্ষিণ গোলার্ধের সকল প্রাণী নিঃশেষ হয়ে যাবে। সেখানে আর কোনোদিন প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। জাপানি পরিবেশীয় এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া চলতে থাকলে পৃথিবীর উষ্ণতা ১.৫০ সেলসিয়াস থেকে ৩.৫০ সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাবে। যার ফলে বরফ ও হিমবাহ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা দেড় মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা ইতোমধ্যে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আভাস দিয়েছেন।
এতে পৃথিবীর জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সার্কভুক্ত দেশসমূহ- বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপসহ পৃথিবীর সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশসমূহের বিরাট জনপদ ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছে। যাদের হয়তো আমরা চিনি, মুখের মুখোশটা ভদ্রতার খাতিরে টেনে বের করে আনিনা। তবে তৃতীয় নয়ন বলে এসব অসুখে পড়া মানুষদের চিকিৎসা দরকার। সেটা করতেও যে সাইকোপ্যাথরা চায়না। কারণ এখন অনেক অনেক সুস্থ মানুষ অন্যায় করতে সাইকোপ্যাথ সাজে। সাজার ভান করে। তবে টেলিপ্যাথি তা ধরে ফেলে। যেখানে একজনের সুপ্ত চিন্তা আরেকজনের মস্তিষ্কে ধরা পড়বে। মস্তিষ্কের সঙ্গে মস্তিষ্কের এ যোগাযোগ টেলিপ্যাথি নামে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকেরা বলছেন, কারও মনের কথা পড়ার বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মতভাবে সত্য হতে পারে। এমন এক পদ্ধতি তারা বের করেছেন যাতে দুই মস্তিষ্কের ভেতর চিন্তাভাবনা বিনিময় করা যাবে। এ পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ব্রেইন নেট। কেবল দুই মস্তিষ্কের চিন্তার বিনিময় নয়। পৃথিবীর প্রতিটি বিষয়কে আগে থেকে জানা ও বোঝা সেটাও টেলিপ্যাথির অংশ হতে পারে।
এমন অনেক অমীমাংসিত রহস্য পৃথিবীতে টিকে আছে, হয়তো সেটা তৃতীয় নয়নেরই জাদুকরী শক্তি। সেটা যেন হয় মানবিক মূল্যবোধের অংশ। জীবন দিয়ে জীবনকে বোঝার মর্মকথা। সব আবর্জনা আস্তাকুড়ে পড়ে থাকুক, নতুন নতুন ইতিবাচক চেতনা হোক বিকশিত। প্রতিটি মানুষের তৃতীয় নয়ন জেগে উঠুক সূর্যের আলোর মতো। সে আলোর তীব্রতায় পুড়ে যাক অন্ধকার। দগ্ধ হোক পুরাতন ধ্যান ধারণা। মানুষ নিজের চোখের আলোর শক্তিতে মানুষ হয়ে উঠুক। তবেই না মানব জন্মের সার্থকতা। ইতিহাস কখনো সরীসৃপের মতো বুকে হাঁটে। তখন পরিবর্তনের জন্য শতাব্দী লেগে যায়। কখনো ঝড়ো হাওয়ায় ইতিহাসের উইন্ডমিল এত দ্রুত ঘোরে যে শতাব্দীর অপেক্ষা এক দশকে শেষ হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ