সোমবার ২৬ জুলাই ২০২১
Online Edition

দুর্নীতি আর অর্থপাচারের লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়

সংসদ রিপোর্টার: দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আলী আশরাফ বলেছেন, বড় বড় চোরদের দুর্নীতি, অর্থপাচারের মতো কার্যক্রমে ঘৃণায়, লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়। এগুলোর বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা না বাড়ালে, দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না।
গতকাল রোববার সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী আশরাফ বলেন, ‘আমরা বাজেট তো দিচ্ছি। কিন্তু বাস্তবায়নের জন্য সদিচ্ছা থাকতে হবে। দুর্নীতি ও অর্থপাচার...কিছু কিছু লোক...জীবনের কোনও মায়া নিয়ে আমরা যুদ্ধ করিনি। কিছু পাবার, খাবার বা প্রত্যাশার জন্য যুদ্ধ করিনি। লড়াই করেছিলাম বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। সেই দেশে আজকে ঘৃণা, লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়। এত বড় বড় কিছু চোর, যাদের নাম ওঠে। বাজেট সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে কর প্রশসানের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন সরকারি এই সংসদ সদস্য।
তিনি বলেন, কর প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে। আমাদের মুহিত সাহেব যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, ২০১০ সালে তিনি বলেছিলেন উপজেলা পর্যায়ে  ২৫ লাখ লোক কর দেয়। এটা গৌরবের কথা। ট্যাক্সের নেট আরও বাড়াতে হবে। দক্ষতা বাড়াতে হবে। কর প্রশাসনের সামর্থ আছে। কর প্রশাসনের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা যদি আমরা না বাড়াতে পারি, তাহলে বাজেটের ইপ্সিত লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারবো না।
মহামারি মোকাবিলায় সরবকার ও প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কোভিডের তৃতীয় ঢেউ যদি আসে, আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন। কোভিড-১৯ এর প্রথম ধাপ, দ্বিতীয় ধাপ, এখন তৃতীয় ধাপ উঁকি দিচ্ছে। এর মধ্যে এই জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করা হয়েছে।
আলী আশরাফ বলেন, সব কর্মকাণ্ডে বিশ্বে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কোভিড পরিস্থিতিতে যে বিপর্যয়ের কথা ছিল, তার (প্রধানমন্ত্রী) নেতৃত্বে আমরা মোকাবিলা করেছি। এটা চাট্টিখানি কথা নয়। এটা নিশ্চয়ই সফলতা। সারা পৃথিবী বাংলাদেশে গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করছে। তৃণমূলে প্রণোদনা পৌঁছেছে। মানুষ আজ উদ্বেলিত। সততা থাকলে এটা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সেই সততা আছে।
সরকারি দলের আরেক সদস্য মহিউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, কোভিডের কারণে আয় কমেছে। যে কারণে মূল বাজেটের চেয়ে সম্পূরক বাজেট কমে গেছে। তিনি মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানো, সামাজিক নিরাপত্তা খাত আরও সম্প্রসারিত করা, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আরও  পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব করেন।
তিনি বলেন, সরকার স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। দেশে ব্যাংক ও আর্থিক ব্যবস্থা বেশ প্রসারিত হয়েছে। এই ব্যাংক ও আর্থিক ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। এজন্য একটি ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি। একইভাবে কর কমিশন করাও পরামর্শ দেন এই সংসদ সদস্য।
সরকার দলের আবুল হাসান মাহমুদ আলী বাজেটের সমালোচনাকারীদের জবাবে বলেন, এই অর্থবছরে সিপিডি-বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়ার কারণ অন্য। মেগা প্রজেক্টগুলো শেষ হয়ে এসেছে। তা দেখে তারা আবোল-তাবোল বকছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ