সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

‘সিনোফার্মের সঙ্গে টিকার চুক্তিই হয়নি’

স্টাফ রিপোর্টার: চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের টিকার দাম প্রকাশ নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা চললেও ঢাকায় দেশটির দূতাবাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টিকার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও সিনোফার্মের মধ্যে কোনো চুক্তিই হয়নি। চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান গতকাল শনিবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ কথা জানান। এদিকে চীনের ডেপুটি চিফ অব মিশন গতকাল শনিবার আরও একটি ফেসবুক পোস্টে জানান, ১৩ জুনের মধ্যে বাংলাদেশে আসবে চীনের উপহারের আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা।
গত ২৭ মে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চীন থেকে সিনোফার্মের করোনা টিকার দেড় কোটি ডোজ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন হয়। সরকার এ টিকার প্রতি ডোজ ১০ ডলারে কিনতে যাচ্ছে বলে বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান। পরে এ দাম জানানো নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। বলা হয়, টিকা নেয়ার চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে এর দাম প্রকাশ করে দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা চীনা রাষ্ট্রদূতের কাছে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছি। তবে এ ঘটনায় আমাদের অবস্থান খানিকটা খারাপ হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার আর ওই দামে টিকা কিনতে পারবে না।
এত সব আলোচনাকে অসত্য আখ্যা দিয়ে হুয়ালং ইয়ান তার পোস্টে বলেন, গণমাধ্যমে যা প্রকাশ পাচ্ছে তা যদি সঠিক হয়; বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কেন মিথ্যা তথ্য দেয়া হচ্ছে, অবাক লাগছে। প্রথমত, বাংলাদেশ ও সিনোফার্মের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি। দ্বিতীয়ত, এটি বাংলাদেশ ও সিনোফার্মের মধ্যকার একটি বাণিজ্যিক ক্রয় সংক্রান্ত সমঝোতা, চীন সরকারের সঙ্গে কিছু নয়। আন্তরিকভাবে আশা করি যে, আগের (নির্ধারিত) তারিখেই প্রয়োজনীয় টিকা পেয়ে যাবেন আমাদের বাংলাদেশি ভাই-বোনরা। অবশ্য গত শনিবারই ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান জানান, দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশকে আরও ছয় লাখ টিকা উপহার দিচ্ছে চীন। আগামী ১৩ জুন উপহারের এ টিকা ঢাকায় পৌঁছবে। এর আগে গত ১২ মে চীন বাংলাদেশকে সিনোফার্মের পাঁচ লাখ ডোজ টিকা উপহার দেয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতায় টিকা আমদানিতে বারবার হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশ। এদিকে চীনের উপরাষ্ট্রদূত আরও জানান, আগামী ১৩ জুনের মধ্যে দেশে আসছে উপহারের ৬ লাখ ডোজ টিকা। করোনা সংকট মোকাবিলায় চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের সঙ্গে টিকা আনার আলোচনা শুরু হয় বেশ কয়েক মাস আগে। বাংলাদেশ-চীনের টিকা কূটনীতির প্রক্রিয়ার মাঝেই বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং দাবি করেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারা ও সময়ক্ষেপণের কারণে টিকা কিনতে দেরি হয়েছে বাংলাদেশের। সঙ্গে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোট-কোয়াডে যোগ দেয়া নিয়ে তার মন্তব্যের কূটনীতির ভাষায় জবাব দিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। এরপরে টিকা নেয়ার প্রক্রিয়ায় আলোচনায় আসে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি। যার জন্য চীনা ভাষায় লেখার জায়গায় সই করে ফেলা একধরনের চাহিদাপত্র দিয়ে পরে তা কমানোসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক নানা দুর্বলতার কথাও উঠে আসে জনসম্মুখে। অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি শর্ত লঙ্ঘন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহিদা আক্তার সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে জানিয়ে দেন ডোজপ্রতি ১০ মার্কিন ডলারে বাংলাদেশকে দেড় কোটি করোনা টিকা দেয়ার চুক্তি করেছে চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রুপ- সিনোফার্ম। এতে চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় ক্ষোভ। পরে চীনের কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে হয় বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একেএম আবদুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, চীন বাংলাদেশকে জানিয়েছে বিষয়টি। আর আমরা বলেছি, ভবিষ্যতে এ রকম আর হবে না। তবে সর্বশেষ বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের ডেপুটি চিফ অব মিশন হুয়ালং ইয়ান নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া পোস্টে জানান, চীন সরকার তো দূরের কথা, সিনোফার্মের সঙ্গেই এখনো টিকা কেনার কোনো চুক্তি হয়নি বাংলাদেশের। এ অবস্থায় আবারও টিকা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আর এ পরিস্থিতির জন্য কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রিদওয়ানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা যত কথা বলছি সেই কাজ করছি না কিন্তু, এটাই হচ্ছে সারমর্ম। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এগুলো তাদের সঙ্গে অর্থবহ চুক্তি করা উচিত। আর চুক্তিবদ্ধ হওয়া উচিত, যেটা আজকে দিতে পারছে না এক মাস বা দু’মাস পর যেন দিতে পারে এমনটা চুক্তিবদ্ধ হওয়া উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ