শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

দেশের কথা ॥ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

আমরা ক্যাম্পাসে ফিরতে চাই
করোনা ভাইরাসের দরুন নাগরিক জীবনে জন্ম দিয়েছে দুর্ভোগের। যার ফলে মানুষ চাইলেও অনেক কিছু করতে পারছে না। পারছে না মুক্তভাবে চলা-ফেরা করতে। মন ভরে নিশ্বাস নিতে গেলেই যেন কোত্থেকে এক অদৃশ্য হাত বাধা প্রধান করে। করোনাকালে দেশের মানুষ কখনো সম্পূর্ণ বা কখনো আংশিক লকডাউনে দিন কাটাচ্ছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব প্রতিষ্ঠান খোলা হলেও গত বছরের মার্চ থেকে একটানা বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ পরিস্থিতিতে দেশের ছাত্রছাত্রীরা হতাশার মধ্যে জীবন যাপন করছে।
ইউনিসেফের তথ্যমতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ, যেখানে প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে হুমকির সম্মুখীন এদেশের ছাত্রসমাজ। তারা তাদের মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। এ কঠিন সময়ে তাদের গ্রাস করেছে সেশনজট নামক কালো থাবা। এ দেড় বছরে কোনো পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
প্রতিদিন যাদের পদভারে মুখরিত হতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যাদের পদচারণায় মুখরিত হতো বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ- তারা দীর্ঘকাল ধরে আসেনা তাদের প্রাণের ক্যাম্পাসে। দীর্ঘকাল বিদ্যালয়ের আঙিনায় নেই কোনো কোলাহল।
গত বছরের মার্চ থেকেই এমন পরিবেশ বিরাজ করছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা। স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে তাদের মাঝে প্রবল হচ্ছে বইবিমুখী স্বভাব। করোনাকালে তারা রুটিনবাঁধা নিয়মে অনভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের মাঝে আর জাগছে না পড়াশুনার প্রতি স্পৃহা। তারা নিজের এ্যাকাডেমিক পড়াশুনার প্রতি হয়ে পড়েছে উদাসীন। এখন অভিবাবকদের মাঝেও দেখা দিয়েছে উদাসীনতা। তারা তাদের সন্তানদেরকে এখন আর আগের মতো তাকিদ দেন না। দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা পরিবর্তন।
এরকম চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনে অনভ্যস্ত হয়ে পড়বে বলে শংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে বলেও শংকা প্রকাশ করছেন তারা। শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে রয়েছে। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আচরণগত নানা পরিবর্তন।
তারা অনভ্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবন যাপনে। এর ফলে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরলে তাদের তখনকার পরিবেশের সাথে খাপ খেতে তাদের বেগ পেতে হবে বলে মনে করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সিলের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ইসরাত শারমিন রহমান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হৃদয়ে দানা বেঁধেছে হতাশা। তারা হারিয়ে ফেলেছে তাদের মানসিক শক্তি। তাই, প্রজন্মস্বার্থে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিন। প্রত্যেক শিক্ষার্থী একযোগে বলে উঠুক - আমরা ক্যাম্পাসে ফিরতে চাই।
-হাসনাত জাহান সিফাত, গ্রাম: ছোট বেরলা পো: ঢালুয়া, থানা: নাঙ্গলকোট, জেলা: কুমিল্লা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ