শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

আসিয়ানের ওপর আস্থা হারিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা বিরোধীরা

৫ জুন, রয়টার্স : মিয়ানমারের সংকট সমাধানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের ওপর আর আস্থা নেই বলে জানিয়েছে জান্তা সরকারের বিরোধীরা। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিং অং হ্লায়িংয়ের সঙ্গে শুক্রবার আসিয়ানের দুই দূতের সাক্ষাতের মধ্যে জান্তা-বিরোধীরা এই অনাস্থা প্রকাশ করল। মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সূচি’র সরকার উৎখাতের পর বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত দেশটিকে সংকট থেকে বের করে আনতে মূলত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে আসিয়ান। কিন্তু মিয়ানমারে জান্তাবিরোধীদের গড়ে তোলা জাতীয় ঐক্য সরকারের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোয়ে জ ও বলেছেন, আসিয়ানের চেষ্টায় তাদের খুব একটা আস্থা নেই। ‘আমাদের সব আশাই শেষ হয়ে গেছে। আমি করি না আসিয়ানের এমন কোনও পাকাপোক্ত পরিকল্পনা আছে, যার কারণে তাদের ওপর আস্থা রাখা যায়’, বলেন তিনি। মিয়ানমারজুড়ে ইন্টারনেট বিভ্রাটের কারণে তার এই সংবাদ সম্মেলন সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটে। মিয়ামনারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর করণীয় কী তা নিয়ে আসিয়ানের দেশগুলোর মতবিরোধের মধ্যেই শুক্রবার মিয়ানমার সফরে যান এই জোটের চেয়ারপারসন ও মহাসচিব। জান্তা নেতা হ্লায়িংয়ের সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের খবর জানিয়েছে মিয়ানারের সেনাবাহিনী-পরিচালিত একটি টিভি। খবরে বলা হয়, বৈঠকে মানবিক ত্রাণকাজে মিয়ানমারের সহযোগিতার বিষয়টিসহ দেশে স্থিতিশীলতা আসলে নির্বাচন করা এবং গতবছরের নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দুই বছরের মধ্যে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আসিয়ান নেতারা এর আগে সর্বসম্মতভাবে মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধের জন্য ৫ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে আছে সহিংসতা বন্ধ করা, আলোচনা শুরু করা, ত্রাণ সরবরাহ, বিশেষ দূত নিয়োগ, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য মিয়ানমারে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো। প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার ৫ সপ্তাহেরও বেশি সময় পর দুই আসিয়ান নেতা এ সপ্তাহে মিয়ানমার সফরের পরিকল্পনা করেন। তবে আসিয়ানের পক্ষ থেকে এখনও এই সফরের বিষয়ে কোনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাছাড়া, সফরকালে আসিয়ানের দুই শীর্ষ নেতা সামরিক জান্তার বিরোধী পক্ষ ও অন্যান্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কিনা তাও তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার জানা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ