রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১
Online Edition

যাদুর কলম 

আশরাফ আলী চারু : মাসুম, সুমন, হারান, অভিজিৎরা খেলাধুলা করার জন্য প্রতিদিনই  পাকুড়তলায় আসে। আজ মাসুম একটু আগেভাগে চলে এসেছে। পড়ালেখায় ভালো করতে পারছে না বলে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে খেলোয়াড় হবে। এই কারণেই সে আজ তাড়াতাড়ি চলে এসেছে। হঠাৎ সে দেখতে পেলো কে যেন ঘোড়া হাঁকিয়ে এদিকে আসছে।

দেখতে দেখতে ঘোড়া এসে দাঁড়ালো পাকুড়তলায়। হাসতে হাসতে ঘোড়ার পিঠ থেকে নামলো এক ঘোড়সওয়ার। আহা! কি চমৎকার চেহারা। যেমন সুন্দর তার গায়ের রঙ, তেমন সুন্দর পোশাক। মাসুম হা হয়ে দেখতে লাগল। 

মাসুমের এমন অবস্থা দেখে ঘোড়সওয়ারই প্রথমে বললো- খুব গরম পড়েছে তাই না মাসুম? 

- হ্যাঁ তাই। আপনি আমার নাম জানেন? আমিতো আপনাকে চিনতে পারছি না! 

- কি করে চিনবে, তবে শুধু তোমাকে নয়, তোমাদের সবাইকে চিনি আমি, এই ধরো সুমন, সবুজ, হারান, অভিজিৎ, মোস্তাফিজ, মনি সবাইকে। 

-আপনি থাকেন কোথায়?

- কেন এই গাছে। 

- গাছে কি কোনো মানুষ থাকে? এই বলে হেসে উঠে মাসুম। 

- তুমি বিশ্বাস করছো না! আসলেই আমি এই গাছে থাকি। আমি মানুষ নই। যখন যেমন মন চায় রূপ ধারণ করে বেড়াই, ঘুরি ফিরি, ফূর্তি করি। 

- তবে কি আপনি ভূ ও ও ত? ভূ ও ও ও ত বলে চেঁচাতে যাবে এমন সময় ঘোড়সওয়ার বললো- আহহা, ভয় পাচ্ছ কেন মাসুম। ভূতেরা তো মানুষের ক্ষতি করে। আমি তো কারুর ক্ষতি করি না, তাহলে আমি ভূত হতে যাব কেন? আচ্ছা মাসুম বলতো, বিকেল হতে তো এখনো অনেক দেরি এত আগে এসেছ কেন? বিকেলে না হয় ওদের সাথে আবার এসো। এই সময়টা আমার ঘুমের সময়। তোমাকে বসিয়ে রেখে আমি কেমনে ঘুমাই বলো? যাও চলে যাও। 

এসব সুন্দর কথা শুনে মুহূর্তেই মাসুমের ভূতভীতি কেটে গেলো – ঠিক আছে, বলে নত দৃষ্টিতে বাড়ির দিকে পথ ধরলো। 

এবার মৃদুস্বরে ডাক দিয়ে ঘোড়সওয়ার জানতে চাইলো - মাসুম, আমার কথা কাউকে বলবে?

-না, বলব না।

 -তবে তোমার জন্য এই উপহার। বলে একটা কলম দিল মাসুমকে। 

মাসুম কলমটা নিতে চাইছিল না। কিন্তু ঘোড়সওয়ারের চাপাচাপিতে নিতে বাধ্য হলো সে। 

যাওয়ার সময় কলমের ব্যবহারও শিখিয়ে দিলো ঘোড়সওয়ার। 

রাতে পড়ার টেবিলে বসলো মাসুম। ক্লাসের পড়া শেষ করতে মনোযোগ দিলো। 

বাংলাটা কোনোমত শেষ করলো সে। ইংরেজি পড়তে গিয়ে বরাবরের মতো থেমে গেল। একেতো বিদেশি ভাষা তার উপর এই বিষয়ে সে ভীষণ কাঁচা। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। পড়া না শিখলে ইংরেজি স্যার কেমন শাস্তি দিবেন তা কে জানে? এমন সময় ঘোড়সওয়ারের দেয়া কলমের কথা মনে পড়লো তার। কলমটা বের করে স্যারের দেয়া পড়াটা কয়েকবার পড়ে মুখস্থ লেখার চেষ্টা করলোÑ কি আশ্চর্য সব লিখতে পারছে সে। ইংরেজি রুপানজেল গল্প কয়েকবার পড়ে মুখস্থ লিখতে চাইলো আর ওমনি গজগজ করে লেখা হয়ে গেল। উৎপাদক অংকে সবচেয়ে কাঁচা সেটাও কয়েক বার চেষ্টা করেই করে ফেললো। সে বুঝতে পারলো এটা যেই সেই কলম নয় এটা যাদুর কলম। 

যাদুর কলমের পরশে- পড়ালেখায় মনোযোগী হয়ে ক্লাসের সবচেয়ে সেরা ছাত্র হয়ে উঠলো এক সময়ের দুর্বল ছাত্র মাসুম। ক্লাসে শুধু নয়, বার্ষিক পরীক্ষায় সবার চাইতে বেশি নম্বর পেয়ে পরের ক্লাসে উত্তীর্ণ হলো সে। 

পরীক্ষার ফলাফল পেয়ে মাসুম খুব খুশি হলো। খবরটা ঘোড়সওয়ারকে জানানো দরকার ভেবে কলমে ঘষা দিল সে। আর ওমনি হাসিমুখে হাজির হলো ঘোড়সওয়ার। যাদুর কলমের কারিশমার জন্য কৃতজ্ঞতা জানালো মাসুম। ঘোড়সওয়ার জানালো- এ কৃতিত্ব শুধু কলমের নয় মাসুম, তোমার মনেরও। তুমি একসময় ভয় পেয়ে যে পড়াগুলোতে মনোযোগ দিতে পারনি এই কলমটা উপলক্ষ হয়ে সেই পড়াতে তোমাকে মনোযোগী করে তুলতে পেরেছে, তোমার ভীতি কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে বলে তুমি ভালো করতে পেরেছ। আমার বিশ্বাস তোমার মাঝে যে অভ্যাস গড়ে উঠেছে তা যদি তুমি ধরে রাখতে পারো তবে তোমাকে আর পিছনে ফেলতে পারবে না কেউ। আমার আশির্বাদ রইলো তুমি এই ভালো ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখো। এই বলে শুভকামনা জানিয়ে ঘোড়সওয়ার অদৃশ্য হয়ে গেল। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ